রিটে পক্ষভুক্ত ইভ্যালির ভবনমালিক, অডিটে সহযোগিতার নির্দেশ

5

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির অফিস ভবনের মালিক শেখ সালাউদ্দিনকে মামলায় পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে অডিট কমিটির যে কোনো প্রয়োজনে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। আর যখনই আদালত ডাকবেন তখনই তাকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

এছাড়া রিটকারী ফরহাদ হোসেনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে অপপ্রচার ও আপত্তিকর পোস্টের সব তথ্য নথিভুক্ত করতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকারের একক (কোম্পানি কোর্ট) বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে ভবনমালিকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামাল উল আলম, এ এস এম আবদুর রাজ্জাক। ইভ্যালির পরিচালনা পর্ষদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোর্শেদ আহমেদ খান। এছাড়া রিটকারী গ্রাহক ফরহাদ হোসেনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মাহসিব হোসেন।

আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী সৈয়দ মাহসিব হোসাইন বলেন, ধানমন্ডিতে অবস্থিত ইভ্যালির ভাড়া বাসার মালিক এ মামলার বাদী ফরহাদ হোসেনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়েছেন এবং ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছেন। আমরা আপত্তিকর পোস্টের লিঙ্ক যুক্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করি।

তিনি বলেন, আদালত আজ শুনানি নিয়ে ভবনমালিক শেখ সালাউদ্দিন আহমেদকে এ মামলায় বিবাদী হিসেবে পক্ষভুক্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাদীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার সংক্রান্ত সব তথ্য (ফেসবুক লিংক) নথিভুক্ত করতে আদেশ দিয়েছেন।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শেখ সালাউদ্দিনকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। ওই দিন নির্দেশে বলা হয়েছিল ভবন মালিক হাজির না হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করবেন। তারই ধারাবাহিতায় আজ আদালতে হাজির হন সালাউদ্দিন। হাইকোর্টে শুনানি শেষে আদালত তাকে এ মামলায় বিবাদী হিসেবে পক্ষভুক্ত করতে নির্দেশ দেন।

আইনজীবীরা জানান, তলবে হাজির হয়েছিলেন ইভ্যালির অফিস ভবনের মালিক। তাকে মামলায় পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া তাকে অডিট কমিটির যে কোনো প্রয়োজনে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। আদালত যখনই ডাকবেন, তখনই তাকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালনা (এমডি) মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নামে থাকা শেয়ারের ৫০ শতাংশ শেয়ার রাসেলের শ্বশুর-শাশুড়ি ও তার ভায়রার কাছে হস্তান্তরের অনুমতি দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ইভ্যালির ভবন মালিককে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। ইভ্যালির এমডি ও চেয়ারম্যান বর্তমানে কারাগারে থাকায় পুরো প্রক্রিয়া জেল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সম্পন্নের নির্দেশ দেন আদালত।

আইনজীবীরা জানান, তলবে হাজির হয়েছিলেন ইভ্যালির অফিস ভবনের মালিক। তাকে মামলায় পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া তাকে অডিট কমিটির যে কোনো প্রয়োজনে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। আর কোর্ট যখনই ডাকবেন তখনই তাকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

আইনজীবীরা আরও জানান, একই হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৭ ফেব্রুয়ারি একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে শেখ সালাউদ্দিনসহ ২০ জনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কেন জব্দ করা হবে না মর্মে রুল জারি করেন এবং ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তার ব্যাখ্যা চান।