টিকা ৫০০, কেন্দ্রে মানুষ হাজারেরও বেশি

2

রাজধানীর মিরপুরে করোনার টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এসব টিকাকেন্দ্রে প্রবেশ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও টিকাগ্রহীতাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়েছে কর্তৃপক্ষের। আবার কেন্দ্রে মাত্র ৫০০ টিকা থাকলেও মানুষ দেখা গেছে হাজারেরও বেশি। অনেককেই টিকা না নিয়ে ফিরে যেতে হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিভিন্ন টিকাকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। টিকাপ্রত্যাশীরা বলছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না টিকা।


মিরপুর-১২ নম্বর সেকশনের ২ নম্বর কমিউনিটি সেন্টারে সকাল ৯টা থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। দুটি বুথে নারী ও পুরুষদের টিকা দেওয়া হচ্ছে আর কেন্দ্রটিতে বয়স্কদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ২ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার সাজ্জাদ হোসেন।

তিনি বলেন, পর্যাপ্ত টিকা আছে। যতক্ষণ টিকা থাকবে ততক্ষণ দেওয়া হবে। আজ শুক্রবারের কারণে মানুষ টিকা নিতে তাড়াহুড়ো করছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। কমিউনিটি সেন্টারের বাইরে টিকাগ্রহীতাদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। আবার ভেতরে ঢোকার পর নিবন্ধন কার্যক্রম করতেও সময় লাগছে, ভেতরেও ছিল লম্বা সারি।


টিকাপ্রত্যাশী আব্দুর রহিম বলেন, নানা ব্যস্ততায় টিকা নেওয়া হয়নি। শুনেছি প্রথম ডোজ বন্ধ হয়ে যাবে তাই আজ এসেছি। টিকা নিতে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ছাড়া আর কিছুই লাগছে না।

মিরপুরের নগর মাতৃসদন ও ১০ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারেও দেখা গেছে একই চিত্র। টিকাগ্রহীতার অনুপাতে পর্যাপ্ত বুথ না করায় লাইন লম্বা হয়েছে। টিকাগ্রহীতারা বলছেন, কেন্দ্রগুলোতে বুথ করা উচিত ছিল আরও বেশি। তাহলে টিকা কার্যক্রম দ্রুত হতো। তবে বেশিরভাগ কেন্দ্রেই বুথ মাত্র দুটি করা হয়েছে, এতে ভোগান্তি বেড়েছে।

কার্ডে টিকার নাম না থাকায় ক্ষোভ

টিকা কার্ডে টিকার নাম থাকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন টিকাপ্রত্যাশীরা। তারা বলছেন, কী টিকা দেওয়া হবে সেটা লিখে দেওয়ার দরকার ছিল।

মো. সজীব নামে একজন বলেন, দেখেন টিকার নাম নেই। টিকা দিলো না স্যালাইন দিলো কিছুই বুঝতে পারছি না।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিনোভ্যাক টিকা দেওয়া হচ্ছে। তাদের দুই ডোজ টিকা দেওয়ার পর যখন সনদ দেওয়া হবে সেখানে থাকবে টিকার নাম।

টিকা না পেয়ে ক্ষোভ

জুমার নামাজে আগেই টিকা শেষ হয়ে গেলে ফিরে যেতে হয় অনেককেই। টিকাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, পরিচিতজনদের দেখে দেখে টিকাকেন্দ্রে প্রবেশ করানো হয়েছে। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও মেলেনি টিকা।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিকা দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫০০টি। তবে টিকা নিতে এসেছে হাজারের বেশি মানুষ। টিকার সংখ্যা বাড়ানো গেলে এই সমস্যার সমাধান হবে।

দেশব্যাপী চলমান করোনাভাইরাসের টিকার কার্যক্রম সরকারি ছুটির দিন শুক্রবারও অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধন করা না থাকলেও কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নেওয়া যাবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সারাদেশের সব সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা এবং সব পৌরসভার মেডিকেল অফিসারদের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।