নাটকীয় জয়ে ইতিহাস গড়লো ওয়েস্ট ইন্ডিজ

31

শেষ ৩ ওভারে দরকার মাত্র ৯ রান। হাতে ২ উইকেট। উইকেটে আবার দুই ব্যাটারই সেট হয়ে গেছেন। ইংল্যান্ডের দিকেই ঝুঁকে পড়েছিল জয়ের পাল্লা।

সেখান থেকে অবিশ্বাস্যভাবে জয় ছিনিয়ে নিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এক ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৭ রানে হেরে গেলো ইংল্যান্ড। নারী বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথমবার ইংলিশদের হারাতে পারলো ক্যারিবীয়রা।

ডানেডিনে টসভাগ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষেই ছিল। শেমাইন ক্যাম্পবেলের হাফসেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ২২৫ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় ক্যারিবীয়রা। জবাবে ইনিংসের ১৪ বল বাকি থাকতে ২১৮ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। দিয়েন্দ্রো ডটিন (৩১) আর হেইলে ম্যাথিউজ (৪৫) প্রথম ২০ ওভারে ৮১ রান তুলে দেন দলকে। সেখান থেকে ৫ বলের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে ক্যারিবীয়রা।

একশর আগে (৯৮ রানে) হারিয়ে ফেলেছিল ৪ উইকেট। তবে পঞ্চম উইকেটে ১২৩ রানের বড় জুটিতে দলকে লড়াকু পুঁজি এনে দেন শেমাইন ক্যাম্পবেল আর চেদিন নেশান। ক্যাম্পবেল ৬৬ রানে আউট হলেও শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন নেশান (৪৯)।

ইংল্যান্ডের সোফি একলেস্টন ২০ রানে নেন ৩টি উইকেট।

জবাবে ক্যারিবীয় বোলারদের তোপে ৯৪ রান তুলতেই ইনিংসের অর্ধেকটা খুইয়ে বসে ইংলিশরা। ওপেনার টেমি বেমন্ট লড়লেও আউট হন ৪৬ করে। এরপর ডেমি ওয়াট (৩৩) আর সোফিয়া ডাঙ্কলে (৩৮) হাল ধরেন।

কিন্তু এই যুগলও ফিরে যাওয়ার পর ১৫৬ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে হারের শঙ্কায় পড়ে ইংল্যান্ড। সেখান থেকে নয় নম্বর ব্যাটার একলেস্টন আর দশ নম্বরের কেট ক্রসের দারুণ লড়াইয়ে ফের জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকে ইংলিশরা।

কিন্তু শেষ রক্ষা আর হয়নি। ৪৮তম ওভারের প্রথম বলে একলেস্টনের শট বোলার আনিসা মোহাম্মেদের আঙুল ছুঁয়ে ভেঙে যায় ননস্ট্রাইকের স্ট্যাম্প। দুর্ভাগ্যজনক রানআউটের কবলে পড়েন ক্রস (২৭)।

দুই বল পর শেষ ব্যাটার আনিয়া স্রুবসুলেকে বোল্ড করে ক্যারিবীয়দের আনন্দে ভাসান আনিসা। ৩৩ রানে অপরাজিত থেকে হারের বেদনা নিয়েই মাঠ ছাড়েন একলেস্টন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল শামিলি কোনেল। ৩৮ রানে ৩টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি। ২টি করে উইকেট আনিসা আর ম্যাথিউসের।

দুই ম্যাচে দুটিই জিতে নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে পয়েন্ট তালিকার দুই নম্বরে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইংল্যান্ড হেরেছে টানা দুই ম্যাচ। দুই জয়ে এক নম্বরে অস্ট্রেলিয়া।