• 19 Feb, 2026

বিচারের আগে আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না : মঞ্জু

বিচারের আগে আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না : মঞ্জু

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত জনগণের ম্যান্ডেট ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নতুন সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের হাতে সবচেয়ে নির্যাতিত হওয়া সত্ত্বেও যদি বর্তমান সরকার বিচার ছাড়া তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করে, তবে ছাত্র-জনতা বা ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় দলটির নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মজিবুর রহমান মঞ্জু নবগঠিত সরকারকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্কার ও চলমান পরিস্থিতির ওপর দলের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং তার দল। তাই শত শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে তৈরি হওয়া ‘জুলাই সনদ’ ও আকাঙ্ক্ষা যেন কোনোভাবে ভূলুণ্ঠিত না হয়, সেদিকে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) চলা গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া এবং আগের সরকারের শুরু করা সংস্কার কাজগুলো দৃঢ় চিত্তে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ও কার্যালয় খোলা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগকে ‘গণহত্যাকারী দল’ হিসেবে উল্লেখ করে মঞ্জু বলেন, শেখ হাসিনা সরাসরি নির্দেশ দিয়ে ছাত্রদের ওপর আক্রমণ করিয়েছেন যার তথ্যপ্রমাণ সবার কাছে আছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ কীভাবে বিভিন্ন এলাকায় কার্যালয় খোলার সাহস পায়?। বিচার ছাড়া জালেমদের পুনর্বাসন বা ক্ষমা করার দৃষ্টান্ত স্থাপন না করতে তিনি সরকারকে অনুরোধ করেন।

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার ও পোস্টাল ব্যালট নির্বাচন পরবর্তী কারচুপি ও অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, টিআইবি’র রিপোর্ট অনুযায়ী ২২ শতাংশ ক্ষেত্রে ভোট জালিয়াতি হয়েছে। তিনি ‘চর দখলের মতো’ নির্বাচনের সংস্কৃতি বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনকে ঢেলে সাজানোর দাবি জানান।

এসময় তিনি ভবিষ্যৎ নির্বাচনে স্বচ্ছতা আনতে সাংবাদিক, পুলিশ, চিকিৎসক এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্য পৃথিবীর অন্য দেশের মতো ‘পোস্টাল ব্যালট’ বা আগাম ভোটের বিধান চালুর প্রস্তাব করেন।

সহিংসতা রোধ ও বাজার নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা এবং বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে মঞ্জু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। এছাড়া আসন্ন রমজান উপলক্ষ্যে বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে প্রয়োজনে যৌথ বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে মাঠে নামানোর প্রস্তাবকে সমর্থন করেন তিনি।

একইসঙ্গে উপদেষ্টাদের জবাবদিহিতা ও দুর্নীতি বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে না আসায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন মঞ্জু। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারের মন্ত্রী, এমপি এবং আমলাদের দায়িত্ব নেওয়ার আগে ও পরে সম্পদের হিসাব নেওয়া এবং তা পাবলিক করা উচিত যেন দুর্নীতি রোধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি দৃশ্যমান হয়।

নতুন সরকারের প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, নতুন সরকার অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে অহংকারী না হয়ে বরং জনগণের প্রতি বিনয়ী হবে এবং একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলবে।