পদ্মা সেতুর উদ্বোধন: নিরাপত্তা ইস্যুতে সভা জাতীয় কমিটির

4

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের বাকি আর মাত্র ১২ দিন। সেতুর উদ্বোধন ঘিরে যাতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয় সে ব্যাপারে ইতঃপূর্বে প্রধানমন্ত্রী গত ১৩ জানুয়ারি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সম্প্রতি সীতাকুণ্ডের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, মৌলভীবাজারে চলন্ত ট্রেনে আগুন, পদ্মা নদীতে ফেরিতে আগুন- এসব দুর্ঘটনা, নাকি নাশকতা তাও ভাবনায় রয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের।

পাশাপাশি বিএনপির রাজনৈতিক আন্দোলনকে অন্য দৃষ্টিতে দেখছেন সরকার। এমন প্রেক্ষাপটে পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ইস্যুতে আজ সোমবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির দ্বিতীয় সভা হতে যাচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

গত ১৩ জানুয়ারির সভায় যে ২৫টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হবে আজকের সভায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে র‌্যাবের বর্তমান ও সাবেক ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আপিল করা; সরকারের পক্ষ থেকে ল’ ফার্ম ও লবিস্ট নিয়োগ, টাস্কফোর্স গঠন, গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত তথ্য উদঘাটন; রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নামে জ্বালাও-পোড়াও কার্যক্রমে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিং, কিছু এনজিওর বিদেশি তহবিল সম্পর্কে মনিটরিং, সাইবার নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার বন্ধ করা, কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো ইত্যাদি।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজকের সভায় পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানতে চাওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। এ ছাড়াও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাজার মনিটরিং, গুজব ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে জনবিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিরোধ, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম পরিস্থিতি, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিকদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সভায় গুরুত্ব পাবে।

জানা গেছে, আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কী ধরনের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে তার একটি রূপরেখা উপস্থাপন করার কথা রয়েছে আজকের সভায়। এ ছাড়া অন্য যেকোনো দিন সেতুতে কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করার পাঁয়তারা করতে না পারে সে ব্যাপারে বেশ কিছু দিকনির্দেশনা থাকতে পারে।

এদিকে জাতীয় কমিটির প্রথম সভায় র‌্যাবের বর্তমান ও সাবেক ৬ কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্রে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ইস্যুতে একটি টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এর বাস্তবায়ন সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। গত ২৪ ফেব্রæয়ারি টাস্কফোর্সের প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ নিয়ে একাধিক বৈঠকও হয়েছে। তারা বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন, য সময়সাপেক্ষ। তবে এ ব্যাপারে গত ২৪ এপ্রিলে একটি সেমিনারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেছিলেন, কারণগুলোর উপযুক্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এই নিষেধাজ্ঞা কখনই প্রত্যাহার হবে না।

সভায় দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত ছিল, বিদেশে যেসব কুচক্রি মহল এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে সেই দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে জননিরাপত্তা বিভাগ অগ্রগতি সম্পর্কে উল্লেখ করেছে- বাংলাদেশ পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিট নিয়মিতভাবে সাইবার স্পেস মনিটরিং করছে। একই সঙ্গে কুচক্রি মহলের গুজব, অপ্রপচারের বিষয়গুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া অপপ্রচারকারী ও গুজব রটনাকারীদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

এ ইস্যুতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ বিদেশে অবস্থিত ১১টি বাংলাদেশ মিশনকে সামাজিক ও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে রাষ্ট্র্র ও সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালনাকারী ৫০ জন ব্যক্তির ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় সিদ্ধান্ত ছিল, সরকারের পক্ষ থেকে ল’ ফার্ম ও লবিস্ট নিয়োগ করা। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন অগ্রগতি হচ্ছে- ইতোমধ্যে ল’ ফার্ম ও লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে। চতুর্থ সিদ্ধান্ত ছিল, রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করতে হবে। এ ব্যাপারে বেশ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কথিত অভিযোগ সম্পর্কে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল প্রথম সভায়। অগ্রগতি সম্পর্কে জননিরাপত্তা বিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে- প্রকৃত তথ্য জাতিসংঘসহ বাংলাদেশের বিদেশি মিশনগুলোকে নিয়মিতভাবে অবহিত করা হচ্ছে।

প্রথম সভায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নামে জ্বালাও-পোড়াও বা ভাঙচুর করলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে, এ ব্যাপারে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

পাইকারি বাজার ও খুচরো বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে যেন দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক পার্থক্য না হয় সে ব্যাপারে কঠোর তদারকি ও সমন্বয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় প্রথম সভায়। বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। ওএমএস ও টিসিবির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, টিসিবির কার্যক্রম আগের তুলনায় আরও বাড়ানো হয়েছে। আসছে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে সারা দেশে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী ১ কোটি পরিবারকে ২ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি করে চিনি, ২ কেজি করে মসুর ডাল সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রি শুরু হবে।র