• 16 Jul, 2024

বেওয়ারিশ নড়াইলের কাজলা নদী, থামছে না দখলবাজদের দৌরাত্ব!

বেওয়ারিশ নড়াইলের কাজলা নদী, থামছে না দখলবাজদের দৌরাত্ব!

দখলবাজ, দূর্বৃত্তায়ন দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ব যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে।

নড়াইলকণ্ঠ : দখলবাজদূর্বৃত্তায়ন দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ব যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক অবস্থান আরও সমৃদ্ধ করতে বার বার দুর্নীতিকে জিরোটলারেন্স ঘোষণা দেয়া সত্বেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাব্যক্তিরা নানা ওজুহাত দেখিয়ে যে যখন চেয়ার আসিন হচ্ছেন তখন সে যতটুকু পারেন হাতিয়েনেয়ার চেষ্টার কার্পণ্যতা করছেন না তারা।এমনই নাজুক পরিস্থিতি ঘটে চলেছে নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর  মাইজপাড়া ইউনিয়নের মধ্যদিয়ে বয়ে যাওয়া কাজলা নদীকে ঘিরে। মালিকবিহীন এই কাজলা নদীর অভ্যন্তরে অসংখ্য ছোট বড় মাছের ঘের গড়ে উঠেছে।প্রভাবশালীরা নদীতে বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে তুলারামপুরের দেবীপুর এবং মাইজপাড়ার হোসেনপুর এলাকায় এসব মাছের ঘের তৈরী করা হয়েছে।অবৈধ দখলদারদের অধিকাংশই ওই এলাকার সন্ত্রাসীর প্রকৃতির হিসেবে পরিচিত বলে এলাকার মানুষের অভিযোগ।তারা নদীর মধ্যে বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে গড়ে তুলেছে এসব মাছের ঘের।

মালিক বিহীন নড়াইল সদরের কাজলা নদীদেখার কেউ নেইসবাই যেন ঠুটোজগন্নাথদখলবাজদের দৌরাত্ব বেড়েই চলেছে এমন খবর শুনে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় নদীর অভ্যন্তরে প্রকাশ্যে গড়ে উঠেছে এসব অবৈধ মাছেরঘের।স্থানীয়রা জানান ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ওই এলাকার এক শ্রেণির লোকজন নদী দখল করে অসংখ্য মাছের ঘের তৈরি করছে।নগদ প্রাপ্তিযোগে নিদ্রাকুসুম তৈলমর্দন হইয়া সংশ্লিষ্ট মহল কর্ণে তুলো দিয়েছেন বলে অভিযোগ এলাকবাসির।বার বার স্থানীয়রা দখলবাজদের বিরূদ্ধে অভিযোগ দিলেও কোনব্রুপক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্টদের।তবে একটি সূত্রের দাবি দখলবাজদের তালিকায় থাকা প্রত্যেককেই নজরানা দিতে হয়েছে।আর সে কারনেই তারা স্বাচ্ছন্দে নদী দখল করে মাছ চাষ করছেন।

এমনকি তুলারামপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা  মাইজপাড়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তার চাহিদা মত প্রসাদ দিয়ে দখলবাজরা তাদের আশির্বাদ নিয়েছেন। তাইতো প্রকাশ্যে চলছে নদী দখলের মহচ্ছব।ইতোমধ্যে অনেকে নদী পাড়ে থাকা সরকারি মূল্যবান গাছ নিজের মনে করে কেটে নিয়েছেন।অবশ্য নায়েব সাহেব নিজরে হিস্যাটা ঠিক মত বুঝে নিয়েই গাছ কাটার মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন।নদী দখল নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ স্থানীয় নায়েব অফিস হতে শুরু করে জেলা প্রশাসন পর্যন্ত পৌছলেও কোন কাজহচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সকলেই যেন নদী দখল নিয়ে কেউ কিছু বলতে গেলে অন্ধের অভিনয় করছেন।দেখেও না দেখার ভান করছেন। দখলবাজদের কিছুই বলছেন না।বরং তাদের সাথে খোশ গল্প করছেন,ভবিষ্যতে আরোও কিছু পাওয়া আশায়।

সরকারি সম্পত্তি সরকারের প্রতিনিধিদের সামনেই চিহিৃত ভূমিদস্যুরা জবরদখল করে খাচ্ছে।সেই সাথে অনেক নিরীহ জনসাধারনকে তারা হয়রানী করছে। অথচ দখলবাজদের পক্ষে অনেকে ছাফাই গাইছেন।

তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লীচরপেড়লী,দেবীপুর গ্রামের লিটুজান্নাতইশপাকুলরুহল আমিনমুক্তারমনিরস্কুল শিক্ষক মহিতোষবিপ্লবমিজানুরআর্সাদরিপনখয়বরসহ আরো অনেকে এসব মাছের ঘের কেটেছেন। এদিকে মাইজপাড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের বাবু খাননাজমুলমুজিবরছলেমানমফিজুরহাফিজুরসাফায়েতআনারুলসোবহান শিকদাররকিব মাওলানানবীর মোল্যাকামরুল মোল্যা সহ আরো অনেকেই কাজলা নদী দখল করে অবৈধ ভাবে মাছের ঘের কেটেছেন।পেড়লী গ্রামের মনির হোসেন জানান,অনেকেই নদী দখর করে বড় বড় ঘের করেছেন।সেই তুলনায় তিনি ছোট ঘের করেছেন।তাছাড়া তিনি নায়েব সাহেব  ডিসি অফিসে কথা বলে ঘের কেটেছেন বলে দাবি করেন।মাইজপাড়া ইউনিয়নের নায়েব বলেনকিছু বলতে গেলে দখলবাজরা সরকারি দল  বড় নেতাদের কথা বলে হুংকারদেয়। আজেবাজে কথা বলে। আবার বলে প্রশাসনের বড় জায়গায় তাদের সবকিছু বলা আছে।এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে সমস্যা হবে। তাই দখল ঠেকানো যাচ্ছে না।

তুলারামপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েবআনন্দ মোহন জানানতিনি সরজমিনে গিয়ে অবৈধ দখলদারদের ঘের করতে নিষেধ করেছেন এবং ঘের করা মাটি পাড়ে তুলে দিতে বলেছেন। কিন্তু দখলবাজরা তাকে পাত্তা দেয়নি।বিষয়টি তিনি এসি ল্যান্ড  জেলা প্রশাসকের কাযালয়ে জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেননদীর জায়গা মেপে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।তবে উপর মহল হতে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আবার তাকেও কোন ব্যবস্থা নেয়া নির্দেশ দেয়া হয়নি।এমন পরিস্থিতিতে দখল চলছেই।

এদিকে সচেতন মহলের অভিযোগ প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রকাশ্যে সরকারি সম্পত্তি দখলের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় তারা অনেক আগেই আস্থা হারিয়েছেন

 কারনে তারা নদী দখল ঠেকাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।