ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ

3

জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার করার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের নেতাকর্মীরা। এসময় তারা মহার্ঘ্য ভাতা প্রদানসহ বেশকিছু দাবি জানান।

সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, করোনার আগে অর্থাৎ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তৈরিপোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩৮ শতাংশ। একই সঙ্গে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে আড়াই শতাংশেরও বেশি। অথচ এ সময়ে শ্রমিকের মজুরি বাড়েনি।


শুক্রবার (১৮ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বেতন বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে এসব কথা বলেন শ্রমিক নেতারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে পোশাকশ্রমিকদের বর্তমান মজুরি কাঠামো কার্যকর হয়েছে। সেই সময় গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টসহ পোশাকশ্রমিকরা ২০১৫ সালের পে-কমিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মজুরি ১৮ হাজার টাকা ঘোষণার দাবি করেছিলেন। কিন্তু শ্রমিকদের সেই দাবি পাশ কাটিয়ে মালিক প্রভাবিত মজুরি বোর্ড পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি মাত্র ৮ হাজার টাকা ঘোষণা করে। এটি শ্রমিকদের পুষ্টি এবং জীবনমান রক্ষায় প্রয়োজনের তুলনায় ছিল অপ্রতুল।

তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে চালের দাম বেড়েছে ৪৭ শতাংশ, ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ। এছাড়াও মাছ, মাংস, ডিম, সবজিসহ প্রায় প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এই সময়ে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে যথাক্রমে ৩৮, ২২ ও ২৩ শতাংশ।

এসময় নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবিতে বাম জোট ডাকা আগামী ২৮ মার্চের হরতালে সমর্থন জানান তারা। একই সঙ্গে হরতাল পালন করতে দেশবাসীকে আহ্বান জানান গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের নেতারা।


বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সহ-সভাপতি খালেকুজ্জামান লিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৌমিত্র কুমার দাস, সহ-সম্পাদক খুরশিদ আলম মিথুন, অর্থ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরিফ, নির্বাহী সদস্য রুহুল আমিন সোহাগ, আল আমিন হাওলাদার শ্রাবণ, মোহাম্মদ সোহেল, আনোয়ার খান, শুভ আচার্য প্রমুখ।