মালয়েশিয়া থেকেই অনুপ্রেরণা নিচ্ছে বাংলাদেশ

21

দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে বাংলাদেশ একবারই ফাইনাল খেলেছে। বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা বয়সভিত্তিক পর্যায়ে দক্ষিণ এশিয়ার সেরার মঞ্চে কয়েকবার শিরোপা জিতলেও জাতীয় দলের সাফের দৌড় সেই একবারের ফাইনালেই সীমাবদ্ধ। ভারত এবং নেপালের মধ্যেই ফাইনাল হয়েছে ৫ বার।

সাবিনা খাতুন ছাড়া বাংলাদেশ দলে সিনিয়র খেলোয়াড় তেমন নেই। অধিকাংশই বয়সভিত্তিক দলের ফুটবলার। তিন বছর আগে এই নেপালেই বিরাটনগরে বাংলাদেশের ফুটবলাররা অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে পারফর্ম করেছেন। তিন বছর পর বাংলাদেশের ফুটবলারদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে মনে করেন কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন, ‘তিন বছরে আমাদের খেলোয়াড়রা আরো বেশি অভিজ্ঞ এবং পরিপক্ব হয়েছে। সব দিক থেকেই তারা উন্নতি করেছে। কিছুটা হলেও ভারত এবং নেপালের থেকে ব্যবধান কমেছে আশা করি।’

বাংলাদেশের ফুটবলাররা বয়সভিত্তিক পর্যায়ের বেশি হলেও অভিজ্ঞতা কম এই কথা বলার সুযোগ নেই বলে মনে করেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন, ‘আমাদের খেলোয়াড়রা অ-১৬, ১৮ দলের হলেও তারা অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। ফলে তাদের ম্যাচ টেম্পারমেন্ট কোনো অংশে কম বলা যাবে না।’

বাফুফের নারী উইং সাফের আগে নারীদের প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা করেছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রতিশ্রুতি দিয়েও শেষ পর্যন্ত আসেনি। তাই মালয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলা দুই ম্যাচেই বাংলাদেশের অনুপ্রেরণা মনে করেন মহিলা উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ, ‘মালয়েশিয়ার বিপক্ষে আমরা দু’টি ম্যাচ খেলেছি। দু’টি ম্যাচেই আমরা ভালো ফলাফল করেছি। সেই দুই ম্যাচ আমাদের জন্য এই টুর্নামেন্টে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।’

বাফুফের ট্যাকনিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলি ২০১৭ সাল থেকে নারী দলের সঙ্গে ছিলেন। পল আগামীকাল সাফ অ-১৭ দল নিয়ে শ্রীলঙ্কা যাচ্ছেন। পল স্মলির অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন বলেন, ‘স্যার না গেলেও আমাদের সঙ্গেই আছেন। ২০১৬ সালে আমি, লিটু অন্যরা দল পরিচালনা করেছি। আমাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে, সমস্যা হবে না।’

সাফে বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে পাকিস্তান, ভারত ও মালদ্বীপ। ভারত এই গ্রুপের টপ ফেভারিট। বাংলাদেশ এই গ্রুপের রানার্স আপ হলে সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে খেলতে হতে পারে। বাংলাদেশের কোচ প্রথম দুই ম্যাচ নিয়েই ভাবছেন সবার আগে, ‘আগে আমরা মালদ্বীপ ও পাকিস্তানের সঙ্গে জিতে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে চাই।’

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে নেপালের উচ্চতা সফরকারী দলগুলোর জন্য সব সময় উদ্রেকের কারণ। ৬ আগস্ট টুর্নামেন্ট শুরু। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ৭ আগস্ট মালদ্বীপের বিপক্ষে। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ মানিয়ে নিতে পারবে বলে মনে করেন কোচ, ‘আমরা পরশু দিন রওনা হচ্ছি। এক সপ্তাহ অনুশীলন করলে বিষয়টি আমাদের ফুটবলারদের কাছে স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’