পিইসি পাশ করে প্রতিক্রিয়ায় ৬৩ বছরের বাসিরন

152

আমার খুব ভালো লাগছে। আশা যা কইরুনু সবটুকুনই পূরণ হয়েছে। মনে খুব আরাম লাগছে। আমার সাথে যারা পরীক্ষা দিয়েছিল তারাও সবাই পাশ করেছে শুনে খুব শান্তি লাগছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে নিজ স্কুল মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হোগলবাড়িয়া পূর্বপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে পিইসি পরীক্ষার ফলাফল জানার পর  ৬৩ বছরের বাসিরন খাতুন এ প্রতিক্রিয়া জানান।

বাসিরন বলেন, গ্রামের গার্লস স্কুলে ক্লাস সিক্সে ভর্তি হবো। ওই স্কুলে যে পোশাক লাগে তাও তৈরি করে ফেলেছি। কতদিন চলবে লেখাপড়া? এ প্রশ্নের জবাবে বাসিরন বলেন, একটা স্কুলতো পাশ করে ফেললাম। যতদিন বেঁচি থাকবো ততদিনই লেখাপড়া করবু। আমার দেখাদেখি যাতে এলাকার ছেলিপিলিরা লেখাপড়াই মন দেয় সেজন্য হলেও লেখাপড়া করবু।

বাড়ি থেকে তো র্গালস স্কুল অনেকদিন দুরে সেখানে কিভাবে যাবেন? উত্তরে তিনি বলেন, এই স্কুলে যেভাবে এসেছি ওই স্কুলেই ওইভাবেই যাব। কিছুই তো করার নাই। আমাকে তো স্কুলে যেতেই হবে।   বাড়ি থেকে যদি বৌমা তাড়িয়ে দেয় তাহলে কি করবেন? রশিকতার এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাড়িয়ে দিলে দেবে তাও লেখাপড়া করবো। তারপর তিনি বলেন, বউ মা ভালো আমাকে কিছু বলেনা।
পরীক্ষার পর থেকে সময়গুলো কেমন করে কাটালেন উত্তরে বাসিরন বলেন, চেষ্টা করেছি কুরআন শরিফ পড়ার। কিন্তু খুব বেশী পারিনি। ছেলে পিঁযাজ তুলেছে তাই কাজ করা লেগেছে বলে তিনি জানান।   বাসিরনের স্কুলের ফলাফল শিট থেকে জানা যায়, ৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে বাসিরন জিপিএ ৩.০০ পেয়ে ওই স্কুলে প্রথম হয়েছে।

দুপুর ১টার দিকে হোগলবাড়িয়া পূর্বপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা অপেক্ষা করছেন ফলাফলের জন্য। প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন ফলাফল শিট নিয়ে কখন স্কুলে পৌছাবেন সে অপেক্ষায় সময় কাটকে থাকে সবার। প্রধান শিক্ষক ফলাফল হাতে পেয়ে মোবাইলের মাধ্যমে স্কুলে জানিয়ে দিলে শুরু হয় উল্লাস।

এরপরই বাসিরনকে অভিনন্দন জানাতে স্কুলে ছুটি যান সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য (মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা আসনের ) সেলিনা আখতার বানু, মেহেরপুর জেলা পরিষদের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত সদস্য মোহাম্মদ আলী, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আহসানুল্লাহ মোহনসহ গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা।
সংসদ সদস্য সেলিনা আখতার বানু বাসিরনের মুখে মিষ্টি তুলে দিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বাসিরন মেহেরপুরের গর্ব। তাকে দেখে বয়স্ক মানুষ লেখাপড়াই আগ্রহি হবে। বাসিরন ৬৩ বছরে পেরেছে। তাকে দেখে যাতে বয়স্করাও  লেখাপড়া শিখে বলবে পারে আমরাও পারি। সংসদ সদস্য বলেন, তার ফলাফল হবে জানতে পেরে আমি তার কাছে ছুটে এসেছি।
মেহেরপুর জেলা শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার পূর্বদিকে গাংনী উপজেলার হোগলবাড়িয়া গ্রামের মাঠপাড়ার রহিল উদ্দিনের ( মৃত) স্ত্রী বাসিরন খাতুন। একছেলে ও দুই মেয়ের মা এই বাসিরনের বয়স ৬৩ বছর।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে দেশের এবছরের সবচেয়ে বেশি বয়সের পিইসি পরীক্ষার্থী ছিল বাসিরন। গত ২০ নভেম্বর তার পরীক্ষা শুরু হয়েছিল।