ইউক্রেনে বেসামরিক নাগরিক হত্যার নিন্দা জানিয়েছে ভারত

29

রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য নিয়ে বেশ কঠিন একটা সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে ভারতকে। তবে এরইমধ্যে ইউক্রেনে বেসামরিক লোকজনকে হত্যার নিন্দা জানিয়েছে ভারত।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ভারতের পক্ষ থেকে এমন কোনো ঘটনায় নিন্দা জানানো হলো যার জন্য রাশিয়া দায়ী। তবে একইসঙ্গে ভারত এ কথাও বলছে যে, মস্কো নয়াদিল্লির একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার।

ভয়েস অব আমেরিকার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বেশিরভাগ সামরিক হার্ডওয়্যারের জন্য ভারত স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার তার মিত্র মস্কোর ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভারতের তেল কোম্পানিগুলোও রাশিয়ার কাছ থেকে হ্রাসকৃত মূল্যে অপরিশোধিত তেল কেনার চুক্তি সম্পন্ন করেছে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে ভারত এই ক্রয়কে সমর্থন করেছে এবং ইঙ্গিত করেছে যে, ইউরোপও রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি ক্রয় অব্যাহত রেখেছে।

তবে ভারতের এ অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের হতাশ করেছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছিলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান “কিছুটা নড়বড়ে”।

বিশ্লেষকরা বলছেন মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ভারত একটি মধ্যম অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করছে । মস্কোকে ভারতের প্রতিরক্ষা সরবরাহের জন্য প্রয়োজন এবং চীনকে মোকাবিলা করার জন্য পারস্পরিক ক্রমবর্ধমান অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভারত ওয়াশিংটনের সাথে গত ২ দশক ধরে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব তৈরি করেছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র ও বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ভারতকে রাশিয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিতে দেখা যায়নি।