রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে কাজ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

14

রোহিঙ্গারা যেন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের জীবন পুনর্গঠন করতে পারে, সেজন্য দেশটি তাদের পুনর্বাসনে কাজ করছে।

স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ আগস্ট) রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী (সেক্রেটারি অব স্টেট) অ্যান্টনি ব্লিনকেনের দেওয়া বিবৃতিটি দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, পাঁচ বছর আগে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে একটি নৃশংস অভিযান শুরু করেছিল। তারা সেখানে গ্রামগুলো ধ্বংস করে, ধর্ষণ, নির্যাতন ও বড় আকারের সহিংসতা ঘটায়। হাজার হাজার রোহিঙ্গা পুরুষ-নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয়। ৭ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা তাদের বাড়িঘর ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

এতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের অব্যাহত সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। কেননা তারা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপদে তাদের নিজ ভূম মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারবে না। মিয়ানমার, বাংলাদেশ এবং এ অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১ দশমিক ৭ বিলিয়নের বেশি সহায়তা দিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার এবং এ অঞ্চলের অন্যান্য রোহিঙ্গাদের দেখভাল করা সরকারদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি আন্তর্জাতিক ও মানবিক ইস্যু বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে কাজ করছে, যাতে রোহিঙ্গারা সেদেশে (যুক্তরাষ্ট্র) তাদের জীবন পুনর্গঠন করতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা ও মিয়ানমারের সব জনগণের ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশটি মিয়ানমারে একটি স্বাধীন তদন্ত প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে উন্নত করার জন্য মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ক্রিয়াকলাপের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা প্রচারের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পদক্ষেপকে সমর্থন করে। দেশটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিয়ানমারের পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বার্মার পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ সমর্থন করবে।

পাশাপাশি রোহিঙ্গা ও মিয়ানমারের জনগণকে তাদের স্বাধীনতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি এবং মিয়ানমারের সব ব্যক্তির মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় সমর্থন অব্যাহত রাখবে।