ঘুস না দেওয়ায় ব্যাংকারকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

47

স্বাস্থ্য সনদপত্রের জন্য চাহিদা মতো ঘুস না পেয়ে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় লাঞ্ছনার শিকার ওই ব্যাংকার সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জানা গেছে, লাঞ্ছিত হওয়া ব্যাংক কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান (৩০)। তিনি নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের গজগাঁ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পূবালী ব্যাংকে ডেপুটি জুনিয়ার অফিসার পদে সদ্য চাকরি পেয়েছেন। আর ব্যাংক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিতের অভিযুক্ত মো. সাকিব হোসেন সৌরভ ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত।


মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) বিকেল পৌনে ৪দিকে ফরিদপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার সময় সিভিল সার্জন মো. ছিদ্দীকুর রহমান অফিসে ছিলেন না।

ব্যাংক কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান অভিযোগ করে জাগো নিউজকে বলেন, আমি বর্তমানে ঢাকা মিরপুরে ট্রাস্ট ব্যাংকে কর্মরত। পূবালী ব্যাংকে আমার সদ্য চাকরি হয়েছে। চাকরিতে যোগদানের জন্য স্বাস্থ্য সনদের প্রয়োজন। আমি সদ্য পরীক্ষা করা সিবিসি, আরবি, ব্লাড গ্রুপ, এইচআইভি, এইচবিএস, ডোপটেস্ট, এক্সরে ও ইসিজি প্রতিবেদন নিয়ে সোমবার দুপুরের দিকে সিভিল সার্জনের অফিসে যাই। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর সাকিব হোসেনের কাছে পরীক্ষার প্রতিবেদনগুলো জমা দিই এবং আমার একটি স্বাস্থ্য সনদ করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করি। তিনি আমাকে মঙ্গলবার বিকেলের দিকে সনদ নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। তার কথা মতো সনদ আনতে গেলে সাকিব হোসেন আমার কাছে স্বাস্থ্য সনদের জন্য এক হাজার টাকা ঘুস দাবি করেন। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে তিনি পরবর্তীকালে ৫০০ টাকা দিতে বলেন। আমি এ টাকা দিতে রাজি না হলে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সাকিব আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে সেখান থেকে বের করে দেন। আমি এ বিষয়ে পরবর্তীতে সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর সাকিব হোসেন বলেন, আমি কোনো টাকা চাইনি। দুটি টেস্ট বেসরকারি ক্লিনিক থেকে করা ছিল। সেটি অফিশিয়ালি গ্রহণ না করায় তিনি উল্টো আমার সঙ্গে খারাপ ব্যাবহার করেন। তিনি অফিসের চেয়ার ভাঙার চেষ্টা করেন।

এ প্রসঙ্গে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, আমি ঘটনার সময় অফিসে ছিলাম না। তারপরও ব্যাংক কর্মকর্তা ও অভিযোগকারী মো. মেহেদী হাসানকে লিখিতভাবে তার অভিযোগ দিতে বলা হয়। লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এর তদন্ত করা হবে। তাতে যদি আমাদের অফিসের সাকিবের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।