নড়াইলে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন সেনাপ্রধান

166

নড়াইলকণ্ঠ ॥ মধুমতি পাড়ে করফা গ্রাম। এই মধুমতি পাড়ের করফা গ্রাম বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ এর পৈত্রিক ভিটাবাড়ি। গ্রামের অধিকাংশই নদী ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে গিয়েছে। শিকড়ের টানে সেনাপ্রধান হিসেবে এই করফা গ্রামের সন্তান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ২০২১ সালের ২৪ জুন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার প্রথম এসেছিলেন পৈত্রিক ভিটাবাড়ি এলাকায় আসেন এবছরের জানুয়ারি মাসের ৪ তারিখে। এবার দ্বিতীয়বারের মতো উৎফুল্লতার সাথে সেনাপ্রধান সস্ত্রীক পৈত্রিক ভিটাবাড়ি ঘুরে গেলেন এক নতুন চেতনায়।

মঙ্গলবার (০৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় সেনাপ্রধান শফিউদ্দিন আহমেদ ও মিসেস নূর জাহান আহমেদকে নিয়ে পৈত্রিক ভিটায় নির্মাণধীন ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ হাসপাতালের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন।

এসময় নির্মাণাধীন হাসপাতালের কাজ সম্পর্কে ব্রিফিং করেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী, পরে সেনাপ্রধান হাসপাতালের কাজ ঘুরে ঘুরে দেখেন। এরপর ভিটাবাড়ি সংলগ্ন সর্বনাশা মধুমতি নদী পরিদর্শন করেন।

সেনাপ্রধানকে এক নজর দেখার জন্য শত শত মানুষ ভিড় করে। এসময় তিনি এলাকার মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে আজকে এখানে আসতে পেরে। এসেছিলা বেসিক্যালি আমাদের এখানে রেলওয়ে প্রজেক্টের কাজ আছে, আমদের শতিকালিন প্রশিক্ষণের কিছু কাজ আছে এবং ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট্রের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম দেখতে এসেছিলাম। তার ভিতরে পিতৃপুরুষের বাড়ি এখানে। এইসব মানুষের সমাগম দেখে খুবই ভালো লাগলো। মানুষের ভালোবাসা এটা ভাগ্যের ব্যাপার। নিজেকে সৌভাগ্রবান মনে হচ্ছে। মহান আল্লাহতালার কাছে কৃতজ্ঞতা। আমি সেই সাথে এই সম্মান দেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞতা, তিনি আস্তা রেখেছেন বলেই আমি সেনাপ্রধান।

সেনাপ্রধান আরও বলেন, যে সমস্ত কর্মকান্ডে মানুষের উপকার হবে, সেধরণের যে কোন প্রজেক্ট করার সুযোগ পেলে অবশ্যই আমরা করবো। আমরা সেই সমস্ত সুযোগ খুঁজছি (We are looking for that opportunity) স্কুল, কলেজ, শিক্ষা ব্যবস্থায় হেল্প করা , স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় হেল্প করা, দৈনন্দিন লিভিং স্ট্যান্ডার ইমপ্রুভ করার জন্য হেল্প করতে পারি।

রেলওয়ে প্রজেক্টের অগ্রগতি সর্ম্পকে সেনাপ্রধান সাংবাদিকদের জানান, রেলওয়ের অগ্রগতি বলতে গেলে বলতে হয় এটা ভালই অগ্রমান হয়েছে। ইতিমধ্যে ৭০% কাজ হয়েগেছে। টুটাল কাজ ২০২৪ সালের জুন নাগাত শেষ হবে বলে জানান তিনি। ২০২৪ সালের জুনে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ১৭২ কিলোমিটার রেলপথের নির্মাণ কাজ শেষ হবে। এতে রাজধানীর সঙ্গে সংযুক্ত হবে দক্ষিণ-পশ্চিমের ৯টি জেলা বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

পরে সেনাপ্রধান মল্লিকপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের কার্যক্রম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রোকন উদ্দিন আহমেদ ভবন উদ্বোধন করেন। সেনাপ্রধানের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম অধ্যাপক এস এম রোকন উদ্দিন আহমেদ এর নামে একটি শিক্ষা ট্রাষ্ট চালু করা হবে বলে ঘোষণা দেন। সেই ট্রাষ্ট থেকে অসহায় ও মেধাবীরা প্রতিবছর ১০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষাবৃত্তি পাবে। এসময় বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য সেনাপ্রধান ২০ লক্ষ টাকা প্রদানের ঘোষনা দেন।

দুপুরে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২০ বছরপূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা “অঙ্কুর” এর মোড়ক উন্মোচন করেন। এসময় তিনি স্কুলে একটি জীম প্রতিষ্ঠার সবধরণের চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দেন এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য ১৫ লক্ষ টাকা অনুদান ঘোষণা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, জেলা আ’লীগের সভাপতি ও নবনির্বাচিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আজগর আলী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুন্সী আলাউদ্দিন, লোহাগড়া পৌর মেয়র ও উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ মসিয়ুর রহমান প্রমুখ।

এরপর তিনি লোহাগড়া সরকারি আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের বিএনসিরি কুজকাওয়াজ পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্টাদের সাথে মতবিনিময় করেন।

সকালে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ও তার স্ত্রী নুরজাহান আহমেদ সড়ক পথে পদ্মা ও মধুমতি সেতু পার হয়ে লোহাগড়ার মধুমতি আর্মি ক্যাম্পে পৌঁছান। এসময় যশোর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো: মাহাবুবুর রহমান, পদ্মা বহুমুখী রেল প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়ক মেজর জেনারেল মো: রেজাউল মজিবসহ উদ্ধর্তন সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।