এই দলটাই দাঁড়িয়ে গেলে আমরা অনেক টেস্ট জিতবো

27

বিপিএল শেষে জাতীয় ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডের পুরো বহর ব্যস্ত সময় কাটলো সাদা বলে অনুশীলন করে। রঙিন পোশাকে আফগানিস্তানের সঙ্গে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি খেলে।

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর দরজায় কড়া নাড়ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ১১ মার্চ রাতে জোহানেসবার্গের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বে জাতীয় দলের প্রথম বহর। প্রোটিয়াদের সাথে শুধু সাদা বলেই নয় ,লাল বলে টেস্ট খেলাও আছে। আগামী ৩১ মার্চ শুরু প্রথম টেস্ট।

দক্ষিণ আফ্রিকায় যে দলটি টেস্ট খেলতে যাবে, তার বড় অংশই দেশে লাল বলে অনুশীলনের সুযোগ পায়নি। ১২ মার্চ ঢাকা ছাড়ার আগে ব্যক্তিগতভাবে মাত্র ৬ জন (মুমিনুল হক, সাদমান ইসলাম, তাইজুল ইসলাম, আবু জায়েদ রাহি আর খালেদ আহমেদ) টেস্টের বলে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে পেরেছেন।

\

সেই ৬ জনের অন্যতম সদস্য হলেন টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক। বাংলাদেশ টাইগার্সের হয়ে গত ১০ দিন (২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ) বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে লাল বলে নিবিড় অনুশীলন করেছেন মুমিনুল। কেমন ছিল সেই প্র্যাকটিস? দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে লক্ষ্য কী থাকবে? প্রস্তুতি নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট? এসব নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন টেস্ট অধিনায়ক।

বগুড়ায় ১০ দিনের অনুশীলন ক্যাম্প করলেন। এই অনুশীলন ক্যাম্প কেমন হলো?
মুমিনুল: আমার তো মনে হয় বেশ ভালোই ছিল ১০ দিনের সেশনটা।

 আপনি সেখানে কী ট্রেনিং করলেন? সেখানে কোচ ছিলেন মিজানুর রহমান বাবুল, সোহেল ইসলাম, আফতাব আহমেদসহ আরও অনেকে। আপনি কার অধীনে প্র্যাকটিস করলেন?
মুমিনুল: আমার কিছু স্কিল উন্নতির দরকার ছিল। আমি স্কিল উন্নত করতে গিয়েছিলাম। এমনিতে আমি দেশে সালাউদ্দীন স্যারের পরামর্শ নেই। তার টিপসই মেনে চলি। বগুড়ায় কোচরা ছিলেন আমাদের সাহায্য করতে। তবে আমি সালাউদ্দীন স্যারের ম্যাথডই অনুসরণ করেছি।’


 বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের উইকেট কেমন ছিল?
মুমিনুল: এক কথায় যদি বলি, তাহলে বলবো ভালো উইকেট। আসলে স্পোর্টিং পিচ ছিল। আমাদের দেশের বিশেষ করে শেরে বাংলার উইকেটের তুলনায় শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের উইকেটে বোলার ও ব্যাটার দুই পক্ষের কিছু করার মত পরিবেশ ছিল। জায়গামত বল ফেলতে পারলে ভালো করা সম্ভব ছিল। আর ভাল ব্যাটিং করতে পারলে ব্যাটারদের জন্যও অনুকূল। তাই আমার মনে হয় লাল বলে ভালো প্র্যাকটিস হয়েছে।

এই প্র্যাকটিসটা দক্ষিণ আফ্রিকায় কতটা কাজে দেবে?
মুমিনুল: আসলে আপনি বাংলাদেশে বসে তো আর দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটে অনুশীলন করতে পারবেন না। সেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন কন্ডিশন। কাজেই বগুড়ার প্র্যাকটিস দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে গিয়ে কতটা কাজে দেবে, সেটা এখনই বলার সুযোগ নেই। তবে আমার মনে হয় আমরা যারা আফগানিস্তানের সঙ্গে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি সিরিজের বাইরে ছিলাম, তারা যে লাল বলে অনুশীলন করেছি সেটার একটা ইতিবাচক দিক আছে।

বিপিএল খেলার পর একটা বড় অংশ আফগানিস্তানের সাথে সাদা বলে ব্যস্ত ছিল। আর আমরা বগুড়ায় লাল বলে অনুশীলন করেছি। দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়ে লাল বলে আমাদের মানিয়ে নিতে একটু কম সময় লাগবে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজ নিয়ে আপনার চিন্তাভাবনা কী? আপনার লক্ষ্য কী?
মুমিনুল: আমি তো অন্তত এক টেস্ট জিততে চাই। তবে কঠিন সত্য হলো যে ,আমরা এখনও অমন দল হইনি যে বলেকয়ে বিদেশের মাটিতে বড় দলকে টেস্টে হারাতে পারবো। তারপরও এক কথায় আমার লক্ষ্য, এক টেস্ট জেতা।

জাগো নিউজ: বিদেশের মাটিতে টেস্ট জেতার এই আত্মবিশ্বাসটা কি নিউজিল্যান্ডের মাটিতে জয় থেকে এসেছে?
মুমিনুল : সন্দেহ নেই, ক্রিকেটারদের বিশ্বাস ও আস্থার জায়গাটা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো হয়েছে। সবার মধ্যে একটা বিশ্বাস জন্মেছে, আন্তরিক চেষ্টা থাকলে এবং প্রসেস মেনে খেলতে পারলে যে কারো সঙ্গে যে কোনো পরিবেশেই ভালো করা সম্ভব। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদের সাথে জেতার পর সবার মনে এ বিশ্বাসটা আরও দৃঢ় হয়েছে।

 প্রসেস মেনে পারফর্ম করা বলতে কি বোঝাচ্ছেন? সেটা কেমন?
মুমিনুল: প্রসেস ঠিক রাখা বলতে আমি বুঝিয়েছি হলো, বোলাররা জায়গামতো বল করবে এবং সেটা অল্প কিছু সময়ের জন্য না। দীর্ঘসময় ধৈর্য ধরে ভালো লাইন ও লেন্থ বজায় রেখে লম্বা লম্বা স্পেলে বোলিং করবে। ধৈর্য হারাবে না। উল্টো প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের ধৈর্যর পরীক্ষা নেবে।

আর আমাদের ব্যাটারদের যতটা সম্ভব ধৈর্য নিয়ে দীর্ঘ সময় উইকেটে কাটাতে হবে। তাহলে এমনিতেই ম্যাচের দৈর্ঘ্য বাড়বে। খেলা ৫ দিনে গড়াবে। হয় ড্র হবে, না হয় জিতবো কিংবা হারবো। আমার কাছে মনে হয় জয়-পরাজয়ের চেয়ে প্রসেস মেনে খেলাটা খুব দরকার।

আমরা এখনো এমন টিম হইনি যে বলে কয়ে হারাতে পারবো। তাই আমি জয় পরাজয় নিয়ে বেশি চিন্তা করি না। সেভাবে ভাবিও না। আমার চিন্তা হলো আমরা সবাই ফুল এফোর্ট দিতে পারলে একটু অ্যাডভান্টেজ অবস্থায় থাকা যায়।

তাই আমার প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হলো প্রসেস ঠিক রেখে খেলা। আমরা গত এক দেড় বছর টেস্টে যে অ্যাপ্রোচ, প্ল্যান করে খেলেছি তেমনটাই যেন খেলতে পারি।

আপনার নিজের ফর্মের অবস্থা কেমন? বগুড়ার ট্রেনিং কতটা উপভোগ করেছেন?
মুমিনুল: আমি এনজয় করেছি। আমি ভালোই আছি। আসলে আমি কখনও নিজের ফর্ম নিয়ে তেমন ভাবি না। তেমন কোনো দুশ্চিন্তা থাকেনা আমার। বিশ্বাস করুন আমি ৫টা জিরো করলেও ভাবি না ফর্ম খারাপ বা খারাপ ফর্মে আছি। আসলে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট হলো দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে সঠিক পরিকল্পনা এঁটে জায়গামত নিজেকে মেলে ধরা।

 পেসারদের ওপর কি আস্থা আগের চেয়ে বেড়েছে?
মুমিনুল: দেখুন, আমাদের তিন ফ্রন্টলাইন পেসারই বয়সে নবীন। ম্যাচও খেলেছে খুব কম। তিনজনে মিলে হয়ত ২০ টেস্টও খেলেনি। তারপরও আমাদের পেস বোলিংটা আগের চেয়ে অনেক স্টেবল। একটা লাইন তৈরি হয়েছে। এজন্যই আমি একটি টেস্ট জয়ের ব্যাপারে আশাবাদি।

দেখবেন এই লাইনআপটা দাঁড়িয়ে যাবে। যখন ৭০ থেকে ৮০ টেস্ট খেলে ফেলবে, তখন আমরা দেশে ও বাইরে আরও বেশি ভালো খেলবো। এখনকার চেয়ে আমাদের দল আরও বেশি দাপট দেখাবে। টেস্টও জিতবো বেশি করে।