নড়াইলকণ্ঠ ডেস্ক : ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে গাজা, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেছেন। একই সময়ে তার বক্তব্যের প্রতিবাদে জাতিসংঘের অধিবেশন কক্ষ থেকে বহু দেশের প্রতিনিধির বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
নেতানিয়াহু বক্তব্যের শুরুতেই ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল লড়াই চালিয়ে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে। তার ভাষণের সময় অধিবেশন কক্ষের অনেক আসন খালি হয়ে যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে কয়েক ডজন দেশের প্রতিনিধিদলের ওয়াকআউটের কথা বলা হয়েছে।
প্রতিনিধিদের একাংশ হল ছেড়ে চলে যাওয়ার পরও নেতানিয়াহু তাদের উদ্দেশে কঠোর মন্তব্য করেন। যারা তখনও কক্ষে ছিলেন, তাদের মধ্য থেকেও কেউ বেরিয়ে যেতে চাইলে তা করতে বলেন তিনি।
গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন নেতানিয়াহু। তার বক্তব্যে ইরানে ইসরায়েলি সামরিক হামলার সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি এটিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেওয়া তুলনামূলক সহজ সিদ্ধান্তগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেন।
ভাষণে ইসরায়েলের সমালোচনাকারী কয়েকজন বিদেশি নেতা ও রাজনীতিকের বিরুদ্ধেও বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে আক্রমণ করে তিনি হামাসকে সমর্থনের অভিযোগ তোলেন।
এরদোয়ান এর আগে জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে গাজা ও পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের পরিস্থিতির সমালোচনা করেছিলেন। তার যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক বুরহানেত্তিন দুরান পরে বলেন, জাতিসংঘের মঞ্চ ব্যবহার করে তুরস্ক ও এরদোয়ানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা সংস্থাটির শান্তি, আইন ও সংলাপের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকেও বক্তব্যে সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, মামদানি মেয়র হওয়ার পর নিউইয়র্কের অনেক ইহুদি নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না। মামদানির কার্যালয় পাল্টা অভিযোগ করে, নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড আড়াল করতে ভিত্তিহীন বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করেছেন।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। ইরানবিরোধী যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। এর আগে নেতানিয়াহু জানিয়েছিলেন, জাতিসংঘের মঞ্চে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরবেন এবং সমালোচকদের জবাব দেবেন।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জাতিসংঘে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন নীতি ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূখণ্ডে ভবিষ্যৎ নিয়ে সংকট তৈরি করছে।
গাজা পরিস্থিতি তুলে ধরে আব্বাস হত্যা, ধ্বংস, অনাহার ও বাস্তুচ্যুতির অভিযোগ করেন। তিনি চলমান পরিস্থিতিকে ‘গণহত্যামূলক যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পাওয়ায় আব্বাস জাতিসংঘে সরাসরি উপস্থিত হতে পারেননি। তার বক্তব্য ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে প্রচার করা হয়।
এদিকে নেতানিয়াহুর সফর ও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বিক্ষোভও হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশকে পুলিশ আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন ও হান্না আইনবাইন্ডারও ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমান উত্তেজনার পটভূমিতে রয়েছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল হামলা। ইসরায়েলি তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হন। এরপর গাজায় ইসরায়েল সামরিক অভিযান শুরু করে।
গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, পরবর্তী সময়ে ইসরায়েলি অভিযানে ৭৩ হাজার ৯২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে এই সংখ্যা যোদ্ধা ও বেসামরিকদের আলাদা করে না। ইসরায়েল গাজায় গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে এবং তাদের সামরিক অভিযানকে হামাসের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে।