খারকিভে রুশ বাহিনীর সঙ্গে চলছে তুমুল যুদ্ধ

36

ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে ঢুকে পড়েছে রুশ বাহিনী। তারা শহরের প্রতিরোধ বেষ্টনী ভেদ করেছে।

সেখানে তাদের সঙ্গে এখন ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর লড়াই চলছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণের মেলিটোপল দখল করে নেওয়ার পর এবার ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে প্রবেশ করেছে রাশিয়ান সেনাবাহিনী, বলছে সেখানকার কর্তৃপক্ষ। রাতভর মিসাইল হামলার পর রাশিয়ান বাহিনী শহরটিতে প্রবেশ করল।

শহরটিতে মিসাইল হামলায় একটি ৯ তলা আবাসিক ভবন ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছে সেখানকার জরুরি বিভাগ। ভবনটির বেজমেন্টে আশ্রয় নেওয়ার কারণে ৬০ জনের মতো বাসিন্দার প্রাণ রক্ষা হয়েছে। তবে বয়স্ক একজন নারী মারা গেছেন।

রুশ সেনাদের প্রশংসায় পুতিন
ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানো রুশ সেনাদের প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একটি ভিডিও ভাষণে বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের কার্যক্রম নিয়ে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন বলে জানায় বিবিসি।

ইউক্রেনে ‘বীরত্বের সঙ্গে সামরিক দায়িত্ব পালন’ করার জন্য বিশেষ বাহিনীর সেনাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে পুতিন বলেন, ‘আমি আপনাদের সৌভাগ্য ও সাফল্য কামনা করি’।

তিনি বলেন, ‘আমি কমান্ডকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, বিশেষ অপারেশন বাহিনীর কর্মীদের, বিশেষ বাহিনী ইউনিট সদস্যদের শপথের প্রতি আনুগত্যের জন্য, রাশিয়ার জনগণ এবং আমাদের মহান মাতৃভূমির নামে তাদের অনবদ্য সেবার জন্য’।

ভিডিও বার্তাটি পুতিন শেষ করেছেন এই বলে, ‘আমি আপনার ও আপনার প্রিয়জনদের জন্য সৌভাগ্য, সাফল্য মঙ্গল কামনা করি’।

রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেনের সেনারা। রোববার (২৭ ফেব্রুয়ারি) চতুর্থ দিনের মতো যুদ্ধ চলছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনজুড়ে চলমান যুদ্ধে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। তবে এই হতাহতের সঠিক তথ্য জানা যাচ্ছে না।

যুদ্ধে হতাহতের সংখ্যা কত?
শনিবার সন্ধ্যায় জাতিসংঘ জানায়, এখন পর্যন্ত ইউক্রেনে ৬৪ জন বেসামরিক মানুষ নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হবে। কেননা হতাহতের যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো সঠিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।

শনিবার ইউক্রেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভিক্টর লিয়াশকো জানিয়েছিলেন, চলমান যুদ্ধে ৩৩ জন শিশুসহ অন্তত ১৯৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ১ হাজার ১১৫ জন।

মার্কিন সংবাদ সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, হতাহতদের মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক উভয়ই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কি না, তা স্পষ্টভাবে বলেননি ইউক্রেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভিক্টর লিয়াশকো।

যুদ্ধে রাশিয়ার কতজন সেনা মারা গেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। তবে শনিবার ইউক্রেন সেনাবাহিনী ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে, এ পর্যন্ত হামলায় জড়িত ৩ হাজার ৫০০ রুশ সেনাকে হত্যা করা হয়েছে। বন্দি করা হয়েছে আরও ২০০ সেনা সদস্যকে। একই সঙ্গে রাশিয়ার ১৪টি যুদ্ধবিমান, ৮টি হেলিকপ্টার এবং ১০২টি ট্যাংক ধ্বংস করেছে ইউক্রেন।

ইউক্রেনের এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। অপরদিকে রাশিয়া এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য জানায়নি।

এরই মধ্যে ইউক্রেনে থাকা রুশ সেনাদের মরদেহ সরিয়ে নিতে শনিবার আন্তর্জাতিক সংস্থা রেড ক্রসকে আহ্বান জানানো হয়। টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে এই আহ্বান জানান ইউক্রেনের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ইরিনা ভেরেসচুক। তিনি বলেন, দখলদারদের হাজার হাজার মরদেহ ইউক্রেনে পড়ে আছে। মানবিক কারণে তাদের মরদেহ সরিয়ে নিতে হবে। তাই মরদেহগুলো রুশ ফেডারেশনে পৌঁছে দিতে রেড ক্রসের সহায়তা দরকার।

প্রসঙ্গত, ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সেনা অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন। এর কয়েক মিনিট পরই ইউক্রেনে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়। এরপর থেকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলছে।

এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ লাখ মানুষ ইউক্রেন ছেড়ে পালিয়েছেন। তারা পাশের তিনটি দেশে শরণার্থী হয়েছেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করতে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমরা শান্তি চাই, আমরা দেখা করতে চাই, আমরা যুদ্ধের অবসান চাই। ওয়ারশ, ব্রাতিস্লাভা, বুদাপেস্ট, ইস্তাম্বুল, বাকু—এসব জায়গায় আলোচনায় বসার জন্য আমরা রাশিয়ার কাছে প্রস্তাব করেছি’।