নওয়াপাড়া ইউপি সচিবের দৌরাত্ব!দোকানের মুখ বন্ধ করে প্রচীর,বন্ধ করলেন এসিল্যান্ড!

45

যশোরের নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রুহুল আমিন পিন্টুর নেতৃত্বে আইন আদালতের থুড়াই কেয়ার করে দোকান মুখ বন্ধ করে প্রাচীর তুলাকে কেন্দ্র করে সচিব ও পরিষদ সংলগ্ন কয়েক ব্যবসায়ীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এলাকার সূত্রে জানাগেছে, আদালতে মামলা চলা অবস্থায় চুক্তি ভুলুণ্ঠিত করে অদৃশ্য ক্ষমতা বলে দোকানের মুখ বন্ধ করে প্রাচীর দিয়ে ব্যবসায়ীকভাবে চরম ক্ষতি করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। নানা জাল জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে ঔ সচিবের বিরুদ্ধে। এলাকার ব্যবসায়ীরা দ্রুত এর প্রতিকার দাবি করেছেন। আদালতের মামলা, চুক্তিপত্র ও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে তথ্য মিলেছে নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বিমল রায় চৌধুরীর জীবদ্দশায় পরিষদের দক্ষিণ পূর্ব পাশের জমি ভাড়া হিসেবে শেখহাটির লিয়াকত আলী বিশ্বাসসহ কয়েকজনকে দেয়া হয়। ১০৫ নাম্বার শেখহাটি মৌজার ১০৮৩ দাগের জমির বিশেষ চুক্তিনামা করে মাসিক ভাড়া ঠিক করা হয়। ওই জমিতে দোকান ঘর করে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে মর্মে চুক্তিপত্র করা হয়। ওই জমি ও দোকানের উপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে ইউনিয়ন পরিষদের জগদ্দল পাথর সচিব রুহুল আমিন পিন্টুর। তিনি নিজের স্বার্থে বিভিন্ন সময় চেয়ারম্যানকে ভুল বুঝিয়ে ওই জমি ও দোকান থেকে ওই ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করার নীল নকশা এটে চলেন। দফায় দফায় অযৌক্তিক নোটিশ করে বিব্রত করেছেন ব্যবসায়ীদের। চুক্তিপত্র ভুলুষ্ঠিত করে যথেচ্ছা চালাচ্ছেন দোকানীদের উপর ।

এ ঘটনায় যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লিয়াকত আলী বিশ্বাস, সাবেক ইউপি সদস্য সাজেদুল হক রিপন ও ইউপি সচিব রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই মামলার কারনে নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে না পেরে ফুসে ওঠেন সচিব। শেষমেশ ব্যবসায়ীদের আর্থিক ও ব্যবসায়ীক ক্ষতি করতে দোকানগুলোর সামনে দিয়ে একটি উঁচু প্রাচীর তুলে দিয়েছেন। ওই প্রাচীরের কারণে ৪ টি দোকান ঢাকা পড়ে গেছে । ব্যবসা গুটিয়ে থমকে আছেন তারা ।

অথচ ওই প্রাচীরের কোনো প্রয়োজন নেই। ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্থানীয়দের। ব্যক্তিগত আক্রোশের জের ধরেই ওই প্রাচীর দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ আদালতে মামলা চলা অবস্থায় বিরোধীয় ওই দোকানের সামনে প্রাচীর তুলে দেয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগী লিয়াকত বিশ্বাস আবার আদালতের শরণাপন্ন হলে ভূমি বিভাগ থেকে যশোর সদর উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ওই প্রাচীর নির্মাণের উপর নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছেন।

সরকারি কোনো প্রয়োজন ছাড়া চুক্তি মোতাবেক ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করতে পারবে বলে উল্লেখ থাকলেও তা মানতে নারাজ সচিব । ওই জায়গায় সরকারি অনুমতি সাপেক্ষে বাণিজ্যিক ভবন নির্মান করা হবে ।

তাই স্থাপনা সরিয়ে জায়গা পরিষদকে বুঝিয়ে দিতে হবে এমন নোটিশ করাচ্ছেন ঘষামাজা তারিখ ও সই দিয়ে। অথচ সরকারি কোনো নির্দেশনা বা অনুমতি দেখাচ্ছেন না ভাড়াটেদের। মামলার বাদী ভুক্তভোগী লিয়াকত আলী বিশ্বাস জানিয়েছেন, বিমল রায় চৌধুরীর সময় থেকে চুক্তি বলে তারা দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। প্রতি স্কয়ার ফিট হিসেবে তারা ভাড়াও দেন । কিন্তু নীল নকশার অংশ হিসেবে তাদের ভাড়া গ্রহণ না করে তালবাহানাও করছে । ইস্যূ তৈরি করে পায়তারা করছে। ২১ বছর একই জায়গায় চাকরি করছেন রুহুল আমিন । আর নানাভাবে শোষণ করে বিশাল অর্থ বৈভবের মালিক বনে যান তিনি। এ ব্যাপারে নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর তুহিনের সাথে কথা বললে তিনি জানান , মাত্র ১২০ টাকায় ভাড়া থাকে লিয়াকত আলী। ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নের লক্ষ্যে ওই জায়গায় এখন একটি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যে কারণে তাকে উচ্ছেদ করার প্রক্রিয়া চলছে আইনগতভাবেই। এটা পরিষদের জায়গা। কাজেই পরিষদ চাইলেই ভাড়াটিয়াকে ছেড়ে দিতে হবে এটাই স্বাভাবিক । মামলা করে দিয়ে দোকান রক্ষার চেষ্টাও অনৈতিক বলে মনে করি।