ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে; ড. মসিউর রহমান

115

নড়াইলকন্ঠ : প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সীমানা এবং সম্পর্ক এত ঘনিষ্ট যে একে কোন সুক্ষ মাপকাঠি দিয়ে মাপা সম্ভব নয়। এই সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে। তিনি
আজ সকালে খুলনা সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধাদের পোষ্যদের মাঝে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার প্রবর্তিত মুক্তিযোদ্ধা স্কলারশীপ স্কীমের চেক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। ভারতীয় হাই-কমিশন এবং মুক্তিযুদ্ধ একাডেমীর যৌথ আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিভিন্ন সময় মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের মাধ্যমে ভাঙ্গার চেষ্টা করা হয়েছে।
কিন্তু দু’দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতিক এতটাই অভিন্ন যে বিদ্যমান সম্পর্ক দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রবর্তিত এই মুক্তিযোদ্ধা স্কলারশীপ স্কীম তারই একটি প্রকাশ।তিনি বলেন, দু’দেশের মধ্যে ছোটখাট মতপার্থক্য থাকতেই পারে কিন্ত সম্পর্কের মূল ভিত্তি হবে কিভাবে আমরা একে অপরের কাজে আসতে পারি। তিনি সকল ক্ষেত্রে সহমর্মিতা এবং পারস্পরিক বোঝাপাড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ভারত সরকার ২০০৬ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরীদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা স্কলারশীপ স্কীম চালু করে। এ প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে যার আর্থিক মূল্যমান ১৫ কোটি টাকা। এবছর ছয়শতরও বেশি স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পাঁচটি বিভাগের ৫৭০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।
আজ খুলনা অঞ্চলের ৩০জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বৃত্তির চেক বিতরণ করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে তিনি ভারত সরকার কর্তৃক গৃহীত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তিনটি কল্যাণমূলক প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। যার মধ্যে রয়েছে মাল্টিপল-এন্ট্রি সুবিধাসমেত পাঁচ বছর মেয়াদী ভারতীয় ভিসা প্রদান, ভারতের হাসপাতালগুলোতে প্রতিবছর একশ মুক্তিযোদ্ধার জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষাবৃত্তি প্রকল্প আরও পাঁচ বছরের জন্য সম্পসারণ করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক চিরদিন অবিচ্ছেদ্য থাকবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির হিসেবে আরও বক্তৃতা করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুস সামাদ, বীরমুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ এনায়েত আলী, খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ এবং খুলনা মহানগর মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার অধ্যাপক আলমগীর কবির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা একাডেমির চেয়ারম্যান ড. আবুল আজাদ।
এ সময় অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জে এস নন্দাসহ হাইকমিশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্নি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কমান্ডারবৃন্দ।