বিদ্যালয় সংস্কারের অর্থ আত্মসাৎ, প্রধান শিক্ষকের নামে মামলা

43

রংপুরের বদরগঞ্জে দলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় সংস্কারের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জাল স্বাক্ষর করে প্রতারণার মাধ্যমে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন করেছেন। কিন্তু সেই অর্থ তিনি বিদ্যালয় সংস্কার কাজে ব্যয় করেননি।

জানা গেছে, উপজেলার দলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কারে ২০২০ সালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু বিদ্যালয় পরিচালনা (ব্যবস্থাপনা) কমিটির তৎকালীন সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে না জানিয়ে তার স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করেন প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম। শুধু তাই নয়, তিনি বিদ্যালয়ের কোনো কাজ না করেই পুরো অর্থই আত্মসাৎ করেন।

ঘটনাটি জানাজানি হলে তৎকালীন স্কুল কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বদরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। তার লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি লিখিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের নামে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়।

ঘটনার দুই বছর পর এ বছরের গত ১৩ সেপ্টেম্বর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ ইস্যু করেন। ওই নোটিশে বলা হয়েছে, বদরগঞ্জের দলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পীরগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতিকুর রহমানকে বিভাগীয় মামলার তদন্তভার অর্পণ করেন।

এদিকে অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বেলা ১১-১২টার দিকে স্কুলে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই স্কুল ত্যাগ করেন। এটা তার নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা বলে সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের বিস্কুট কেলেঙ্কারির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম কথা বলতে রাজি হননি।

বদরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, আমরা তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ওঠা সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছি। এরপর সিরাজুল ইসলামকে জেলা অফিস থেকে তলব করা হলে তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।