পুকুরে মরে ভেসে উঠল প্রায় ২৫ লাখ টাকার মাছ

17

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ইজারা নেওয়া পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৪০০ মণ মাছ নিধন করার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয় ইজারাদার মালিক শ্রী সুকমল সরকার ভক্তের। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ তিন-চারজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন তিনি।

শনিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে মামলার বিষয়টি  নিশ্চিত করেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইজার উদ্দিন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) গভীর রাতে ৩ একর ৫১ শতক ওই পুকুরটিতে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের ঘটনা ঘটে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের আলীগ্রামের মৃত কর্ণধার সরকারের ছেলে শ্রী সুকমল একজন মাছ ব্যবসায়ী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার কোচপুকুরটি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন। এ জন্য তিনি দুজন পাহারাদার নিয়োগ দিয়েছেন।

পাহারাদার শফিকুল ও মজিদ নামের দুজন থাকা সত্ত্বেও গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কে বা কারা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করলে ওই পুকুরে থাকা প্রায় ৪০০ মণ মাছ মারা যায়। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। শুক্রবার রাতে সুকমল বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা তিন-চারজনকে আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

সুকমল সরকার জানান, পুকুরে তিনি প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে মাছ চাষ করেন। এর মধ্যে সর্বশেষ এক বছর আগে আবারও তিন বছরের জন্য ইজারা নেন তিনি। এরপর থেকেই পুকুর নেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি মহলের সঙ্গে তার মনোমালিন্য চলে আসছে। তারা শত্রুতা করে এ ঘটনা ঘটাতে পারেন বলে ধারণা তার।

তিনি আরও জানান, ২০১৩ সালে তার ছোট ভাই মাঠাই চন্দ্রকে (২৮) মুক্তিপণ নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। তিনি সেই হত্যা মামলার বাদী। ওই মামলায় তিনি সন্দেহভাজন পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে পুলিশ সেখান থেকে দুজনের নাম বাদ দিয়ে আরও পাঁচজনসহ আটজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলাটি এখনো আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তার ক্ষতির জন্য, শত্রুতাবশত বা তাকে ভয় দেখানোর জন্য তারাও এই মাছ নিধন করে থাকতে পারে বলেও ধারণা করেন শ্রী সুকমল সরকার ভক্ত।

তিনি আরও বলেন, আমার ১০ জনের সংসার। এই পুকুরই আমার সব। আমি খাদ্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ১৭ লাখ টাকার মাছের খাদ্য বাকিতে নিয়েছি। ছয় মাস পর মাছ ধরে বেচতাম। কিন্তু বিষ দিয়ে সব মাছ নিধনে আমি একেবারে সর্বস্বান্ত হয়ে গেলাম। এখন আমার পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নেওয়াসহ সরকারের কাছে আর্থিকভাবে সহযোগিতাও চান তিনি।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইজার উদ্দিন  বলেন, ইজারা নেওয়া পুকুরে মাছ নিধনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।