• 23 Jul, 2024

‘একজন এতিমের সরকারি গ্রান্ড দিয়ে দু’এতিম পালন অসম্ভব’-এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা

‘একজন এতিমের সরকারি গ্রান্ড দিয়ে দু’এতিম পালন অসম্ভব’-এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা

‘সরকারি নীতিমালা অনুসারে আজিজুর রহমান ভূঁইয়া বালিকা সমাজসেবা এতিমখানার কার্যক্রম দীর্ঘদিন ভালোভাবেই চালিয়ে আসছিলাম। কিন্তু বর্তমান যে দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি তাতে একজন এতিমের ক্যাপিটেশন গ্রান্ড দিয়ে দুইজন এতিম লালন-পালন করা আমাদের পক্ষে খুবই অসম্ভব।’ নড়াইলকণ্ঠের একান্ত সাক্ষাতকারে এমন মন্তব্য করেছেন ওই এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো: আজিজুর রহমান ভূইঁয়া।

এই এতিমখানা শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২৫৭ জন এতিম মেয়েকে বিবাহের মাধ্যমে পূনর্বাসন করা হয়েছে। এতিমখানার তত্বাবধায়নে লেখা-পড়া করে লোহাগড়ার লাহুড়িয়ার শিউলী খানম নামের একজন এতিম মেয়ে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নার্স হিসেবে চাকুরী করছেন। এতিমখানার ১০ জন নিয়ে শুরু করার মেয়েদের মধ্যে শিউলী খানম অন্যতম একজন।

দেখতে দেখতে ৩৩ বছর পার করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। এখানে দেড়-দু’শ এতিম মেয়েদের থাকার ঘর মাত্র ১টি। এই ঘরের দোতলা খাটের উপর নিচে ঠাসাঠাসি করে কোন রকম রাতে ঘুমাতে হয় এই এতিমদের। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে প্রস্তুত হয় স্কুল, কলেজ মাদ্রসায় যাওয়ার জন্য। এভাবে চলে তাদের প্রস্তুতি।

১৯৯০ সালে চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: আজিজুর রহমান ভূঁইয়া সীমানন্দপুর মৌজায় নিজের দানকৃত .২৭ শতক জমির উপর একটি বালিকা এতিমখান গড়ে তোলেন। এতিমখানার নাম দেন ‘আজিজুর রহমান ভূঁইয়া বালিকা সমাজসেবা এতিমখানা’। স্থানীয় ও বিভিন্ন দানশীল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের অনুদান ও সহযোগিতা নিয়ে ওই বছর থেকেই ১০ জন এতিম নিয়ে এতিমখানার কার্যক্রম শুরু করেন। এভাবে প্রায় ৫টি বছর ধরে স্থানীয় অনুদানের উপর নির্ভর করে এতিমখানার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এরপর ১৯৯৫ সালের জুন মাসের ৪ তারিখে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ‘আজিজুর রহমান ভূঁইয়া বালিকা সমাজসেবা এতিমখানা’ প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধীত হয় (রেজি:নং:৭৮/৯৫, তারিখ:০৪/০৬/১৯৯৫)। নিবন্ধন পেয়ে ওই অর্থবছর (১৯৯৫-১৯৯৬) থেকে এ প্রতিষ্ঠানের ১০জন এতিমের অনুকুলে মাথাপিছু প্রতি মাসে ২৫০/ টাকা হারে সরকারি ক্যাপিটেশন গ্রান্ড বরাদ্দ পায়।

প্রতিষ্ঠানটি .৩৫ শতক জমির উপর স্থানীয় ও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় একটি টিনসেট ওয়াল দেয়া এতিম মেয়েদের আবাসিক দোতলা সিটিং ঘর, একটি রিডিং ঘর রয়েছে, যেখানে সকালে মক্তবে আবাসিক শিক্ষকরা আরবী ও স্কুল ও কলেজের প্রতিদিনের পড়া দেখিয়ে দেয়া হয়, একটি রান্না ঘর, মালামাল রাখার জন্য মজুতখানা, গোসলখানা, বাথরুম, একটি পুকুর রয়েছে সেখানে চাষ করা হয়, ছাগল পালনের ঘর রয়েছে সেখানে ১০টি ব্লাক বেঙ্গল পালন করা হয়। প্রতিষ্ঠানে ৬টি সেলাই মেশিনও রয়েছে।

এতিমখানার ক্যাম্পাসটি বাউন্ডারী ওয়াল দিয়ে ঘেরা। এরমধ্যে রয়েছে ৫০টি নারিকেল গাছ, রয়েছে মেহেগুনি, আমা-কাঠাল, তালগাছ, ছবেদা-আতা ফলের গাছ, সৌন্দর্য্যবন্ধনের জন্য দেবদারু দিয়ে সাজানো রয়েছে।

গত ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে প্রথম কিস্তি ৬মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) ১৫০ জন এতিমদের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ক্যাপিটেশন গ্রান্ড পায় এ প্রতিষ্ঠানটি। ওই অর্থবছরে বাকি ৬ মাস অর্থাৎ জানুয়ারি’২০ হতে জুন’২৩ পর্যন্ত ধার-উদোর এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও দোকানে বাকি করে ১৫০ জনের ব্যয়বহন করে আসছিলো ওই প্রতিষ্ঠানটি। এ বছরের জুনের শেষের দিকে প্রতিষ্ঠানটি জানতে পারে পূর্বে বরাদ্দ থেকে ৮০জন কর্তন করে ৭০ জনের অনুকুলে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিলম্বে বরাদ্দের তথ্য পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি ৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা দেনায় পড়েছে। এদিকে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ওই ৭০ জনের বরাদ্দ বহাল রয়েছে। পূর্বের ১৫০ জনের বরাদ্দ ফিরে পাওয়ার জন্য এতিমখানাটি সমাজসেবা অধিদপ্তরে আবেদন করেছেন। তারপরও প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান ১৫০ জনের ভরনপোষন চালিয়ে যাচ্ছে।

সুমাইয়া ও শান্তা নড়াইলকণ্ঠকে জানান, আমরা সিমানন্দপুর আজিজুর রহমান বালিকা সমাজসেবা এতিমখানায় লালিত-পালিত হয়ে বড় হইছি। আমার দুইজনই মাগুরা নার্সিং ইউনিষ্টিটিউশনে অধ্যায়নরত রয়েছি। আমাদের এ পর্যায় আসার পেছনে এই এতিমখানার ভূমিকা সব থেকে বেশি। নড়াইল সদরের আউড়িয়া ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের সুমাইয়া খানম ২০২২ সালে এবং লোহাগড়ার চাপুলিয়া গ্রামের শান্ত খানম ২০২৩ সালে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মহাবিদ্যালয় হতে এইচএসসি পাশ করেন।   
  
এই এতিমখানার তত্বাবধায়নে লেখা-পড়া শিখে শিউলী খানম নার্সের চাকুরি করেন কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তিনি নড়াইলকণ্ঠকে তার এ সাফল্যের কথা বলেন, আমি ১০ বছর সিমানন্দপুর আজিজুর রহমান বালিকা সমাজসেবা এতিমখানা থেকে পড়া-শুনা করেছি। আজ আমি সরকারি একটা চাকুরি করছি। এসবই ওই এতিমখানার অবদান।  

এতিমখানার তত্বাবধায়নে এইচএসচি পরীক্ষার্থী মুক্তা খানম নড়াইলকণ্ঠকে জানান, আমার বাবা নেই আম্মু আছে! এই এতিমখানার তত্বাবধায়নে আমি বড় হয়ছি। ছোট বেলায় আমি আসছি এতিমখানায়। যখন আমার বয়স ৮ বছর তখন আমি এতিমখানায় আসছি। আমি এখান থেকে ওয়ান থেকে টেন পর্যন্ত ইসলামী দাখিল মাদ্রসায় পড়ছি। এখান থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ভালো রিজাল্ট করে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কলেজে ভর্তি হই এবং এখান থেকে এবার ইন্টার পরীক্ষা দিয়েছি।  

এই এতিমখানার তত্বাবধায়নে থেকে এবার এসএসসি পাশ করেছেন জয়নাব পারভীন নামের মেয়েটি। তিনি এই এতিমখানা সম্পর্কে নড়াইলকণ্ঠকে বলেন, আমি এখানে আসছি অনেক ছোট থাকতে। এখানে এসে ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হই। এখান থেকে লেখা-পড়া শেষ করে দাখিল পাশ করেছি। এবার ইন্টারে ভর্তি হবো। 
তিনি আরও বলেন, এ এতিমখানায় স্বাস্থ্যসেবার নেয়ার মতো তেমন কোন সুযোগ-সুবিধা নেই। মেয়েদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দাবী এখানে অন্ত:পক্ষে সপ্তাহে ১দিন একজন ডাক্তার আসলে আমরা যারা আবাসিকে থাকি তারা স্বাস্থ্যসেবাটা নিতে পারতাম।

এতিমখানা থেকে পূনর্বাসনের মাধ্যমে বিবাহ দেয়া হয় এমন একজন এতিম মেয়ে সখিনা বেগম তিনি নড়াইলকণ্ঠকে জানান,  আমি এই এতিমখানা থেকে বড় হইছি। পরে এই এতিমখানার তত্বাবধায়নে আমাকে বিয়ে দেয়া হয়। বড় ছেলে চাকুরি করতিছে, মেয়ে বিয়ে দিছি, ছোট ছেলে আইএ পরীক্ষা দেছে। আমি এখন পরিবারের লোকজন নিয়ে খুব ভালো আছি।
     
ইসলামাবাদ দাখিল মাদ্রসায় ১০ শ্রেণিতে পড়–য়া এই এতিমখানার মেয়ে সৈয়দা সাদিয়া খানম বলেন, আমি এখানে দীর্ঘ ১০বছর এখানে আসছি। ছোট থেকে বড় হইছি এখানে। এখান থেকে ক্লাস ওয়ান থেকে এখন ইসলামাবাদ দাখিল মাদ্রসায় ১০ শ্রেণিতে পড়তেছি। তবে আমাদের আবাসিক থাকার ঘর ১টি হওয়ায় থাকতে অসুবিধা হচ্ছে। এ বিষয়টি যদি সরকার একটু দৃষ্টি দিলে আমারা যারা এখানে থাকি তাদের  জন্য উপকার হতো।      

এদিকে এতিমখানার সূত্রে জানাযায়, এই এতিমখানায় এবছর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে ৪জন। সিমানন্দপুর সরকারি প্রাইমারী বিদ্যালয়ে ১ম শ্রেণিতে ৩৬ জন, ২য় শ্রেণিতে ২৬ জন, ৩য় শ্রেণিতে ২৮ জন, ৪র্থ শ্রেণিতে ৩০ জন এবং ৫ম শ্রেণিতে ৪০ অধ্যায়নরত রয়েছেন। ইসলামাবাদ দাখিল মাদ্রসায় ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৪০ জন ৭ম শ্রেণিতে ৩০ জন , ৮ম শ্রেণিতে ৩৮ জন, ৯ম শ্রেণিতে ১৮ জন এবং ১০ম শ্রেণিতে ৮ জন এবং বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক ও মহাবিদ্যালয় ৬জন অধ্যায়নরত রয়েছে। এসব এতিম মেয়েদের সবধরণের দেখাশোনার জন্য দুইজন আবাসিক শিক্ষক রয়েছে এবং একজন বার্বুচী রয়েছে।  

সিমানন্দপুর গরীব শাহ্ জামে মসজিদের ইমাম মো: আবু জাফর এতিমখানা সম্পর্কে নড়াইলকণ্ঠকে জানান, আমি দির্ঘদিন এই এলাকায় মসজিদে ইমামতি করে আসছি, আমি যতদুর জানি এই এতিমখানার বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র বা কোন দুর্নীতি আমি দেখিনি শুনিনিও এবং এখানে যারা আছেন তারা খুব সৎ চরিত্রবান ও সম্মানিত ব্যক্তি। এখানে সেলাই মেশিন দ্বারা মেয়েদের নিজেদের পোষাক নিজেরা তৈরি করে। তাছাড়া ছাগল পালনের খামারও গড়ে তুলেছে এখানে।  

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরদার আব্দুল মজিদ এতিমখানা সম্পর্কে আমাদেরকে জানান, আজিজুর রহমান বালিকা সমাজসেবা এতিমখানার মেয়েরা আমার এখানে পড়ে এবং এখনও অধ্যায়নরত আছে। আমি দেখেছি ওই এতিমখানায় অনেক মেয়েরা থেকে লোখা-পড়া করে। কিন্তু স্বাস্থ্যসেবা তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। তবে এই মেয়েদের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য নিয়মিত চিকিৎসকের ব্যবস্থা করা উচিৎ।      

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ প্রনব বিশ্বাস বলেন, আজিজুর রহমান বালিকা সমাজসেবা এতিমখানা থেকে প্রতি শিক্ষাবর্ষে এ কলেজে ২-৩ জন স্টুডেন্ট আমরা পেয়ে থাকি। এখনও পর্যন্ত ২ জন স্টুডেন্ট এ কলেজে অধ্যায়নরত আছে। এছাড়া এবছর ৩ জন মেয়ে এইচএসচি পরীক্ষায় অংশগ্রণ করেছে। আমরা এ পর্যন্ত এই এতিমখানা থেকে যে স্টুডেন্ট পাই তারা সকলেই ভালো মেধাসম্পন্ন। এখানে জাতীয় যে অনুষ্ঠানগুলো হয় সবগুলোতেই তারা অংশগ্রহণ করে থাকে। আমাদের কলেজ থেকে গতবছর এই এতিমখানার একটা মেয়ে এ প্লাস পেয়েছে। এতিমখানাটি যদি এখানে না হতো তাহলে অনেক এতিম মেয়েরা তাদের যে পড়া-লেখা থেকে বিচ্যুত হয়ে যেতো।          

এই এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা মো: আজিজুর রহমান ভূঁইয়ার নিকট তার প্রতিষ্ঠিত এতিমখানা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি নড়াইলকণ্ঠকে জানালেন ভিন্ন কথা, দীর্ঘদিন যাবৎ এতিমখানার কার্যক্রম ভালোভাবেই চালিয়ে আসছিলাম সরকারি নীতিমালা অনুসারে। কিন্তু বর্তমান যে দ্রব্যমূল্য একজন এতিমের গ্রান্ড দিয়ে দুইজন এতিম লালন-পালন করা আমাদের পক্ষে খুবই অসম্ভব। ইতিমধ্যে এই এতিমখানা থেকে দু’শর মতো মেয়ের চাকরী এবং পূর্ণবাসিত হয়েছে।  

সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রতন কুমার হালদার নড়াইলকণ্ঠ বলেন, বেসরকারিভাবে এতিমখানা গড়ে তোলার প্রথমত: বা প্রধান শর্ত হলো, ‘সরকারের সাথে পাবলিকের পার্টনাশীপ প্রোগ্রাম। অর্থাৎ সরকার যদি একজন এতিমের খরচ দেয়, তাহলে আরেকজনের খরচ দিবে বেসরকারিভাবে গড়ে তোলা এতিমখানার কর্তৃপক্ষ। এ জেলায় এই নিয়মে সরকারি ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ড বরাদ্দ নিয়ে কাছ করছে মোট ৩৯টি বেসরকারি এতিমখান। এরমধ্যে বালিকা এতিমখানা রয়েছে সদরে ১টি, লোহাগড়ায় ১টি এবং কালিয়ায় ১টি। সরকার প্রতিবছর এ জেলার এই ৩৯টি এতিমখানার মোট ১০৯৬ জন এতিমকে লালন পালনের জন্য ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ড হিসেবে বরাদ্দ দেয় ২ কোটি ৬৩ লক্ষ ০৪ হাজার টাকা।

এ ছাড়া নড়াইল জেলা সদরে শুধু ছেলেদের নিয়ে শিশু পরিবার নামে এতিমখানা সরকারিভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। 

তিনি আরও জানান, দেশের কোন কোন জেলায় মেয়েদের জন্য একটা আর ছেলেদের জন্য একটা পৃথক এতিমখানা সরকারিভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু নড়াইলে সেই সুযোগটা নেই। যে কারণে এ জেলার মেয়ে এতিম শিশুরা সরকারিভাবে থাকা, লেখা-পড়াসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। 

এ প্রসঙ্গে উপ-পরিচালক রতন কুমার হালদার বলেন, অনেক সময় আমাদের কাছে এতিম মেয়ে শিশুদের অনেক আবেদন পাওয়া যায়। পার্শ্ববর্তী জেলায় বালিকা এতিমখানায় ভর্তির পরামর্শ দিলে অভিভাবকরা প্রায়ই দূরত্বের কারণে অনীহা প্রকাশ করেন। সেক্ষেত্রে আমরা সেগুলো জেলায় বেসকারিভাবে পরিচালিত এতিমখানায় ভর্তি করার জন্য পাঠিয়ে দিয়ে ওই বালিকা এতিমখানার কর্তৃপক্ষ বলে দেই। সে ক্ষেত্রে আমি মনে করি শুধু মেয়ে শিশুদের নিয়ে গড়ে উঠা বেসরকারি এতিমখানা গুলো সরকারের সহযোগি হিসেবে কাজ করছে। এক্ষেত্রে আজিজুর রহমান ভূঁইয়া বালিকা সমাজসেবা এতিমখানা যথেষ্ট ভূমিকা রেখে আসছে। এছাড়া সরকারি বিধিবিধান ও শর্ত মেনে এতিমখানা সমূহ পরিচালিত হচ্ছে কিনা সে ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং সমাজসেবা অধিদপ্তর নিয়মিত ও আকস্মিক পরিদর্শন ও মনিটরিংসহ প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়ে থাকে।

উল্লেখ্য, এতিমরা সমাজেরই একজন। এদের কারোর হয়তো বাবা নেই, নেই কারোর মা, আবার এদের অনেকেরই হয়তো বাবা-মা দুজনের কেউই নেই। এরা শিশুকাল থেকেই বাবা-মা’র ¯েœহ, আদর, ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত। এভাবে অবহেলা ও অনাদরে বেড়ে উঠা এই এতিম শিশুরা। একেতো এতিম.. তারপরও এতিম কন্যা শিশু। পরিশেষে এদের মাথা গোজার ঠাই হয় কোন এক বড়লোকের বাসাবাড়িতে কাজের লোক হিসেবে.. .. অথবা এমন কোন একটি এতিমখানায়।

সে ছোট অবস্থায় তার বাবাকে হারিয়েছে, হারিয়েছে তার রক্ষণাবেক্ষণকারী ও পথ প্রদর্শনকারীকে। এজন্য তার বিশেষ প্রয়োজন এমন একজন ব্যক্তির যে তার খরচ যোগাবে, দেখাশুনা করবে, তার সাথে ভাল ব্যবহার করবে, তাকে নসিহত করবে, উপদেশ দিবে এবং সৎপথ প্রদর্শন করবে। যাতে মানুষের মত মানুষ হতে পারে, পরিবারের জন্য কল্যাণকর কর্মী এবং সামাজে জন্য দরদী ও উপকারী হতে পারে।

আর যদি এতিমের প্রতি অবহেলা করা হয় দায়িত্ব না নিয়ে তার অবস্থার উপর ছেড়ে দেয়া হয়। তার যদি কোনো পথ প্রদর্শক ও রক্ষণাবেক্ষণকারী না থাকে, তাহলে সে বিপথগামী হয়ে যেতে পারে। পরিশেষে সমাজের বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আর সে ক্ষেত্রে এ সমাজই দায়ী হবে। কেননা তার হক আদায়ের ব্যাপারে সমাজ অবহেলা করেছে এবং দায়িত্ব পালনে কমতি করেছে। তাই এতিম প্রতিপালন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।