উপজেলা পর্যায়ে বিআরটিসি বন্ধে আন্দোলনে নামছেন বাস মালিকরা

28

উপজেলা পর্যায়ে বিআরটিসি বাস চলাচল বন্ধ ও মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ থ্রি-হুইলার চলাচল নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার বাস মালিকরা।

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) ফরিদপুর সদরের ডোমরাকান্দিতে ব্রাক লার্নিং সেন্টারের হল রুমে দিনব্যাপী বাস মালিক ও মিনিবাস মালিক গ্রুপের সমন্বিত সভা শেষে দাবি বাস্তবায়নে এক মাসের আলটিমেটাম দেওয়া হয়। এক মাসের মধ্যে তাদের দাবি মানা না হলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে জানিয়েছেন বাস মালিকরা।

এর আগে ওই সভায় ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি ‘আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করা হয়। এর আহ্বায়ক নির্বাচিত হন ফরিদপুর মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি শাহ আলম মুকুল।

সভা শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নবগঠিত আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক শাহ আলম বলেন, এই এক মাসের মধ্যে আমাদের দাবি মানা না হলে পরবর্তীতে বসে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুর জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির উদ্যোগে বাংলাদেশ পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাম্পাদক এস এম শাহ আলম মুকুলের সভাপতিত্বে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার বাস ও মিনিবাস মালিক গ্রুপের সমন্বিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপস্থিত বাস মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও বিআরটিসি বাস চলাচল করছে। এতে পরিবহন মালিকদের এখন ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার দশা। এছাড়া হাইকোর্ট থেকে চার বার নিষেধাজ্ঞা জারির পরও মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধ হচ্ছে না। পরিবহন সেক্টরে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হচ্ছে।

তারা অভিযোগ করেন, ছাত্রসংগঠনের ছেলেরা এখন বিআরটিসি বাসের ব্যবসা করছে। আর মহল বিশেষকে প্রতি মাসে চাঁদা দিয়ে চালানো হচ্ছে আলম সাধু, নসিমন, করিমনসহ অন্যান্য থ্রি-হুইলারের যানবাহন। অথচ তাদের কোনো কাগজপত্র নেই, নেই গাড়ি চালানোর কোনো অনুমোদন।

সভায় বলা হয়, বিআরটিসির বাস চলাচলের আগে জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেদন করতে হয়। সেটি বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন পেলে তবেই বাস চলাচল করতে পারে। কিন্তু এখন আর এসবের কোনো বালাই নেই। তাছাড়া উপজেলা পর্যায়ে বিআরটিসি চলাচলের নিয়ম নেই।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, গোপালগঞ্জ জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, যশোর জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. বদরুজ্জামান, ফরিদপুর জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার রাশেদ ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সিদ্দিকী, মাদারীপুর জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি কামরুল হোসেন, ফরিদপুর জেলা মিনিবাস মালিক গ্রুপের সহ-সভাপতি শাহীন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো. সোবহান চৌধুরী, কুষ্টিয়া জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোকবুল হোসেন চৌধুরী, মাগুরা জেলা বাস মালিক গ্রুপের সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি এম জেনারেল ইসলাম, নড়াইল জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মকতুল হোসেন, ঝিনাইদহ জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, শরীয়তপুর জেলা বাস মালিক গ্রুপের সহসভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।

ফরিদপুর মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি শাহ্ আলম মুকুল জানান, বিআরটিসি চলাচলে শৃঙ্খলা আনা এবং হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মহাসড়কে থ্রি-হুইলারের যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধের দাবিতে তারা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় দীর্ঘ আন্দোলন গড়ে তুলবেন। এজন্য মাসব্যাপী সময় নিয়ে তারা প্রথমে প্রতিটি জেলায় এক ঘণ্টার প্রতিকী মানববন্ধন করবেন। এরপর জেলা পর্যায়ে কমপক্ষে পাঁচটি সমাবেশের পর চূড়ান্ত আন্দোলনে নামবেন। এ আন্দোলন যাতে ফলপ্রসূ হয় এজন্য এই অঞ্চলের বাস মালিক ও শ্রমিকদের নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে সমন্বয় সাধন করবেন তারা।

তিনি বলেন, বাস ও মিনিবাসের সঙ্গে পরিবহন মালিকদেরও এই আন্দোলনে নামতে হবে। সকলকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে আমাদের আন্দোলনে নামতে হবে। সবার সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বড় আকারে আন্দোলন গড়ে তুলবো।