যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ শতাংশে

32

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েই চলছে। লাফিয়ে বাড়ছে নিত্য পণ্যসহ সব জিনিসের দাম। এমন পরিস্থিতিতে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত দশমিক নয় শতাংশে। যা গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পেট্রোল, খাদ্য ও বাড়িভাড়াখাতে ব্যয় গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। করোনা মহামারির পর থেকেই দেশটির মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটকে কেন্দ্র করে এ সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে।

বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশটিতে ভোক্তা মূল্যসূচক এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত দশমিক নয় শতাংশে। যা গত বছরের জানুয়ারিতে ছিল সাত দশমিক পাঁচ শতাংশে। বৃহস্পতিবার মার্কিন শ্রম বিভাগ থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে ভোলাটাইল ফুড ও এনার্জি কমপোনেন্ট ছাড়া তথাকথিত কোর মূল্য এক মাস আগের থেকে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ ও এক বছর আগের থেকে ছয় দশমিক চার শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আগের মাসের তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ছয় দশমিক ছয় শতাংশ বেড়েছে। রাশিয়ার হামলার পরই তেলের দাম বেড়ে যায়। গত মাসের শেষের সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরু করে।

চলতি মাসে পেট্রোলের খুচরা মূল্য গ্যালন প্রতি ১৯ দশমিক তিন শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এদিকে আগের মাসের তুলনায় খাদ্যের দাম বেড়েছে এক শতাংশ। যা ২০২০ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। সব মিলিয়ে দেশটির মূল্যস্ফীতি ১৯৮১ সালের পর সর্বোচ্চ হয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর কতটা প্রভাব পড়বে তা এখনো অস্পষ্ট। বাইডেন প্রশাসন রাশিয়ান তেলের ওপর এরই মধ্যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যার ফলে দেশটির জ্বালানিখাতে চাপ বাড়ছে।