ভারত রাশিয়ার তেল কিনলে আপত্তি নেই যুক্তরাষ্ট্রের

41

টানা প্রায় ৩ সপ্তাহ ধরে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে রাশিয়া। মস্কোর এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। এছাড়া রাশিয়ার তেল কেনার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন।

তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ভারত ছাড়কৃত মূল্যে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনলে তা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করবে না। বুধবার (১৬ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে ও এনডিটিভি।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেন সাকি বলেছেন, সব দেশের কাছে আমাদের বার্তাটা স্পষ্ট। আমরা যে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছি তা মেনে চলা উচিত। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ভারত যদি ডিসকাউন্টে রাশিয়ার তেল কেনে তাহলে কি হবে? তিনি জানিয়েছেন, ‘আমার মনে হয় না, এটি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করবে।’

তবে সাকি বলেছেন, ‘এটিও চিন্তা করা দরকার, ইতিহাসের পাতায় এই সময় নিয়ে কী লেখা হবে, কোনদিকে আপনারা থাকবেন? রাশিয়ার নেতৃত্বকে সমর্থন করার অর্থ হলো তাদের আগ্রাসনকে সমর্থন করা। এই আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া ভয়ংকর হতে বাধ্য।’

এখনও পর্যন্ত রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারত কোনো পক্ষকেই সমর্থন করেনি। তারা দুই পক্ষকেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মিটিয়ে নেওয়ার কথা বলেছে। তবে জাতিসংঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দেয়নি ভারত। আবার রাশিয়ার পক্ষেও ভোট দেয়নি দেশটি। তারা ভোটদানে বিরত থেকেছে।

এখনও পর্যন্ত বাইডেন প্রশাসন ভারতের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তেল কেনার ক্ষেত্রেও তাদের কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছে। তাছাড়া পাকিস্তানে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রকেও তারা নিছক দুর্ঘটনা বলে জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়ান সৈন্যরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে ইউক্রেনে এই হামলা শুরু করে। একসঙ্গে তিন দিক দিয়ে হওয়া এই হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পড়েছে বৃষ্টির মতো।

সর্বাত্মক হামলা শুরুর পর এক সপ্তাহের মধ্যেই পূর্ব ইউরোপের এই দেশটির বহু শহর কার্যত ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন ৩০ লাখ ইউক্রেনীয়।