আরপিও সংশোধনে ক্ষমতা বাড়াতে চায় ইসি

21

আরপিও সংশোধনের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা আরও বাড়াতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (২১ আগস্ট) নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর সাংবাদিকদের কাছে এমন কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের যে আরপিও আছে, তা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কিছু কিছু বিষয় স্পষ্ট করার আছে। নির্বাচন কমিশন যথেষ্ট শক্তিশালী। এই শক্তিটা যেন প্রয়োজনমতো প্রয়োগ করতে পারে সেটুকু আমরা সংশোধনের জন্য দিয়েছি।’

আরপিওতে বলা আছে কোনো গুরুতর অনিয়মে নির্বাচন স্থগিত করতে পারে কমিশন। নির্বাচন বাতিল করার ক্ষমতা কিন্তু নেই। অতীতে নির্বাচনে যা দেখেছি, যে ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিল করতে হয়, তাহলে যদি ব্যাপক অনিয়ম হয়, তবে ভোট স্থগিত করে তো লাভ নেই। বাতিল করতে হবে। তবে এজন্য তদন্ত হবে। যদি যথেষ্ট প্রমাণ থাকে যে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে, এক্ষেত্রে বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন করতে পারে। সেই ক্ষমতাটা আমরা চেয়েছি।

তিনি বলেন, অনেকে বলেছেন এ নিয়ে আদালত আদেশ দিয়েছেন। তবে সেটা আইনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। আমরা সেটাই করতে চাইছি। এক সময় নাকি বাতিল করার ক্ষমতা ছিল, এখন নেই। আমার ধারণা যখন এই ধরনের ক্ষমতা কমিশনের হাতে থাকবে, তাহলে তারা গায়ের জোরে যারা নির্বাচনে যেতে চায়, তখন তারা সাবধান হবে। কারণ তাদের যে ইনভেস্ট আছে, সেটা আর তারা করতে চাইবেন না। এই প্রস্তাব মহান সংসদে অবশ্যই পাস হতে হবে। এটার ক্ষমতা তো ইসির নেই। এটা পাস না হলে, বাতিল করতে পারব না। তখন প্রতিরোধমূলক আরও অনেক কৌশল আরপিওতে দেওয়া হয়েছে। সেগুলো আমাদের প্রয়োগ করতে হবে।

সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিষয়ে ইসি মো. আলমগীর বলেন, জনশুমারির প্রাথমিক রিপোর্ট পেয়েছি। গেজেট এখনো পাইনি। গেজেট পেলে আমাদের ফরমাল ওয়ার্ক শুরু হবে। সংসদীয় আসনের সীমান পুনর্নির্ধারণের জন্য ভৌগলিক অবস্থা, জনসংখ্যা ও প্রশাসনিক সুবিধার কথা আইনে বলা আছে। সেগুলো বিবেচনায় নিয়েই আমরা সিদ্ধান্ত নেব। ব্যাপক পরিবর্তন হবে কি হবে না, তার কোনোটাই বলতে পারব না। আইনে যে ক্রাইটেরিয়া আছে, সেভাবেই হবে। জনসংখ্যাই যদি ঢাকায় বেড়ে থাকে, আসন বাড়বে। তবে এর সঙ্গে আবার ভৌগলিক বিষয় ও প্রশাসনিক বিষয়টাও আসবে। যেমন মনে করেন একটা আসন এমন দেওয়া যাবে না, যেন দুইটা জেলার মধ্যে পড়ে। একটা আসন দুইটা উপজেলায় পড়ে গেছে, এইটা কিন্তু প্রশাসনিক অখণ্ডতা রক্ষা হয়নি। এগুলো আমরা দেখব। এটার দাবি আছে। তবে মুখে মুখে আছে। এজন্য লিখিতভাবে দাবি জানাতে হবে।