• 15 Jun, 2024

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ

দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতা সহ বিধিবহির্ভূত কর্মকান্ডের অভিযোগে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ৮নং মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন মিয়ার বিরুদ্ধে ওই পরিষদের ৯ ইউপি সদস্য গত ৩০ এপ্রিল গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম ও মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম ইমাম রাজী টুলু" র বরাবর পৃথক পৃথক ভাবে অনাস্থা প্রস্তাব এনে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অনাস্থা প্রস্তাবে যে নয়জন ইউপি সদস্যরা স্বাক্ষর করেছেন তারা হলেন কবির মোল্যা, জাহিদুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান খান, মজিবুর রহমান, ইমান আলী, সাদেকুর রহমান, রেহানা আক্তার লাকী ও হেনা বেগম।
 

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.সালাউদ্দিন মিয়া ভূমি হস্তান্তরের ০১% বরাদ্দের টাকা, মহারাজপুর ইউনিয়নের সকল হাট-বাজারের ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ ইং অর্থ বছরের ট্রেড লাইসেন্স বাবদ যথাক্রমে প্রায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, অর্থ বছরের আদায়ইকৃত ট্যাক্সের প্রায় ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করে উক্ত টাকা আত্মসাত করেছেন। তিনি টিয়ার, কাবিখা, কাবিটা, এলজিএসপি, টিসিবি, ভিজিডি, কৃষি বীজ-সারের বিষয় গুলো নিয়ে পরিষদের সদস্যদের সাথে কোন প্রকারের আলাপ আলোচনা ছাড়াই তার খেয়াল খুশিমত পরিচালনা এবং পরিষদের মাসিক মিটিং গুলো অনিয়মিত ভাবে করে আসছিলেন। বিভিন্ন সময় মিটিং করলেও মিটিং এর মূল এজেন্ডা গোপন রেখে আলোচনা ও রেজুলেশন খাতায় সদস্য ও সদস্যাদের চাপ প্রয়োগ করে একাধিক স্বাক্ষর নেন, চলতি অর্থ বছরে ২০২২-২৩ ইং প্রথম পর্যায়ে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) তে প্রকল্প কমিটির চেয়ারম্যানদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে উক্ত প্রকল্পের কাগজপত্র তৈরি করে সরকারি দপ্তরে জমা দিয়ে বিল উত্তোলন করার অভিযোগে এনে  চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সদস্যরা অনাস্থা এনেছেন। ফলে বর্তমানে ওই ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।  

অভিযোগে আরো উল্লেখ্য রয়েছে, ইউনিয়নএর ৮ থেকে ১০ টি স্থান থেকে বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় প্রায় শতাধিক সরকারি গাছ বিক্রি করে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। উল্লেখিত অভিযোগে সদস্যগণ আরোও উল্লেখ করেন, সদস্যগণ ইউনিয় পরিষদের দ্বায়িত্ব গ্রহনের পর থেকেই চেয়ারম্যান সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ ও বিভিন্ন প্রজেক্ট অনিয়মের সাথে যথাক্রমে ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ড ও চেয়ারম্যানের নিজ এলাকা ৯ নং ওয়ার্ডে উন্নয়ন মূলক কাজ করছেন, বাকি ওয়ার্ড গুলোতে দৃশ্যমানের কোন প্রকারের উন্নয়ন মূলক কাজ হয় নাই। ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে ডানিডা প্রকল্পের কাজে ভেকু ব্যবহার করে নামে-বে নামে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, বনগ্রাম শাখায় একাউন্ট খুলে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে তা আত্মসাৎ করেন চেয়ারম্যানসহ তার সিন্ডিকেটের লোকজন। শুধু তাই নয়, বিধি-বহির্ভূত ভাবে নাগরিক, ওয়ারিশন, জন্ম-মৃত্যু ও নিবন্ধন সনদ দিতে অবৈধভাবে উদ্যোক্তা নগদ অর্থ গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ৯ ইউপি সদস্য।

পরপর দুই বার নির্বাচিত ইউপি সদস্য রেহানা আক্তার লাকি বলেন, সালাউদ্দিন মিয়া চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ইউনিয়ন পরিষদে অনিয়ম-দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেছেন। নানা ভয়ভীতি উপেক্ষা করে আমরা দুই জন নারী সদস্য ও সাতজন পুরুষ সদস্য সম্মিলিতভাবে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মহোদয় ও মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যারের কাছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছি।

এবিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়টি জানা নেই। জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী অফিস  হতে এখন পর্যন্তু আমাকে কিছু বলা হয়নি।

এদিকে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম ইমাম রাজি টুলু মহারাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন মিয়ার বিরুদ্ধে একই ইউনিয়ন পরিষদের ৯ ইউপি সদস্য কর্তৃক অনাস্থা প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।