জামুকা বিলুপ্তির দাবি একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ

3

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) বিলুপ্ত করা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক বিষয়াদি দেখভালের দায়িত্ব প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়েছে একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।

বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবিগুলো জানান সংগঠনের চেয়ারম্যান আবীর আহাদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মহাসচিব মুক্তিযোদ্ধা আশালতা বৈদ্য, মুক্তিযোদ্ধা হাশেম আলী, মোজাম্মেলন হোসেন হেলাল, আফতাব আহমেদ শিকদার, জুলকারনাইম ডালিম, সারোয়ার জাহান, আব্দুল খালেক বিশ্বাস প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আবীর আহাদ দাবিগুলো তুলে ধরেন। এগুলো হচ্ছে-

-মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃত প্রদান করে জাতীয় সংবিধানের যথাযথ স্থানে ‘জয়বাংলা’ ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ ‘মুক্তিযোদ্ধা’ ও ‘৩০ লাখ শহীদ’ শব্দগুলো লিপিবদ্ধ করতে হবে।

-১৯৯৭ সালের প্রণীত মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞার ভিত্তিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন ও মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় থেকে অমুক্তিযোদ্ধাদের উচ্ছেদের লক্ষে উচ্চতর বিচার বিভাগ, যুদ্ধকালীন কমান্ডার বা সুপরিচিত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও সামরিক বাহিনীর সমন্বয়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কমিশন গঠন এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সৃজনকারীদের রাষ্ট্রদ্রোহিতার সমতুল্য অপরাধে বিচার করা।

-জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সৃষ্টির কারিগরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধুলায় লুটিয়ে দিয়ে আসছে বিধায় জামুকাকে বিলুপ্ত করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক বিষয়াদি দেখভালের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি আলাদা উইং সৃষ্টি করা।

-মুক্তিযোদ্ধাদের নিজ দায়িত্বে বীর নিবাস নির্মাণের জন্য বিনা সুদে ২৫ লাখ টাকা গৃহনির্মাণ ঋণ মঞ্জুর করা।

-জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের মতো শহীদ ও মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারকেও বিজয় দিবস ও বাংলা নববর্ষ ভাতা প্রধান করা। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স, শারীরিক অসুস্থতা ও আর্থিক অস্বচ্ছলতা বিবেচনা পূর্বক মাসিক সম্মানী ভাতার সাথে ১০ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা প্রধান এবং গুরুতর অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের সিএমএইচ, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আমাদের এই দাবিগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। দাবি বাস্তবায়ন না হলে যেকোনো কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলেও হুশিয়ারি দেন তারা।