মুজিবনগরেই হচ্ছে আজোয়া, আম্বার, বাহারি ও মরিয়ম খেজুর

28

মেহেরপুর: মরুভূমির আজোয়া, আম্বার, লুলু, খালাস, ডেগলেটনুর, কালমি, মাকতুম, সুক্কারি, বাহারি ও মরিয়মসহ ১০টি জাতের খেজুর উৎপাদনে আশার আলো দেখছেন কুষ্টিয়া ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের কৃষি বিজ্ঞানীরা।

মুজিবনগর কমপ্লেক্সের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এ ১০টি জাতের খেজুরের চাষ করে এখন কৃষি বিজ্ঞানীরা সফলতার পথে হাঁটছেন।

এরই মধ্যে এসব খেজুর গাছে থোকায় থোকায় লাল, হলুদ আর সবুজ বর্ণের খেজুরের সামাহার।

প্রাথমিকভাবে এসব খেজুর চাষে সফলতা এসেছে বলে ধারণা করা হলেও এখনও এটি গবেষণা পর্যায়ে আছে বলে জানালেন কুষ্টিয়া ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের কৃষিবিদ ড. মাহবুবুর রহমান।

তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে খেজুর গাছের চাষ ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। সফল হলে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। তবে খেজুর সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা। এ অঞ্চলে সরকারিভাবে খেজুর গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন দরকার।

কুষ্টিয়া ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ প্রথম ২০১৪ সালে দুবাই থেকে ১০ জাতের খেজুরের বীজ নিয়ে আসেন।

আজওয়া, আম্বার, মরিয়মসহ ১০টি জাতের খেজুর বীজ কুষ্টিয়া ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মধ্যে রোপণ করেন তিনি। পরে চারা উৎপাদন করা হয়।

এসময়ের মধ্যে কৃষি বিজ্ঞানীরা সৌদির মরুভূমির সঙ্গে মিল রেখে শুষ্ক আবহাওয়া ও অনুকূল মাটির খোঁজ করতে থাকেন। অবশেষে মাটি পরীক্ষা করে মুজিবনগরকে বাছাই করা হয়।

‘মুজিবনগর সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স চত্বরে ২০১৪ সালে প্রায় আড়াই হাজার গাছ লাগানো হয়।

এরপর চার বছর নিবিড় পরিচর্যা করে কৃষি বিভাগ। এরই মধ্যে এসব গাছে ধরেছে ফল।

এ প্রকল্পে দায়িত্বরত কুষ্টিয়া ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের কৃষিবিদ ড. মাহবুব বলেন, এ অঞ্চলটা বাংলাদেশের সবচেয়ে শুষ্ক অঞ্চল। এখানে তাপ বেশি থাকে। মধ্যপ্রাচ্যের আবহাওয়ার সঙ্গে অনেকটা মিল রয়েছে। এজন্য খেজুর গবেষণার জন্য এ এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এটি একটি সফল গবেষণা। বাংলাদেশে খেজুরের চাষাবাদ সম্ভব। এখন প্রয়োজন একটা রিসার্চ সেন্টার গড়ে তোলা।

এ প্রকল্পের বাগানে গিয়ে দেখা গেছে, খেজুর গাছে থোকায় থোকায় খেজুর ঝুলছে। কোনো গাছে সবুজ ও হলুদ আবার কোনোটিতে লালচে রঙের খেজুর। খেজুরের স্বাদ, গন্ধ ও মানও বেশ ভালো।

গত বছর থেকে খেজুর ধরা শুরু হয়েছে। এ বছর ২৯টি গাছে খেজুর ধরেছে। প্রতিটি গাছে তিন/চার কাঁদি করে ফল ধরেছে। প্রতিটি গাছে ১৫/২০ কেজি করে ফল পাওয়া যাবে। এ খেজুর বিক্রির কোনো অনুমতি নেই। খেজুর পাকার পর কুষ্টিয়া ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।

ড. মাহবুব বলেন, এখনো এটি গবেষণা পর্যায়ে রয়েছে। যেহেতু এটি দীর্ঘ মেয়াদী ফসল, এখনো কৃষক পর্যায়ে চারা বিক্রি শুরু করা হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সারাদেশে এসব খেজুর উৎপাদন করা সম্ভব হলে আমদানি নির্ভরতা অনেকটা কমে আসবে। এছাড়া সহজে পূরণ হবে পুষ্টির চাহিদা।