নড়াইলকণ্ঠ : “জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত ভূমি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ভূমিসেবা মেলা উপলক্ষে নড়াইলে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২০ মে) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) জুলিয়া সুকায়না, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আহসান মাহমুদ রাসেল (সারবিক), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রেভিনিউ) হোসনে আরা তান্নি, সদরের ইউএনও, উপ-পরিচালক কৃষি আরিফুর রহমান, পিপি, জিপি, সাংবাদিক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাসহ সুধীজন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আহসান মাহমুদ রাসেল। তিনি ভূমি ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন কার্যক্রম, জমির রেকর্ড সংরক্ষণ, নামজারি, খাজনা প্রদান এবং অনলাইন সেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে একখণ্ড জমি সুরক্ষার ধারাবাহিক ম্যানুয়াল কার্যক্রম, নিয়ম ও অনিয়মের বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে সাধারণ মানুষের সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা ও হয়রানি কমাতে ডিজিটাল পদ্ধতির বিকল্প নেই। ভূমি অফিসে দালালচক্র ও দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা আরও সম্প্রসারণ করতে হবে। পাশাপাশি জনগণকে অনলাইন আবেদন, ই-নামজারি ও ডিজিটাল খতিয়ান ব্যবহারে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সেমিনারে বক্তব্য রাখেন এডভোকেট অন্ন ঘোষ ও এডভোকেট আজিজুর রহমানসহ আরও অনেকে। তারা বলেন, ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ কমাতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত গণশুনানি, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য সহায়তা কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বক্তারা ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—
- সকল ভূমি রেকর্ড শতভাগ ডিজিটালাইজেশন সম্পন্ন করা,
- ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল ভূমি সহায়তা বুথ চালু করা,
- ভূমি সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন,
- অনলাইনে অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু করা,
- দালাল ও জালিয়াত চক্র প্রতিরোধে কঠোর মনিটরিং,
- খতিয়ান, পর্চা ও নামজারি প্রক্রিয়া সহজীকরণ,
- ভূমি অফিসে সেবার নির্ধারিত সময়সীমা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন এবং
- জনগণের জন্য হটলাইন ও তথ্যকেন্দ্র চালু করা।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং ভূমি সেবা হবে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক।