ভালোবেসে বিয়ের দুই মাসের মাথায় স্বামী-স্ত্রীর আত্মহত্যা

34

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঝিনাইদহ): মরণরে তুহু মম শ্যঅম সম। কথাটি মরিই প্রমাণ দিয়েছেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কালীচরণপুর ইউনিয়নের হাটবাকুয়া গ্রামের রমজান হোসেন রুজিব (২০) ও তার স্ত্রী মুক্তা খাতুন (১৮) ভালোবেসে ঘর পেতেছিলেন সারাজীবন আর এক সঙ্গে থাকবেন এ আশায়, গড়ে তুলবেন সুখের সংষার। কিন্তু তাদের স্বপ্ন-সাধ কিছুই পূরণ হলো না। বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টার দিকে গ্রামের মাঠ থেকে স্বামী-স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে ঝিনাইদহ পুলিশ। তাদের বুকে ও হাতে মেহেদী দিয়ে লেখা ছিল ‘আমি মুক্ত ও রুজিব, আমরা চলে যাচ্ছি। আমাদের মৃত্যুর জন্য পরিবার দায়ী। সব আমার মায়ের দোষ, আমরা চলে যাচ্ছি”।

এলাকাবাসি পরিবার সূত্রে জানা যায়, রমজান হোসেন রুজিব (২০) সদর উপজেলার তালতলা হরিপুর গ্রামের চমু শেখের ছেলে এবং মুক্তা খাতুন (১৮) হরিণাকুন্ডু উপজেলার বিন্নি গ্রামের গোলাম হোসেনের মেয়ে। রমজান হোসেন শহরের হামদহ এলাকার একটি মটর গ্যারেজে কাজ করতেন।

তাদের মতে, পরিবারের অজান্তে প্রায় দুই মাস আগে রমজান হোসেন প্রেমের সম্পর্কের জেরে মুক্তা খাতুনকে বিয়ে করেন। এরপর থেকেই উভয় পরিবারের লোক তাদের সম্পর্ক মেনে না নেয়ায় উভয় পরিবারের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার সকালে মুক্তা খাতুনকে তার বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া কথা ছিল। এরই জেরে রমজান ও মুক্তা গেল রাত ২ টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে সকালে বাড়ির পাশ্ববর্তি হাটবাকুয়া গ্রামের মাঠের একটি মেহগনি গাছ থেকে তাদের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় আখি খাতুন জানান, “ছেলেটা দুই মাস হয়েছে বিয়ে করেছে। প্রথম দিকে কয়েকদিন পর তাদের সম্পর্ক মেনে নিয়েছিল পরিবারের লোকজন। কিন্তু এর কয়েকদিন পর মেয়ের পরিবারের লোকজন ছেলের বাড়িতে আসলে শুরু হয় বিপত্তি। সেসময় থেকেই তারা আবার মুক্তা ও রুজিবের সম্পর্কে বাধা দিতে থাকেন। পৃথক করে দিতে চায় তাদের। আজ মুক্তাকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল বাবার বাড়ির লোকজনের।
কিন্তু রমজান ও মুক্তা এক সাথে থাকতে চায়। আর হয়ত এ জন্য হয়তো তারা আত্মহত্যা করেছে”।

রুজিবের বড় ভাই রবিউল ইসলাম শেখ বলেন, আমরা রাতের খাবার খেয়ে যার যার রুমে ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে খবর পাই তারা দুজন মাঠের একটি মেহগুনি গাছের ডালে রশিতে ঝুলে আত্মহত্বা করেছে ।

মুক্তা খাতুনের বাবার বাড়ির লোকেরা জানান, দুই মাস আগে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের আগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আজ আমাদের মেয়েকে এখান থেকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেনো তারা আজ এ কাজ করলো এর উত্তর তাদের জানা নেই।

স্থানীয় নারিকেলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বিল্লাল হোসেনস্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গাছের সঙ্গে মেয়ের ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই স্বামী ও স্ত্রীর মরদেহ ঝুলছিল। পারিবারিক কলহের জেরে এই আত্মহত্যার ঘটনা বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।