জানা গেছে, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ২০২১ সালের ১৬ জুন ইমরান হোসেন প্রধানকে আহ্বায়ক ও আল-আমিনকে সদস্য সচিব করে ২৭ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয়। চলতি বছরের ২১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কর্মীসভা এবং ২২ মে ভাইভা অনুষ্ঠিত হয়।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই ছাত্রত্ব হারিয়ে ফেলেছেন, আবার কেউ বিবাহিত এবং পিতা হয়েছেন এমন অভিযোগও রয়েছে, এমনকি বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডেও তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
প্রকাশ্যে বিতর্কিত প্রার্থীদের তথ্য
সভাপতি পদপ্রার্থী মো. মহিউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্স শেষ করেছেন। কাবিননামা অনুযায়ী ২০২২ সালের ৩০ আগস্ট তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল তার সন্তানের জন্ম হয়—এমন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে কাবিননামা ও বাচ্চার টিকা কার্ড বিশ্লেষণ করে।
মহিউদ্দিনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া ছাত্রলীগের সাবেক উপ-ক্রীড়া সম্পাদক সানোয়ার রাব্বি প্রমিজকেও পুনর্বাসনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নেতৃত্বে ত্যাগীদের দাবি
কমিটি গঠনে স্বচ্ছতা ও গঠনতন্ত্র অনুসরণে জোর দাবি জানিয়েছেন অন্যান্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীরা। বিবাহিত,অছাত্র,চাকুরিজীবী বাদ দিয়ে কমিটি হোক এমনটাই প্রত্যাশা অন্যান্য নেতাকর্মীদের।
কেন্দ্রীয় টিম বলছে তদন্ত চলছে
কমিটি গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও টিম লিডার শাকির আহমেদ বলেন, “মহিউদ্দিনের বিবাহ ও হাবিবের চাকরির বিষয়টি আমাদের কাছে এসেছে। আমরা সব প্রার্থীর তথ্য যাচাই-বাছাই করছি। তাই কমিটি ঘোষণায় কিছুটা দেরি হচ্ছে।”
ছাত্রদলের ভেতরে-বাহিরে এই বিতর্কে সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে নেতৃত্ব নির্বাচনে স্বচ্ছতা, গঠনতন্ত্র অনুসরণ এবং ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের দাবি জোরালোভাবে উঠছে।