নদী, খাল ও বিল বেষ্টিত নড়াইল জেলার এই এলাকায় এখনো প্রতিদিন দড়ি টেনে নৌকায় নদী পার হতে হয় ১১ গ্রামের মানুষকে। শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ নারী-পুরুষ সবাইকে জীবনের প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়ে ব্যবহার করতে হচ্ছে এই খেয়া পারাপারের ব্যবস্থা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় তিন যুগ ধরে এই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আসে নতুন নতুন প্রতিশ্রুতি। কিন্তু বাস্তবে মুলিয়া বাজার পয়েন্টে সেতু নির্মাণের অপেক্ষা আজও শেষ হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন পশ্চিম পাড়ের মানুষকে প্রয়োজনীয় কাজে মুলিয়া বাজারে আসতে নদী পার হতে হয়। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। সময় নষ্টের পাশাপাশি অনেক সময় জীবনের ঝুঁকিও তৈরি হয়।
পানতিতা গ্রামের কৃষক নারদ মন্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া, জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত—সব ক্ষেত্রেই নদী পারাপার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক মোটরসাইকেল আরোহী জানান, যানবাহন নিয়ে খেয়া পার হওয়া অত্যন্ত ভোগান্তির। অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়, আবার দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিস্ময় বর্মন জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াতের জন্য নদী পার হতে হয়। সেতু নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পথ আরও সহজ হবে।
মুলিয়া বাজারের ব্যবসায়ী তাপস বর্মন বলেন, নদীর ওপর সেতু না থাকায় বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ছে। দূরের মানুষ সহজে বাজারে আসতে না পারায় ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, মুলিয়া বাজার সংলগ্ন আফরা-কাজলা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে না, বদলে যাবে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চিত্র।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আশা রয়েছে।
তবে তিন যুগ ধরে প্রতিশ্রুতির পর এবার বাস্তব উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন আফরা-কাজলা নদীর দুই পাড়ের মানুষ। তাদের প্রশ্ন—আর কতদিন দড়ি টেনে নৌকায় পার হতে হবে?