নড়াইলে অধ্যক্ষকে জুতার মালা পরানোয় সংসদে ক্ষোভ

32

শিক্ষাঙ্গনে দলীয়করণের কারণে শিক্ষকরা লাঞ্ছিত হচ্ছেন বলে মনে করছেন জাতীয় পার্টি ও বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা। তারা বলেছেন, ‘দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চরম নৈরাজ্য চলছে। মাস্তানি করছে ছাত্ররা। তাদের হাতে শিক্ষকরা লাঞ্ছিত হচ্ছেন। দলীয়করণের কারণে এমন ঘটনা ঘটছে।’ নড়াইলে অধ্যক্ষকে জুতার মালা পরানোসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ক্ষোভের কথা জানান সংসদ সদস্যরা। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কী হচ্ছে? এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, ডাক্তার-প্রকৌশলী বানাচ্ছি, কিন্তু মানুষ বানাচ্ছি কতগুলো। দায়িত্ব তো উনিও এড়াতে পারেন না। উনি তো ঢাবির ভিসি ছিলেন। তার কোনো গবেষণা ছিল না। ডক্টরেট ডিগ্রি নেই। শুধু রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পেয়েছেন। সমস্যাটা এখানে। যখন যে দল ক্ষমতায় আসবে, সেই দলের শিক্ষকদের পদোন্নতি হবে। তাদের ছত্রছায়ায় একশ্রেণির ছাত্রনেতা মাস্তান হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘নড়াইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে জুতোর মালা পরিয়ে ঘোরানো হয়েছে। তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। সাভারে একজন শিক্ষককে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারী কিশোর গ্যাংয়ের কাছে ‘‘দাদা’’ বলে পরিচিত। ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সদস্য তার আত্মীয়। আরেকজন শিক্ষক তাকে প্ররোচিত করেছেন। সেই শিক্ষক আবার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। শিক্ষার জায়গাটা নষ্ট হয়ে গেছে।’

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষা র‌্যাংকিংয়ে আমরা কোন জায়গায় আছি? পাঁচ হাজারের মধ্যেও নেই। এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় প্রভাবে চলছে। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মান নিচে নেমে গেছে। সবক্ষেত্রে অবক্ষয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি। এর কারণ জবাবদিহিতার অভাব।’ তিনি বেসরকারি শিক্ষায় কর প্রত্যাহারের দাবি জানান।

বিএনপির রুমিন ফারহানা বলেন, ‘শিক্ষার ক্ষেত্রে মানটাই বড় সমস্যা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপে দেখা যায়, শিক্ষার মানে ক্রম অবনমন। র‌্যাংকিংয়ে ধস নেমেছে।’

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক বলেন, ‘বিবিএসের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ১৮-২০ লাখ নতুন চাকরিপ্রত্যাশী জব মার্কেটে প্রবেশ করেন। তার মধ্যে দেশ-বিদেশ মিলিয়ে ৫-৬ লাখের কর্মসংস্থান হয়। বাকি সবাই থাকে বেকার। তারা শিক্ষিত বেকার। যে শিক্ষা ব্যবস্থা বেকারত্ব তৈরি করে, কর্মবিমুখ যে শিক্ষা ব্যবস্থা, সেই শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা কেন রাখব? কর্মবিমুখ শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করে কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে।’