সর্বজনীন পেনশন ও পূর্ণরেশনিং চালুর দাবীতে নড়াইলে খেতমজুর ইউনিয়নের কর্মীসভা

51

নড়াইলকণ্ঠ ॥ শর্তমুক্ত সর্বজনীন পেনশন ও পূর্ণরেশনিং ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দাবি সামনে রেখে বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন নড়াইলে জেলা কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (০৫ নভেম্বর) বিকালে সদরের আউড়িয়ায় অমল সেন ডিজিটাল লাইব্রেরিতে এ কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি মুস্তফা লুৎফুল্লাহ (এমপি), বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও বালাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি নড়াইল জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, বালাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি নড়াইল জেলার সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইনসলাম, আকমল হোসেন প্রমুখ।

কর্মীসভায় বক্তারা বলেন, শর্তমুক্ত সর্বজনীন পেনশন ও পূর্ণরেশনিং ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দাবিতে প্রতিটি ইউনিয়নে ইউনিয়নে কর্মী কাজ করতে হবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এ দাবী সমূহ আদারের লড়াই জোরদার করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, একই সাথে জমি, কাজ, মর্যাদা ও দুর্নীতি বিরোধী লড়াই জোরদার করার লক্ষ্যে গ্রামে-গঞ্জে সংগঠন গড়ে তুলতে হবে।

উল্লেখ্য, সরকার ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নাগরিকের জন্য সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন। এ বছরের মধ্যে এই ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে বলে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন। প্রথম দিকে এই ব্যবস্থা ঐচ্ছিক হবে। অর্থাৎ যাঁর ইচ্ছা তিনি এই পেনশন স্কিমে যুক্ত হবেন। পরবর্তীতে এটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যানুসারে শুরুতে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মীরা এই কর্মসূচির বাইরে থাকবেন। কারণ তাঁরা এরই মধ্যে পেনশন সুবিধা পাচ্ছেন। গেল কয়েক বছর ধরেই অর্থ বিভাগ একটি সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করে আসছিল। গেল ১৭ ফেব্রুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ষাটোর্ধ্ব নাগরিকদের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর নির্দেশনা দেন। সেই সঙ্গে এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নেরও তাগিদ দেন। একই দিন গণভবনে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার’ ওপর একটি কৌশলপত্র উপস্থাপন করেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২১ সালের খসড়া হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ৪৬ লাখ ৫৯ হাজার ৫১০। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী ১৪ লাখের বেশি। তাঁদের বাদ দিলে আগামী এক বছরে সরকার প্রায় ৮ কোটি ৩২ লাখের বেশি মানুষকে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আনতে চাচ্ছে। অর্থমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, পেনশনব্যবস্থা সম্পর্কে সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে বলা আছে- বার্ধক্যজনিত কারণে যাঁরা অভাবগ্রস্ত হবেন, তাঁদের এই সুবিধা দেওয়া হবে। এই অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য সাহায্যের প্রয়োজন হবে। এই সাহায্য পাওয়া রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার।