‘আমি যদি রহস্যময় পরিস্থিতিতে মারা যাই…’, মাস্কের টুইটে জল্পনা

2

মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলার দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট টুইটার কিনেছেন ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। এরপর থেকেই বিশ্বজুড়ে আলোচনায় রয়েছেন তিনি।

সোমবার (৯ মে) মার্কিন এই ধনকুবেরের একটি টুইট ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে। এরপরই প্রশ্ন উঠেছে, প্রাণহানির আশঙ্কায় ভুগছেন টেসলা কর্তা? নাকি কেউ তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে? সোমবার ইলন মাস্কের একটি টুইট ঘিরেই শুরু হয়েছে যাবতীয় জল্পনা।

সদ্য টুইটার কিনে নেওয়ার পরই ইলন মাস্ক বিভিন্ন বিষয়ে একের পর এক টুইট করেই চলেছেন। তবে তিনি সোমবার যে টুইট করেছেন, তা বাকি সকল টুইটের থেকে আলাদা। সর্বশেষ এই টুইটে ইলন মাস্ক যা বলেছেন তার অর্থ হলো, যদি তার (মাস্কের) রহস্যজনক কোনো পরিস্থিতিতে মৃত্যু হয়, তবে তিনি আগে থেকেই জানাতে চান যে সকলের সঙ্গে পরিচিত হতে পেরে তিনি খুশি।


গত মাসের শেষের দিকে ৪ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিময়ে টুইটার কিনে নিয়েছেন ইলন মাস্ক। এর দুই সপ্তাহের মাথায় তিনি বলছেন, ‘যদি আমার রহস্যজনক কোনো পরিস্থিতিতে মৃত্যু হয়, তবে জানবেন আপনাদের সঙ্গে আলাপ হয়ে ভালো লাগলো।’

তবে এই টুইটের নেপথ্যে বিশেষ কারণ লুকিয়ে রয়েছে। এই টুইট করার কিছুক্ষণ আগেই তিনি আরও একটি টুইট করেছিলেন। সেই টুইটে তিনি ইউক্রেনে সামরিক সাহায্য পাঠানো নিয়ে কথা বলেছেন। রাশিয়ান ভাষায় লেখা একটি বার্তাও তিনি পোস্ট করেন, যেখানে ইউক্রেনকে সাহায্য করার জন্য মাস্ককে একজন প্রাপ্তবয়স্কের মতোই গণ্য করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই বার্তায় এ কথাও উল্লেখ করা রয়েছে যে, ইউক্রেনে যে সামরিক অস্ত্র সাহায্য পাঠানো হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দপ্তর পেন্টাগন থেকে পাঠানো হয়েছে।

মার্কিন এই ধনকুবেরের এই দু’টি পোস্ট ঘিরেই যাবতীয় রহস্য দানা বেঁধেছে। ইউক্রেনকে সাহায্য করার জন্য রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইলন মাস্ককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।

অবশ্য ঠিক মজা করে নাকি সত্যিই প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন ইলন মাস্ক, তা নিয়ে একাধিক তত্ত্ব উঠে আসতে শুরু করেছে। কয়েকজনের দাবি, ইলন মাস্ক মদ্য়প অবস্থায় এই টুইট করেছেন। আবার অন্যদের দাবি, টুইটার কেনার পর প্রচুর করের চাপে পড়েছেন মাস্ক।

উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পরই পূর্ব ইউরোপের এই দেশটির এক মন্ত্রী ইলন মাস্কের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপরই মাস্কের স্যাটেলাইট সংস্থা স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড পরিষেবা চালু করা হয় ইউক্রেনে।