ঐতিহ্যবাহী ‘বাফলা বিল’ উন্মুক্ত রাখার দাবি

22

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে রনচন্ডি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এক গ্রামের নাম বাফলা। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বিশাল এক জলাধার। ওই গ্রামের নামেই বিলটির নামকরণ করা হয়েছে বাফলার বিল। এক সময়ের দেশীয় মাছের ভান্ডারখ্যাত ঐতিহ্যবাহী বাফলার বিলটি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে বাফলা বিলের ওপর নির্ভরশীল প্রায় এক হাজার পরিবারের দিন কাটছে অনেক কষ্টে। বাফলা বিল উন্মুক্ত রাখার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জেলে পরিবারের সদস্যরা। 

শনিবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে বাফলা বিল এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে দক্ষিণ বাফলা দাস পাড়া মৎসজীবী সমবায় সমিতি ও হলাইপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় চাঁদ কিশোর রায়, আব্দুর রহমান, আজাদ আলী, রথি কান্ত রায় প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বিলটি দখলে নিয়ে জেলেদের সেখানে নামতে দিচ্ছেন না। কেউ সেখানে গেলে তাকে নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এই বিলে শীতে অতিথি পাখি আসে। বছরের বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করে বিলটি। এসব দেখতে শত শত দর্শনার্থী প্রতিদিন বিল পাড়ে ভিড় করতেন।

বিলটিকে বাঁচানো ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য দখলকৃত জমি উদ্ধার এবং খনন করে বিলের চারদিকে দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি। এ বিলটি হতে পারে নীলফামারীর মনোমুগ্ধকর বিনোদন কেন্দ্র। এর ফলে দেশীয় মাছের বংশ বৃদ্ধি, অতিথি পাখির নিরাপদ বাসস্থান ও সাদা পদ্ম ফুলের নকশী কাথার চিরচেনা রূপও ফিরে আসবে। এ বিলকে চিরচেনা রূপ ও প্রাণ ফেরাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন এ বিলের ওপর নির্ভরশীল জেলেরা।

জেলে চাঁদ কিশোর রায় বলেন, আগে বড় বড় শোল, বোয়াল মাছ পাওয়া যেত। বিলের জমি বেদখল হওয়ায় এখন আর আগের মতো  মাছ পাওয়া যায় না। এর ফলে আমরা দুর্বিসহ জীবনযাপন করছি।

আরেক জেলে রথি নাথ বলেন, এই বিলের ওপর প্রায় ১ হাজার পরিবার নির্ভরশীল। বিলটি রক্ষা করে আমাদের জেলে পরিবারগুলোকে বাঁচানো উচিত।

সোহরাব নামে আরেক জেলে বলেন, বিলের জমি কতিপয় ব্যক্তি দখল করে আইল দিয়ে বিলটিকে ছোট করে ফেলছে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর-ই-আলম বলেন, বাফলার বিলটি ঐতিহ্যবাহী একটি বড় বিল। বিলটির অনেকাংশ ভরাট হয়েছে। এটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। সম্প্রতি বিলের জমি পরিমাপ করা হয়েছে। এটি খননের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনুরোধও করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিলটি উদ্ধার করা সম্ভব হলে মৎস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে শুধু কিশোরগঞ্জ উপজেলার জন্য নয় নীলফামারী জেলার জন্য বড় অবদান রাখবে। এখানে পর্যটনেরও অপার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এখানে বর্ষায় পদ্ম ফুল ফোটে, আর শীতে অতিথি পাখির মেলা বসে।