প্রস্তাবিত বাজেট যুগোপযোগী করার চেষ্টা করা হয়েছে

4

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের (আইবিএফবি) প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন রশিদ বলেছেন, গত ৯ জুন জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট যুগোপযোগী করার চেষ্টা করা হয়েছে। ব্যাংকিং বা আর্থিক খাত ও শিক্ষা খাতকে পরিবর্তন করে আরও যুগোপযোগী করা প্রয়োজন।

সোমবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ কর্তৃক প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২২-২৩ এর পর্যালোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

হুমায়ুন রশিদ বলেন, বাজেটে রাজস্ব আয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং অর্থনীতির কিছু সূচকের যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে তা বাস্তবসম্মত হওয়া দরকার। করোনার প্রভাব কেটে যাওয়া, দ্রুত বিশ্বমন্দা কেটে যাওয়া, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের অবসান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে বাংলাদেশি পোশাকের চাহিদা বাড়া, প্রবাসী শ্রমিকদের ফিরিয়ে নেওয়া এবং সিন্ডিকেটের বাইরে বিদেশে শ্রমিক পাঠানো শুরু হলে বাজেটের লক্ষ্য পূরণ হবে।

তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণে সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাড়তি ব্যয়ের যে চ্যালেঞ্জ সেটা রয়েই গেছে। তবে চ্যালেঞ্জগুলো ওভারকাম করা গেলে অর্থনীতির হাল বা উন্নয়নের গতিধারায় সাধিত ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।

আইবিএফবি প্রেসিডেন্ট বলেন, করোনা সংকটে বেশি মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার মতো খাতগুলো অগ্রাধিকার পেয়েও যেন পায়নি। করোনার প্রভাবে বাজেট প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতের গুরুত্ব আলোচিত হলেও সেখানে বরাদ্দ নমিনাল টার্মে আপেক্ষিকভাবে কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও জলবায়ু পরিবর্তন জনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শিক্ষা, দক্ষ জনসম্পদ তৈরি, ফর্মাল ও ইনফর্মাল সেক্টরে কর্মসৃজনমূলক শিল্প উদ্যোগ, আই টি খাতে বরাদ্দ আরও বাড়ানো প্রয়োজন ছিল।

তিনি বলেন, কৃষিবিদ, কৃষি বিজ্ঞানী, কৃষক ও কৃষি উপকরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রাইভেট সেক্টরও এখানে সরাসরি জড়িত। নতুন নতুন উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণে বাংলাদেশে প্রাইভেট সেক্টরের অবদান কম নয়। সেজন্য পাবলিক সেক্টরের পাশাপাশি প্রাইভেট সেক্টরেও বাজেট বরাদ্দ থাকা উচিত। রাসায়নিক সারের তুলনায় জৈবসারে মাটির গুণাগুণ ভাল করে বিধায় রাসায়নিক সারের মতো করে বাজেটে জৈবসার উৎপাদনে ভর্তুকির ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।

হুমায়ুন রশিদ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের পরিপূরক শুল্ক বিদ্যমান দশ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার কারণে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের উচ্চ বিল পরিশোধ করতে হবে। দেশ, সমাজ ও অর্থনীতি যখন ডিজিটাল ও ভার্চুয়াল সংযোগ সংস্কৃতির দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছে তখন মোবাইল ফোন তথা ইন্টারনেটের ব্যবহারের ওপর অতিরিক্ত করারোপ পর্যালোচনা প্রসূত হয়নি। সমসাময়িক করোনা পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে এ সময়ে বরং আরও কমানো দরকার ছিল। সঞ্চয়ের ওপর যেকোনো অতিরিক্ত করারোপ মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ে চাপ বাড়াবে। বাজেটে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ও সুশাসনের কথা থাকলেও যেভাবে পাচার করা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ প্রস্তাব করা হয়েছে তা সমর্থনযোগ্য নয়। মাত্র ৭ শতাংশ হারে কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকলে নিয়মিত করদাতাদের আরও নিরুৎসাহিত করা হবে। কালো টাকা সাদা করার সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া প্রয়োজন। তারপর কালো টাকা উদ্ধারে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার আবশ্যকতা থাকবে। কেননা যখন ফাঁকি দিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ থাকে, তখন সাদা করার তাগিদ থাকে না। আর পাচার করা টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করা হবে না এ ধরণের এমনেস্টি দিলে অর্থনীতিতে নীতি নৈতিকতার ভারসাম্য মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থানের জন্য বাজেটে অনেক কথা বলা হয়েছে। তবে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং এই মুহূর্তে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন কাজের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেটা কিভাবে গ্রহণ করা যাবে, প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই সুযোগের ক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ ও দিকনির্দেশনা থাকলে ভালো হতো। গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে আরও বেশি হওয়া এবং চলমান ১০০ দিনের কর্মসূচির আওতাও বাড়ানো উচিত।

আইবিএফবি প্রেসিডেন্ট বলেন, এখন জ্বলন্ত ইস্যু হচ্ছে মূল্য স্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈশ্বিক খাদ্য ও জ্বালানী তেলের সংকট মোকাবিলা। জীবন বাঁচানোর প্রশ্ন প্রথম, দ্বিতীয় ইস্যু হচ্ছে জীবিকা। আমরা এখনো আশা করি, অতীতের লিগ্যাসি পরিহার করে অর্থমন্ত্রী উন্নয়নের নতুন দর্শন দেবেন। অর্থনীতির কাঠামো পরিবর্তনে এগিয়ে আসবেন।

অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের পরিচালক সৈয়দ মুস্তাফিজুর রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফাইন্যান্স) লুৎফুন্নেসা সাউদিয়া খান, ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আবদুল মজিদ ও ড. মো. আলী আফজাল উপস্থিত ছিলেন।