বৈশাখ - লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল
বৈশাখ মিশে আছে হৃদয়ে অন্তরে বাঙালির সুখে-দুঃখে চেতনা জুড়ে,
ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাদেশ গঠনতান্ত্রিক আন্দোলন এবং বিপ্লবী ছাত্র জনতার উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও “জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর”-কে কেন্দ্র করে উত্থাপিত ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের অভিযোগের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
মানববন্ধন শুরুর পূর্বে জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি ব্যানার প্রদর্শনের চেষ্টা করা হলে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ তা ছিনিয়ে নেয় লুকিয়ে ফেলে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আয়োজকদের সাথে কর্তৃপক্ষের বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। তবে ব্যানার ফেরত না দেওয়ায় আয়োজকরা ব্যানার ছাড়াই মানববন্ধন শুরু করতে বাধ্য হন। উপস্থিত সকল বক্তা এই ঘটনাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানান।
বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রের সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট তখনই তৈরি হয় যখন দুর্নীতি বিচ্ছিন্ন অভিযোগ না থেকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক “সিস্টেম” হয়ে দাঁড়ায়। জাদুঘরসমূহে ভুয়া টেন্ডার, ব্যাকডেটেড কাগজপত্র, অস্বাভাবিক ব্যয়, একই কাজের একাধিক বিল উত্তোলন এবং পছন্দের ঠিকাদারদের মাধ্যমে কাজ বণ্টনের অভিযোগ—এসব কোনো সাধারণ প্রশাসনিক ত্রুটি নয়; বরং সুসংগঠিত আর্থিক জালিয়াতির ইঙ্গিত বহন করে।
বক্তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, মোস্তাফা সরওয়ার ফারুকী, মেরিনা তাবাসসুম, তানজিম বিন ওহাব এবং সাদেকুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ অত্যন্ত গুরুতর এবং তা অবিলম্বে তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। অভিযোগ অনুযায়ী, অল্প মূল্যের কাজকে অস্বাভাবিকভাবে বেশি দেখানো, কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিল উত্তোলন, এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ—এসব কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার পরিপন্থী।
মানববন্ধনে আরও বলা হয়, জাদুঘরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার মানদণ্ড উপেক্ষা করে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে নেতৃত্বে বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে তোলার পাশাপাশি দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন যে, এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দৃশ্যমান কোনো তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। একইসাথে ব্যানার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে তারা “দুর্নীতি ঢাকার অপচেষ্টা” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন—এভাবে প্রতিবাদ দমন করার সংস্কৃতি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
মানববন্ধন থেকে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ উত্থাপন করা হয়—
১. উত্থাপিত সকল অভিযোগের নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত অবিলম্বে শুরু করতে হবে।
২. অভিযুক্ত সকল ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে।
৩. তদন্ত চলাকালীন সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪. রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের সম্পদ জব্দ করে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনতে হবে।
বক্তারা হুঁশিয়ার করে বলেন, রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর লুটপাটের ক্ষেত্র হতে পারে না। মতপ্রকাশের অধিকার দমন এবং দুর্নীতির অভিযোগ আড়াল করার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ছাত্র জনতার আহ্বায়ক আবু তৈয়ব হাবিলদার, বাংলাদেশ গঠনতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি জালিস মাহিমুদ প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শফিকুর রহমান রুমমান, আবদুল্লাহ আল হোসাইন, ফুয়াদ স্বনম, আমিনুল ইসলাম ইমন, তরিকুল ইসলাম, আজগর হোসেন জিহাদ, মুজাহিদ ইব্রাহিম, ইয়াকুব হোসেন লিমন, খন্দকার মারুফ হোসেন, মোজাম্মেল হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
বৈশাখ মিশে আছে হৃদয়ে অন্তরে বাঙালির সুখে-দুঃখে চেতনা জুড়ে,
নিজস্ব প্রতিনিধি: বাঙালির সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব বাংলা নববর্ষ। পয়লা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ, চৈত্রের শেষ বৈশাখের শুরু।
নিজস্ব প্রতিবেদক: সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ মানবাধিকার পরিষদের সেন্ট্রাল কো-অর্ডিনেট মিসেস রাশিদা আহমেদকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।