পেলোসির সফরকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত হবে না : ক্রেমলিন

1

মার্কিন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি ন্যান্সি পেলোসির সাম্প্রতিক তাইওয়ান সফরকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত হবে না বলে মনে করে রাশিয়া। বুধবার এ বিষয়ে মস্কোর অবস্থান তুলে ধরেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের প্রেস সেক্রেটারি পেসকভকে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, চীনের বারবার হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর এশিয়া অঞ্চলে যুদ্ধ উস্কে দেবে কিনা।


জবাবে পেসকভ বলেন, ‘আমি এ শব্দটি(যুদ্ধ) উচ্চারণ করতে চাই না, তবে এই সফর ছিল পরিষ্কারভাবে উস্কানিমূলক এবং কারোরই উচিত হবে না একে হালকাভাবে নেওয়া।’

তবে এই সফরের পর করণীয় নির্ধারণ করতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে ‘বিশেষ বৈঠক হবে’ বলে যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে, তা উড়িয়ে দিয়েছেন পুতিনের মুখপাত্র। সাংবাদিকদের এ বিষয়ক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আপাতত কোনো বিশেষ বৈঠকের জন্য রাশিয়া কিংবা চীন— কোনো তরফ থেকেই তৎপরতা নেই।’

পূর্ব ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ সফর করতে ০১ আগস্ট, সোমবার ওয়াশিংটন ত্যাগ করেন ন্যান্সি পেলোসি। এই সফরে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান সফরের কথা ছিল।


তবে তিনি ওয়াশিংটন ছাড়ার আগেই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে চাউর হয়ে যায়— চলতি এ সফরে তাইওয়ানেও যাবেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ান সরকারের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোকে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেন।

ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ানে আসতে পারেন—এ খবর প্রচারিত হওয়ার পর সোমবারই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা দেয় চীনের সরকার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান সোমবার বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যদি পেলোসি সত্যিই তাইওয়ান সফরে আসেন, তাহলে তার পরিণতি খুবই গুরুতর হবে।

চীনের সেনাবাহিনী এক্ষেত্রে ‘চুপচাপ অলসভাবে বসে থাকবে না’ বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন লিজিয়ান।

তারপর মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের অপর মুখপাত্র হুয়া চুনইয়িং বলেন, ন্যান্সির এই সফর কোনোভাবেই ব্যক্তিগত নয় এবং যদি যুক্তরাষ্ট্র একে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়, সেক্ষেত্রে চীন ‘বৈধভাবেই প্রয়োজনীয় পাল্টা পদক্ষেপ নেবে।’

কিন্তু চীনের দফায় দফায় হুঁশিয়ারির মধ্যেই তাইওয়ানে পৌঁছান ন্যান্সি পেলোসি। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১১টার দিকে (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টা) তাইওয়ানের রাজধানী তাইপে বিমানবন্দরে তাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি অবতরণ করে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পেলোসি। বৈঠকে চীনের কবল থেকে তাইওয়ানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তা দানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬ টায় দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে তাইওয়ানের রাজধানী তাইপে ত্যাগ করেন পেলোসি।

এমন এক সময়ে তাইওয়ানে সফর করেছে পেলোসি, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে।

সূত্র : রয়টার্স