নড়াইলে ‘পাবলিক প্লেসে নারীর নিরাপত্তা’ নিয়ে মিডিয়ার সাথে মতবিনিময়

73

নড়াইলকণ্ঠ ॥ গতবছর থেকে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) ‘পাবলিক প্লেসে নারীর নিরাপত্তা’ বিষয়ক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করে। সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তারা এ প্রচার শুরু করে। এ উদ্যোগকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সম্পৃক্ত হয় ‘নড়াইল ভলান্টিয়ার্স’র নামে সংগঠন। সংগঠনটি নড়াইল জেলায় ‘পাবলিক প্লেসে নারীর নিরাপত্তা’ নিয়ে বিভিন্ন ক্যাম্পেইন শুরু করে ওই বছর থেকেই।

তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১২ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় চিত্রা রিসোর্ট কনফারেন্স রুমে ‘পাবলিক প্লেসে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ক্যাম্পেইন’ উপলক্ষে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক ওশান পত্রিকার সম্পাদক এ্যাডভোকেট আলমগীর সিদ্দিকী’র সভাপতিত্বে বিষয়ের ওপর আলোচনা তুলেন ধরেন ‘নড়াইল ভলান্টিয়ার্স’এর সভাপতি মো: শফিকুল ইসলাম।

এ সময় তিনি ‘পাবলিক প্লেসে নারীর নিরাপত্তা’ আরও কিভাবে জোরদার করার পরামর্শের অনুরোধ করে বলেন, পাবলিক প্লেস ও অন্যান্য জায়গায় নারী ও কন্যা শিশুদের উপর প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানি ও নানাবিধ যৌন সহিংসতা দেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে নিত্য দিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েেেছ। কোভিড-১৯ মহামারির সময়টা নারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও নানা ধরনের নিপীড়ন এবং যৌন হয়রানি বা সহিংসতার শিকার হচ্ছে। যা নারীর জীবনের সবক্ষেত্রে অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করছে । গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮.২ এবং ৩৫ নম্বর অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রীয় ও জনজীবনের সর্বক্ষেত্রে নারীদের সমান অধিকারসহ সব ধরনের চলাফেরার স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে।

এদিকে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ অনুযায়ী শ্রমবাজার ও কর্মক্ষত্রে সমান অধিকারসহ সব ধরনের জাতীয় অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্বাক্ত করা হয়েছে। তবে প্রতীয়মান যে , জনস্থানে নারী ও কণ্যা শিশুদের ওপর হয়রানি বন্ধে বিদ্যামান আইন ও নীতিমালা গলো যথেষ্ট নয়। অনলাইন প্লাটর্ফম সহ জনস্থানসমূহ নারীদের জন্য আরও নিরাপন ও স্বস্তিকর করতে পর্যাপ্ত, সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, সেন্টার ফর রির্সাস অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এর তরুণদের প্লাটফর্ম ইয়াং বাংলা, ইউনাইটেড নেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি) এর মানবাধিকার কর্মসূডঢ় (এইচআরসি) এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন জনস্থানে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে একটি সমন্বিত সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে।

পাবলিক প্লেসে নারীর নিরাপত্তা ক্যাম্পেইন সম্পর্কে বলেন, সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারসহ তরুণ সমাজ ও নাগরিকদের ধারণা, দৃষ্টিভঙ্গি ও আচারণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এর অন্যতম লক্ষ্য।

এছাড়া, এই ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য হলো নারীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে নীতিমালার সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে তা নীতিনির্ধারকদের জানানো যাতে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া যায় । যার ধারাবাহিকতায় গত এক বছর ১০ টি যুব সংগঠন ১০ টি জেলায় এ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে ।

জানাগেছে এই ক্যাম্পেইনটি যথাক্রমে ঢাকা,নারায়ণগঞ্জ ,বরিশাল, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খুলনা , নড়াইল , নাটোর এবং বগুড়া জেলায় পরিচালিত হচ্ছে ।

নড়াইল জেলায় এই ক্যাম্পেইনের কাজটি ‘নড়াইল ভলান্টিয়ার্স’ পরিচালন করছে। ইতিমধ্যে সংগঠনটি বিগত এক বছরে নড়াইল ভলান্টির্য়াসের সদস্যরা ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে বিভিন্ন অংশীজনের অংশগ্রহণে নড়াইলের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন (এফজিডি) , তরুণ সংগঠকদের নিয়ে একটি ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ওয়ার্কশপ, তিনটি স্টেকহোল্ডার মিটিং আয়োজন করেছে। এছাড়াও নড়াইলের বিভিন্ন স্থানে মাঠ পর্যায়ে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ কর্মসূচির মাধ্যমে যে বার্তা দেয়া হয়েছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখ্য, পাবলিক প্লেসে নারী ও কন্যা শিশুদের হয়রানি ও সহিংসতা বিষয়ে নিরবতা ভাঙ্গা, সময়ের সাথে সাথে আচরণে ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনা, ক্যাম্পেইনে ভূমিকা রাখতে যুব সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করা, ভুক্তভোগী ও নির্যাতনের শিকার নারীদের সহিংসতা বন্ধে কথা বলতে উৎসাহিত করা, অপরাধীদেরকে দৃঢ় ও সুনির্দিষ্ট বার্তা দেয়া এবং এই সম্পর্কিত স্টেকহোল্ডারদের প্রচলিত বিধি-বিধানের সাথে সমন্বিত করা।

এসময় মিডিয়া কর্মীরা ‘নারীর নিরাপত্তা’ জোরদার ও নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রতিটি পাবলিক পরিবহণে সিসিটিভি ক্যামেরা চালু করা, প্রাইমারী থেকে কলেজ পর্যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শরীরিক শিক্ষক দ্বারা নারী শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষার ওপর কলাকৌশল প্রশিক্ষণ চালু করা, ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘ডোর টু ডোর ক্যাম্পেইন’ চালু করা, নসিমন, করিমন, ইজিবাইক এসব ননযান পরিহবণ দ্রুত আইনের আওতায় আনা বা নিয়ন্ত্রণ আনার সুপারিশ করা হয়।