চলচ্চিত্র একটি অমিত শক্তিশালী গণমাধ্যম : প্রধানমন্ত্রী

2

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চলচ্চিত্র একটি অমিত শক্তিশালী গণমাধ্যম। চলচ্চিত্র মানুষকে আনন্দ দেয়, ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং আশা-আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরে মানুষকে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করে। চলচ্চিত্র মানবিক গুণাবলির বিকাশে ভূমিকা রাখে।

চলচ্চিত্র মাটি ও মানুষের কথা বলে মানুষের আজন্ম স্বপ্ন ও সাধনাকে সেলুলয়েডে বন্দি করে পর্দায় ফুটিয়ে তোলে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে সাড়ে সাত কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করতে চলচ্চিত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। চলমান করোনা মহামারিতেও জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করতে চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আমরা লক্ষ্য করছি। এক্ষেত্রে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে মানুষকে ঘরে থাকতে টিভি চ্যানেলসহ ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত অনুষ্ঠানের কথা আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান উপলক্ষে আজ এক বাণীতে একথা বলেন। এ উপলক্ষে তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা, পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার, অভিনেতা-অভিনেত্রী, কলাকুশলী, পরিবেশকসহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। এবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী ও কলাকুশলীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশে গত ১৩ বছর ধরে বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। ঢাকার অদূরে কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্ম সিটি নির্মাণ, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ আধুনিকায়ন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তিনি বলেন, জাতীয় চলচ্চিত্র নীতিমালা ২০১৭ প্রণয়ন, চলচ্চিত্র সেন্সর আইন ও চলচ্চিত্র সংসদ নিবন্ধন আইন যুগোপযোগী করা হয়েছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন ২০২০ প্রণীত হয়েছে। বিদেশি টিভি চ্যানেলে দেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার রোধ করা হয়েছে। এসব আইন ও নীতিগত পদক্ষেপ চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশে ভূমিকা রাখছে। বেসরকারি টিভি চ্যানেলের ব্যাপক প্রসার ও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ আমাদের চলচ্চিত্রকে বর্তমানে সারাবিশ্বে পৌঁছে দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান এদেশের চলচ্চিত্রের ভিত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অনস্বীকার্য। সেই ভিত্তি তিনি রচনা করেছিলেন স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব প্রাদেশিক সরকারের শিল্প, বাণিজ্য ও শ্রমমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে ১৯৫৭ সালের ২৭ মার্চ প্রাদেশিক পরিষদে ইপিএফডিসি বিল উপস্থাপন করেন, যা সে বছরের ৩ এপ্রিল পাশ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলা চলচ্চিত্রের অগ্রযাত্রার একটি বড় মাইলফলক আজকের বিএফডিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। দিনটিকে স্মরণ করে আমরা প্রতি বছর ৩ এপ্রিল জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উদযাপন করি।

মুক্ত আকাশ সংস্কৃতির এই যুগে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিতে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে চলচ্চিত্র শিল্প বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে এবং আমাদের পরিচালক, শিল্পী, কলাকুশলীদের সেই সক্ষমতা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার সবসময় সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণকে উৎসাহ যোগাতে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে। অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের সংখ্যা ও অনুদানের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। জেলায় জেলায় আধুনিক সিনেমা হল নির্মাণের লক্ষ্যে তথ্য কমপে¬ক্স স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবাষির্কী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির তত্ত্বাবধানে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, প্রামাণ্য চলচ্চিত্র, ওয়েব সিরিজ এবং খন্ড ভিডিও চিত্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব চলচ্চিত্র মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতির পিতার জীবন, কর্ম ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জীবনী নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত এর যৌথ প্রযোজনায় শ্যাম বেনেগালের পরিচালনায় চলচ্চিত্র নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আমাদের চলচ্চিত্র দেশজ উপাদানে সমৃদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরবে, জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও অরাজকতা রুখতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। আমরা চাই, আমাদের চলচ্চিত্র দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও সুপরিচিত এবং সুপ্রতিষ্ঠিত হোক। তিনি ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২০’ প্রদান অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।-বাসস