প্রতিমন্ত্রীর সামনে পানির দাবিতে বস্তিবাসীর বিক্ষোভ

31

রাজধানীর মিরপুরের চলন্তিকা বস্তিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমানের সামনে খাবার পানির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। এসময় প্রতিমন্ত্রী তাদের দাবি-দাওয়া শুনে ফ্লাট করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

মঙ্গলবার (১ মার্চ) রাজধানীর মিরপুর ৭ নম্বরের চলন্তিকা বস্তিতে অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক একটি মহড়া ছিল। ‘জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস ২০২২’ উপলক্ষে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে এ মহড়ার আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। অন্যদের মধ্যে অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা, কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম বাপ্পি।

দুপুর ১২টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। এর কিছুক্ষণ পরই কলস, হাড়ি, পানির বোতল, পাতিল নিয়ে মিছিল শুরু করেন বস্তির বাসিন্দারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বস্তিতে পানির সংকট দীর্ঘদিনের। বার বার সংশ্লিষ্টদের জানিয়েও কোনো সমাধান হয়নি। পানির জন্য তাদের দূর-দূরান্তে যেতে হয়। এ বিষয়ে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান তারা।

পানির দাবিতে যখন বিক্ষোভ চলছিল, তখন অনুষ্ঠানের মঞ্চে ছিলেন মন্ত্রী। এসময় মাইকে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বস্তিবাসীরা তাদের অধিকার আদায়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে। তারা দাবি-দাওয়া পেশ করছেন।’ এরপর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস বিক্ষোভকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।

দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে বস্তিবাসীকে সচেতন করতে অগ্নিমহড়া শুরু হয়। ৩০ মিনিট পর শেষ হয় মহড়া। মহড়া শেষে ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম বাপ্পি পানির বিষয়ে কোনো দাবি না তুলে বস্তিবাসীর জন্য ফায়ার হাইড্রেন্ট চান।

বস্তিবাসীদের দাবির প্রেক্ষিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, ‘বস্তিবাসীর জন্য মিরপুরে ৫৩০টি ফ্লাট তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ৩০০ ফ্লাট হস্তান্তর করেছেন। বাকিগুলো শিগগির হস্তান্তর হবে। এছাড়া বস্তিবাসীর জন্য ১০ হাজার ফ্লাট করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ফ্লাটগুলো হয়ে গেলে বস্তিবাসীর আবাসন সংকট কমবে।’’

তিনি বলেন, ‘তারপরেও দাবি উঠেছে এ বস্তিতে ঘর করে দেওয়ার। আমাদের বাজেট আছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে চেষ্টা করবো, এখানেও সেরকম ফ্লাট তৈরি করে দেওয়া যায় কিনা। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, যেখানে দুর্ভোগে আছে মানুষে সেখানে বাড়িঘর তৈরি করে দিতে হবে। ’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক উন্নত দেশের তুলনায় আমরা ভালো দুর্যোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম। ঝড়-তুষারে মানুষ মারা গেলে তারা মরদেহ উদ্ধার করতে পারে না। সামান্য বন্যা হলে শতাধিক লোকের প্রাণহানি ঘটে। আমাদের এখানে স্বেচ্ছাসেবীরা দ্রুত দুর্যোগকবলিতদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যায়।’