নড়াইলে ২০ বছর ধরে বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

2

কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ী ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর-ডহর চাঁচুড়ী গ্রামের মধ্যবর্তী চিত্রা নদীর শাখা ‘লাইনের খালের’ ওপর সেতু নেই। প্রাচীণ এই খালটির ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে ইউনিয়নের ৫/৬টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। পাশাপাশি চাঁচুড়ী এবং কৃষ্ণপুর বিলে অবস্থিত কয়েক হাজার মৎস্য ঘের চাষী ও কৃষকসহ এলাকার হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হয়। ফলে মানুষের যাতায়াত, মৎস্য ঘেরে খাবার পৌঁছানো, মাছ এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে মারাত্মক ভোগান্তি পোঁহাতে হচ্ছে।

এলাকাবাসী সূত্র জানায়, ‘লাইনের খাল’ পারাপারে কয়েক হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো। প্রায় ২০ বছর ধরে এলাকাবাসীর চাঁদায় এবং তাদের কাছ থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে ওই খাল পারাপার হয় পথচারীরা। এরপর থেকে নষ্ট হলে চাঁদা তুলে নিজ উদ্যোগে সাঁকোটির সংস্কার করে আসছে এলাকাবাসী। প্রতিদিন এ পথে উপজেলার কৃষ্ণপুর, ডহর চাঁচুড়ী, চাঁচুড়ীসহ ৫/৬টি গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। এছাড়া এই সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, কিষাণ-কিষাণী, ব্যবসায়ীসহ হাজার হাজার মানুষ। জেলার বাইরের দূর-দূরান্তের এলাকারও অনেক চিংড়ী চাষীরা শত শত একর জমি লীজ নিয়ে চাঁচুড়ী-কৃষ্ণপুর বিলে মাছ এবং বোরো ধানের চাষ করেছেন। খালের ওপর পাকা সেতু না থাকায় তাঁদের মাছ ও ধান আনতে দুর্ভোগ হচ্ছে।

সাঁকোটির অদূরেই উপজেলার সর্ববৃহৎ চাঁচুড়ী বাজার। সেখানে প্রতিদিন রমরমা বাজারের পাশাপাশি সপ্তাহে রোব ও বৃহস্পতিবার হাট বসে। ফলে মৎস্য ঘেরের পাড়ে চাষাবাদকৃত সবজি ও মাছ নিয়ে এসে কৃষকেরা এবং এলাকার বাসিন্দারা সাঁকো পার হতে ভোগান্তির শিকার হয়। সাঁকোটির পাশেই ডহর চাঁচুড়ী-কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সন্নিকটেই শামসুল উলূম পুরুষ এবং সামেলা খাতুন মহিলা মাদ্রাসা অবস্থিত। যে কারণে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয়ে এপার-ওপারে যেতে হয়। অনেক সময় অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। এছাড়া বাঁশের সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে প্রায়ই ছোট-খাট দুর্ঘটনাও ঘটছে। বন্যার সময় সাঁকোটি দিয়ে পারাপার খুবই কষ্টকর ও অনিরাপদ হয়ে পড়ে। বিশেষত বিদ্যালয়গামী শিশুদের নিয়ে আতঙ্কে থাকেন অভিভাবকরা।

আফজাল আলী মীর বলেন, এই খালের ওপর আমাদের ব্রিজ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। বারবার তাগিদ দেয়ার পর এ বিষয়ে সংশ্রিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। নির্বাচন এলেই এলাকার জন প্রতিনিধিরা এখানে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। ভোটে পাস করার পর আর প্রতিশ্রুতির কথা মনে থাকে না।

এ বিষয়ে এলজিইডির কালিয়া উপজেলা প্রকৌশলী প্রণব কান্তি বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে এবং খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।