নড়াইলকণ্ঠ : বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির দুদকের আবেদন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ আদালতে সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আবেদন করেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন কোম্পানিকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আবুল বারকাতের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানে তার নামে বিভিন্ন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, আবুল বারকাতের নামে প্রায় ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৪ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা প্রায় আড়াই লাখ টাকাও রয়েছে।
এছাড়া রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডিতে তার নামে থাকা দুটি ফ্ল্যাট আদালতের নির্দেশে জব্দ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে তার নামে থাকা প্রায় ২৯ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি জব্দ এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থ অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, আবুল বারকাতের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তার নামে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ ৩১ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ এবং ১০ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলারের সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদক আশঙ্কা করছে, অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগেই এসব সম্পদ বিক্রি, হস্তান্তর বা অন্যত্র স্থানান্তরের চেষ্টা করা হতে পারে। ফলে মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
এ কারণে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ১৪ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর বিধি ১৮ অনুযায়ী সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আবেদন করে দুদক।
এর আগে ২০২৫ সালের ১০ জুলাই ঢাকার ধানমন্ডির বাসা থেকে দুদকের একটি মামলায় আবুল বারকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে ওই মামলায় তিনি জামিন পান। এরপর তাকে ব্যবসায়ী ওয়াদুদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ওই মামলাতেও জামিন পাওয়ার পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।