নড়াইলকণ্ঠ | বিশেষ ফিচার:
১০ অক্টোবর ১৯৯৪—এই দিনে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিলেন বাংলাদেশের শিল্পকলার এক স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব এস এম সুলতান। তাঁর তুলিতে কৃষক কেবল শ্রমজীবী মানুষ নন; তাঁরা শক্তি, উৎপাদন, প্রকৃতি ও সভ্যতার নির্মাতা। মৃত্যুর ৩২ বছর পরও তাঁর শিল্পকর্ম আমাদের সামনে তুলে ধরে এক মৌলিক প্রশ্ন: যে মানুষের শ্রমে সমাজ বেঁচে থাকে, সেই মানুষ শিল্প ও ইতিহাসে কতটা মর্যাদা পায়?
নড়াইলের মাটি থেকে বিশ্বশিল্পের আঙিনায়:
বাংলার গ্রামীণ জনপদ, কৃষকের ঘাম, নদী, মাঠ, ফসল ও মানুষের শরীরী শক্তিকে যিনি এক অনন্য শিল্পভাষায় রূপ দিয়েছিলেন, তিনি শেখ মোহাম্মদ সুলতান—শিল্পজগতে পরিচিত এস এম সুলতান নামে। তাঁর শৈশবের নাম ছিল ‘লাল মিয়া’। নড়াইলের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী বাংলাদেশের আধুনিক চিত্রকলায় এমন একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন, যেখানে গ্রামীণ মানুষ কেবল ছবির বিষয় নয়, বরং শিল্পের কেন্দ্রীয় শক্তি।
তাঁর জন্মসাল নিয়ে সূত্রভেদে মতপার্থক্য রয়েছে। নড়াইল জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে ১৯২৩ সালের ১০ আগস্ট জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছে; অন্যদিকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এবং সাম্প্রতিক সংবাদপ্রতিবেদনে ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট বলা হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুর তারিখ নিয়ে মতভেদ নেই—১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর তিনি যশোরে মৃত্যুবরণ করেন। [সূত্র: নড়াইল জেলা প্রশাসন, বাসস ও সমসাময়িক সংবাদপ্রতিবেদন]
সুলতানের জীবনকে শুধু একজন চিত্রশিল্পীর জীবনী হিসেবে দেখলে তাঁর গুরুত্বের একটি বড় অংশ অনালোচিত থেকে যায়। তাঁর শিল্পের কেন্দ্রে ছিল বাংলার সেই মানুষ, যাদের শ্রমে খাদ্য উৎপন্ন হয়, ঘর তৈরি হয়, অর্থনীতি সচল থাকে; অথচ সামাজিক মর্যাদা ও ক্ষমতার বণ্টনে যাঁরা প্রায়ই পিছিয়ে থাকেন।
কৃষক কেন তাঁর ছবির নায়ক?
এস এম সুলতানের চিত্রকর্মের সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর আঁকা কৃষক, শ্রমিক, জেলে ও গ্রামীণ মানুষের পেশিবহুল, বলিষ্ঠ শরীর। বাস্তব জীবনের মানুষের শরীরের অনুপাতকে তিনি অনেক সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বৃহৎ ও শক্তিশালী করে তুলেছেন। এই বৈশিষ্ট্যকে নিছক শারীরিক সৌন্দর্যের প্রদর্শন হিসেবে দেখলে তাঁর শিল্পদর্শনের গভীরতা ধরা পড়ে না।
সুলতানের ছবিতে কৃষকের শক্তিশালী শরীর আসলে একটি বক্তব্য বহন করে। কৃষক দুর্বল নয়; সে উৎপাদনের শক্তি। শ্রমিক অসহায়তার প্রতীক নয়; সে সমাজ নির্মাণের অংশীদার। গ্রামীণ মানুষ ইতিহাসের প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা কোনো গৌণ চরিত্র নয়; সভ্যতার ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার অবদান মৌলিক।
তাঁর ছবির কৃষকরা যেন জমির সঙ্গে এক ধরনের গভীর আত্মীয়তায় আবদ্ধ। তাঁদের পেশি, হাত, দেহভঙ্গি ও কর্মব্যস্ততা জমির উৎপাদনশীলতার সঙ্গে যুক্ত। এই দৃশ্যভাষায় শরীর হয়ে ওঠে শ্রমের দলিল, আর কৃষিজীবন হয়ে ওঠে সভ্যতার ভিত্তি।
এখানেই সুলতানের শিল্প প্রচলিত গ্রামীণ দৃশ্যচিত্র থেকে আলাদা। গ্রামকে শুধু সবুজ প্রকৃতি, শান্ত নদী কিংবা নস্টালজিক জীবনের ছবি হিসেবে উপস্থাপন না করে তিনি তার ভেতরের উৎপাদনব্যবস্থা, শ্রমের শক্তি এবং সামাজিক মর্যাদার প্রশ্নকে সামনে আনেন।
সৌন্দর্যের সংজ্ঞায় এক ভিন্ন অবস্থান:
শিল্পের ইতিহাসে সৌন্দর্যকে অনেক সময় অভিজাত জীবন, রাজকীয় স্থাপত্য, নগরসভ্যতা কিংবা ক্ষমতাবান মানুষের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সুলতানের শিল্প এই প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করে। তাঁর ক্যানভাসে সৌন্দর্যের উৎস রাজপ্রাসাদ নয়, মাঠে কাজ করা মানুষ; ক্ষমতার প্রতীক সিংহাসন নয়, শ্রমে গড়ে ওঠা বলিষ্ঠ শরীর।
এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সামাজিক মর্যাদার পুনর্বিন্যাস হিসেবেও পড়া যায়। যাঁদের জীবনকে সমাজ প্রায়ই সাধারণ বা অনুল্লেখযোগ্য বলে ধরে নেয়, তাঁদেরই তিনি ছবির কেন্দ্রস্থলে বসিয়েছেন। ফলে তাঁর শিল্পে কৃষকের উপস্থিতি শুধু বিষয় নির্বাচনের ব্যাপার নয়; এটি একটি নান্দনিক ও সামাজিক অবস্থান।
সুলতানের মানুষগুলোকে বাস্তব কৃষকের হুবহু প্রতিকৃতি ভাবলে ভুল হবে। তাঁদের শরীর ও ভঙ্গিতে বাস্তবতার পাশাপাশি প্রতীকী নির্মাণও রয়েছে। শিল্পী তাঁদের মধ্যে এমন এক সম্ভাব্য শক্তি ও মর্যাদা প্রকাশ করেছেন, যা বাস্তব সামাজিক ব্যবস্থায় সব সময় দৃশ্যমান হয় না।
এই কারণে তাঁর ছবির মানুষ একই সঙ্গে বাস্তব এবং কল্পনাময়। তাঁরা বাংলার মাঠঘাট থেকে উঠে এলেও তাঁদের শরীর ও কর্মভঙ্গি এক বৃহত্তর মানবিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করে।
শিল্পশিক্ষা, ভ্রমণ ও নিজস্ব পথ নির্মাণ:
এস এম সুলতানের শিল্পী হয়ে ওঠার পথ ছিল প্রচলিত ও প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পজীবনের সঙ্গে পুরোপুরি একরৈখিক নয়। জীবনের প্রথম পর্যায়ে তিনি শিল্পশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী সময়ে দেশের বাইরে ভ্রমণ ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে বৃহত্তর শিল্পজগতের সঙ্গে পরিচিত হন। তাঁর শিল্পকর্ম যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপেও প্রদর্শিত হয়েছিল বলে বিভিন্ন জীবনীমূলক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
তবে তাঁর পরিচয়ের প্রধান ভিত্তি বিদেশে প্রদর্শনী কিংবা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নয়; বরং সেই অভিজ্ঞতাগুলো আত্মস্থ করে নিজস্ব শিল্পভাষা নির্মাণের ক্ষমতা।
তাঁর কাজের প্রাথমিক পর্যায়ে পাশ্চাত্য শিল্পরীতির প্রভাবের কথা আলোচনায় আসে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি এমন এক চিত্রভাষা নির্মাণ করেন, যেখানে বাংলার কৃষিজীবন, প্রকৃতি, লোকজ অভিজ্ঞতা ও শ্রমজীবী মানুষের শরীর প্রধান হয়ে ওঠে।
এখানে তাঁর শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক লক্ষণীয়। আধুনিক শিল্পী হওয়ার জন্য নিজের সমাজ ও ইতিহাস থেকে দূরে সরে যাওয়া জরুরি নয়। বরং স্থানীয় জীবন, অভিজ্ঞতা ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতাকে গভীরভাবে বুঝেও বিশ্বজনীন শিল্পভাষা নির্মাণ করা সম্ভব। সুলতানের কাজ সেই সম্ভাবনার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ক:
সুলতানের ছবিতে মানুষকে প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো সত্তা হিসেবে দেখা যায় না। জমি, গাছপালা, নদী, ফসল এবং মানুষের শ্রম—সব মিলিয়ে তৈরি হয় একটি পরস্পরনির্ভর জগৎ। এই জগতে প্রকৃতি নিছক পটভূমি নয়; মানুষের জীবন ও উৎপাদনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এই দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমান সময়েও তাৎপর্যপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিজমির সংকোচন, নদীভাঙন, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং গ্রামীণ অর্থনীতির সংকট আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ককে কেবল অর্থনৈতিক লাভের হিসাব দিয়ে বোঝা যায় না।
সুলতানের শিল্পকে আধুনিক পরিবেশবাদী আন্দোলনের সরাসরি প্রতিরূপ বলা ঠিক হবে না। তবে তাঁর ছবিতে জমি, প্রকৃতি ও শ্রমের যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেখা যায়, তা পরিবেশ ও জীবিকার পারস্পরিক নির্ভরতা নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি করে।
শিল্পের ভেতরে সামাজিক প্রশ্ন:
সুলতানের চিত্রকর্মের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ হলো—উৎপাদনকারী মানুষ এবং উৎপাদনের সুবিধাভোগী মানুষের মধ্যে সম্পর্কটি কীভাবে বোঝা হবে? কৃষক খাদ্য উৎপাদন করেন, শ্রমিক অবকাঠামো নির্মাণ করেন, জেলে নদী থেকে জীবিকা আহরণ করেন। অথচ তাঁদের শ্রমের সামাজিক স্বীকৃতি অনেক সময় তাঁদের প্রকৃত অবদানের তুলনায় কম থাকে।
সুলতানের শিল্পকে এই বৈষম্যের একটি নান্দনিক প্রতিবাদ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়। তিনি কৃষককে করুণার পাত্র করেননি; তাঁকে শক্তি ও মর্যাদার অধিকারী হিসেবে এঁকেছেন। তাঁর ছবির মানুষকে সাহায্যের অপেক্ষায় থাকা দুর্বল চরিত্র হিসেবে নয়, বরং সমাজের অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য শক্তি হিসেবে দেখা যায়।
এখানে তাঁর শিল্পের মানবিকতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মানুষকে সম্মান করার জন্য তাকে ক্ষমতাবান, ধনী কিংবা প্রভাবশালী হতে হবে না। শ্রম, জীবন এবং অস্তিত্বের মধ্যেই মানুষের মর্যাদার ভিত্তি রয়েছে—সুলতানের শিল্প এই ধারণাকে দৃশ্যমান করে।
স্বীকৃতি ও উত্তরাধিকার:
বাংলাদেশে শিল্পকলায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এস এম সুলতান ১৯৮২ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্ট আর্টিস্ট হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। তাঁর শিল্পকর্ম ও জীবন নিয়ে দেশে-বিদেশে আলোচনা হয়েছে, আর নড়াইলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আজও স্থানীয় সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নড়াইলের কুড়িগ্রাম এলাকায় এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা ও তাঁর সমাধিস্থলকে কেন্দ্র করে শিল্পীকে স্মরণ করার নানা আয়োজন হয়ে থাকে। শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা এবং শিল্পচর্চার বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁর উত্তরাধিকার নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এসব আয়োজনের মূল্য কেবল আনুষ্ঠানিক স্মরণে নয়। এগুলো কতটা নতুন শিল্পী তৈরি করতে পারছে, শিল্পের প্রতি আগ্রহ বাড়াচ্ছে এবং সুলতানের শিল্পদর্শনকে সমকালীন সামাজিক প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করছে—সেই মূল্যায়নও জরুরি।
একজন শিল্পীকে স্মরণ করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় শুধু তাঁর প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়া নয়; তাঁর কাজকে বোঝা, সংরক্ষণ করা, গবেষণা করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তার অর্থ ব্যাখ্যা করা।
মৃত্যুর পরও যে প্রশ্নগুলো রয়ে যায়:
এস এম সুলতান ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। ২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর তাঁর ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর শিল্পের কেন্দ্রীয় প্রশ্নগুলো অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়নি।
আজও বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষি, শ্রম ও গ্রামীণ জীবনের ওপর বিভিন্নভাবে নির্ভরশীল। অথচ কৃষকের ন্যায্যমূল্য, শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তা, জমির অধিকার এবং গ্রামীণ মানুষের সাংস্কৃতিক মর্যাদা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত। এই বাস্তবতায় সুলতানের ছবির বলিষ্ঠ কৃষক আমাদের মনে করিয়ে দেয়—দেশের উন্নয়নকে বিচার করতে হলে উৎপাদনকারী মানুষের জীবনমান ও মর্যাদাকেও বিবেচনায় নিতে হবে।
তাঁর শিল্প আমাদের আরও একটি শিক্ষা দেয়: নিজের সমাজের মানুষকে গভীরভাবে দেখার মধ্য দিয়েও বিশ্বজনীন শিল্প সৃষ্টি করা যায়। এর জন্য স্থানীয় জীবনকে ছোট করে দেখা নয়, বরং তার ভেতরের শক্তি, সৌন্দর্য ও জটিলতাকে আবিষ্কার করা প্রয়োজন।
শেষ কথা: মাটির মানুষের মহিমা
এস এম সুলতানের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হয়তো এই যে তিনি বাংলার কৃষককে শুধু এঁকেছেন তা নয়—তাঁকে নতুনভাবে দেখতে শিখিয়েছেন। তাঁর ক্যানভাসে কৃষক আর পটভূমির চরিত্র নন; তিনি ইতিহাসের কেন্দ্রে উঠে আসেন। তাঁর শরীর শ্রমের শক্তি, তাঁর উপস্থিতি সামাজিক মর্যাদার দাবি, আর তাঁর জীবন প্রকৃতি ও সভ্যতার পারস্পরিক সম্পর্কের স্মারক।
নড়াইলের মাছিমদিয়া থেকে উঠে আসা এই শিল্পী দেখিয়েছেন, শিল্পের মহত্ত্ব শুধু বিষয়বস্তুর আভিজাত্যে নয়; বরং কাকে দেখা হচ্ছে, কীভাবে দেখা হচ্ছে এবং সেই দেখার মধ্য দিয়ে সমাজ সম্পর্কে কী প্রশ্ন তোলা হচ্ছে—তার মধ্যেও নিহিত।
এস এম সুলতানকে তাই শুধু একজন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হিসেবে স্মরণ করলে তাঁর উত্তরাধিকার অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাঁকে স্মরণ করা মানে মাটির মানুষের শক্তিকে স্বীকার করা, শ্রমের মর্যাদা পুনর্বিবেচনা করা এবং সমাজের প্রান্তে থাকা মানুষকে ইতিহাসের কেন্দ্রে দেখার চেষ্টা করা।
তাঁর ক্যানভাসে কৃষক মাথা নত করে নেই। তিনি দাঁড়িয়ে আছেন—নিজের শ্রমে, নিজের শক্তিতে, নিজের মর্যাদায়। এই দাঁড়িয়ে থাকার মধ্যেই এস এম সুলতানের শিল্প আজও জীবন্ত।
প্রকাশকাল: ১০ অক্টোবর ২০২৬ । শনিবার।