নিউ মার্কেটে সংঘর্ষ : গ্রেপ্তার ৩ জন রিমান্ডে

5

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীদের সংঘর্ষের ঘটনায় করা পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার তিন জনের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুক্রবার (৬ মে) ঢাকার মেট্রোপলিট ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোশাররফ হোসেনের আদালত শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বৃহস্পতিবার (৫ মে) র‌্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান জানান,
নিউ মার্কেটের ঘটনায় শরীয়তপুর ও কক্সবাজার থেকে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- মোয়াজ্জেম হোসেন সজীব (২৩), মেহেদী হাসান বাপ্পি (২১) ও কুরিয়ার সার্ভিসকর্মী নাহিদ হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী মো. মাহমুদুল হাসান সিয়াম (২১)।

এরপর শুক্রবার তিন জনকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর নাহিদ হত্যা মামলায় আসামি সিয়ামের বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. তারিকুল আলম জুয়েল। এসময় আসামিপক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

একইসঙ্গে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় আসামি বাপ্পি ও সজীবের বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক হালদার অর্পিত ঠাকুর। অন্যদিকে আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদেরও তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ২২ এপ্রিল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীদের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বাসা থেকে বিএনপি নেতা মকবুল হোসেনকে গ্রেপ্তা করা হয়। পরদিন ২৩ এপ্রিল এ মামলায় আসামি মকবুলের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।


মকবুল হোসেন ছাড়া মামলায় আর যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন- আমির হোসেন আলমগীর, মিজান, টিপু, হাজি জাহাঙ্গীর হোসেন পাটোয়ারী, হাসান জাহাঙ্গীর মিঠু, হারুন হাওলাদার, শাহ আলম শন্টু, শহিদুল ইসলাম শহিদ, জাপানি ফারুক, মিজান বেপারী, আসিফ, রহমত, সুমন, জসিম, বিল্লাল, হারুন, তোহা, মনির, বাচ্চু, জুলহাস, মিঠু, মিন্টু ও বাবুল।

অপরদিকে রোববার (১ মে) নাহিদ হত্যা মামলার পাঁচ শিক্ষার্থীকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিত ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

শিক্ষার্থীরা হলেন- ঢাকা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের আব্দুল কাইয়ূম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের পলাশ ও ইরফান, বাংলা বিভাগের ফয়সাল ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের জুনায়েদ।

এর আগে ২৮ এপ্রিল তাদেরকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এরপর নাহিদ হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের প্রত্যেককে সাতদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করে পুলিশ। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শান্তা আক্তার শুনানি শেষে দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ১৮ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা চলে এ সংঘর্ষ। এরপর রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও পরের দিন সকাল ১০টার পর থেকে ফের দফায় দফায় শুরু হয় সংঘর্ষ। যা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এ সংঘর্ষে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাহিদ হাসান ও মুরসালিন নামে দু’জন মারা যান।

এরপর গত ২০ এপ্রিল নিহত নাহিদের বাবা মো. নাদিম হোসেন বাদি হয়ে নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।