পতন হয় সাড়ে ১৫ বছরের একনায়কতান্ত্রিক শাসনের। সেদিন গণভবন, সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দখলে নেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।নাগরিক ঐক্যের প্রেসিডিয়াম মেম্বার আব্দুর রউফ মান্নান এই বিবৃতিটি সংবাদ মাধ্যমে পাঠান।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাস পূর্ণ করার পর সরকারের তিন মাসের পর এখন অনেককে বলতে শুনছি, একেবারেই রাজনীতি বোঝে না এ সরকার। কিন্তু রাজাকে তো রাজনীতি জানতে হয়। রাজনীতিবিদদের একটা নিজস্ব টাইপ থাকে। আসলে প্রত্যেক পেশার মানুষেরই একভাবে নিজস্ব টাইপ গড়ে ওঠে। রাজনীতিবিদরা সাধারণত কথা বলার সময় সতর্ক থাকেন, যেন অসতর্কতাবশত এমন কিছু বলে না ফেলেন, যা তার নিজের বিরুদ্ধে যায়।
পাঠক নিশ্চয়ই এটিও খেয়াল করেছেন, এখনকার প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে সরকারের সব সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ৫ আগস্ট হাসিনা দৈরাচারের পতনের অব্যবহিত পর থেকেই বিএনপি সরকারের কাছে নির্বাচন এবং নির্বাচনের রোডম্যাপ দাবি করছে। সদ্য বিজয় দেখা (যা প্রায় কল্পনার অতীত ছিল) জনগণ তখন বেশ বিরক্ত হলেও তিন মাসের সরকারের কার্যকলাপে তারা ভ্রু কুঁচকাতে শুরু করেছে।
এ সময় ৬ নভেম্বর পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে দেখলাম বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলেছেন, আগামী দুই তিন মাসের মধ্যেই তারা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে নির্বাচনের রোড ম্যাপ চাইবেন, সেটি না হলে মার্চ-এপ্রিলের দিক থেকে নির্বাচনের দাবিতে তারা আন্দোলন শুরু করবেন।
পদত্যাগের আগে জুলাই-আগস্ট মাসে শেখ হাসিনার নির্দেশে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারায় শিশু-কিশোর-শিক্ষার্থীসহ প্রায় দেড় হাজার মুক্তিকামী মানুষ। চোখ হারায়, পঙ্গুত্ববরণ করে কয়েক হাজার। নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে বিভোর মানুষ সেসময় নিশ্চিত মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতেও দ্বিধা করেনি।
স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের বিরদ্ধে দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের লড়াইয়ের পরিক্রমায় ‘২৪-এর সফল গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দল এবং জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের স্বপ্ন এবং জনগণের ব্যাপক প্রত্যাশা নিয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন বাংলাদেশের নতুন সরকার।
এ সরকার এমন একটা সময়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পায়, যখন দীর্ঘ স্বৈরশাসনে দেশের সব সাংবিধানিক, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসপ্রায়, আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থা একরকম ভেঙে পড়েছে। জনগণের ব্যাপক সমর্থন এবং আকাশসম প্রত্যাশা নিয়ে নানা অশ্চিয়তা ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজ ৮ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার তিন মাস পূর্ণ করছে। তিন মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর এখন নিশ্চয়ই এ সরকারের সফলতা এবং ব্যর্থতার একটা নির্মোহ বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।
এ সময়ের মধ্যে অনেক বিষয়ে সফলতার পরিচয় দিয়েছে সরকার। বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। ক্ষমতা গ্রহণের পর গত দুই মাসে প্রশাসনের শীর্ষপদে ব্যাপক রদবদল করেছে সরকার। রাষ্ট্রের কাঠামোগত এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য বেশ কয়েকটি কমিশন গঠন করা হয়েছে। স্বৈরাচার সরকারের আমলে জালিয়াতির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা স্থানীয় সরকারের কথিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে সেই জায়গায় অস্থায়ী প্রশাসক বসানো হয়েছে। স্থায়ী প্রশাসক নিয়োগের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। ব্যাংকিং খাত সংস্কারের লক্ষ্যে আলাদা কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনার।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিশ্বে সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্থনৈতিক দুরবস্থা কাটাতে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক সাহায্যের ব্যবস্থা করতে সাহায্য করছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, ঋণদাতা সংস্থা এবং বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের প্রতি নতুন করে আগ্রহ দেখাচ্ছে এবং ইউনূস সরকারের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
এ সরকার নিশ্চয়ই সেরকম কিছু করবে না। তাহলে কী করবে তারা?
ড. ইউনূস অবশ্য এমনিতে বেশি কথা বলেন না।