কৃষক হেন্থস্থা দায়ে ডিলারশীপ বাতিলসহ দ্রুত গ্রেফতারের ২৪ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে নড়াইল জেলা কৃষক লীগ!

104

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নড়াইল পৌর এলাকার উজিরপুর গ্রামের কৃষক আলী মোহাম্মদ মন্ডল রূপগঞ্জ বাজারে সার কিনতে গিয়ে মেমো চাওয়ায় সার ডিলার হাসানুজ্জামানের তার কর্মচারী হীরামনকে হুকুম দিয়ে আলী মোহাম্মদকে ভরা বাজারের মানুষের সামনে ঘাড় ধাক্কাতে ধাক্কাতে হাসানের চেম্বারের সামনে নেয়া হয়। এ যেন বরবর যুগকে হার মানিয়েছে। শুধু ঘাড়ধাক্কা দিয়েই খ্যান্ত হয়নি, তাকে হাট-বাজারের মানুষের সামনে চোখ ও কান বরাবর কিলঘুষি মেরে আহত করা হয়।

কৃষক আলী মোহাম্মদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেন্থস্থার ঘটনাটি নড়াইল জেলা কৃষক লীগের দৃষ্টিগোচর হলেই তাৎক্ষনিক গত শুক্রবার ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রতিবাদে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ২২ ফেব্রুয়ারি’র মধ্যে ওই সার ডিলারের ডিলারশীপ বাতিলসহ হেন্থস্থাকারীকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইন আমলে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করলে ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে জেলা কৃষক লীগের নেতৃত্বে লাগাতার কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় ঘোষিত সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন কৃষক লীগের সকল ইউনিটের নেতাকর্মী ও সাধারণ কৃষক ভাইদের প্রস্তুত থাকার আহবান জানান হয়।

রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ০৮টার দিকে নড়াইল জেলা কৃষক লীগের সভাপতি মো: মাহামাবুবুর রহমানের সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে নড়াইলকণ্ঠকে তিনি এসব কথা জানান।

তিনি আরও জানান, কৃষক লীগ সব সময় কৃষকের পাশে আছে এবং শক্ত অবস্থানেই থাকবে। আমরা একটি আল্টিমেটাম দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছি। আমরা অভজারব করছি এবং প্রস্তুতি নিচ্ছি। কৃষকের গায় হাত এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

এদিকে কৃষকের গায়ে দেয়ার বিষয়টি বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়লে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ, প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারী গোয়েন্দা সংস্থা, সরকারি ও রাজনৈতিক উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি গোচর হয়।

কৃষক আলী মোহাম্মদের বিরুদ্ধে সার ডিলার হাসানুজ্জামানের অভিযোগ ছিলো সে প্রকৃত কৃষক না, সে সার টানে, বাজারে বিক্রি করে।

বিষয়টি তদন্তের জন্য গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলা কৃষি অফিসার জাহিদুল ইসলাম ভিক্টিম কৃষক আলী মোহাম্মদকে ফোন দিয়ে সদরে কৃষি অফিসে আসার জন্য বলেন। আলী মোহাম্মদ হাসানের সাহেবের মার খেয়ে ভয়ে আর সে শহরে আসতে রাজি হয়নি। পরে সদরের কৃষি অফিসার ওই কৃষককে পুনরায় ফোন করে জানান ১৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় আমিসহ ইউএনও আপনার ওখানে আসছি। কৃষক আলী সকাল ১০টা থেকে অপেক্ষায় আছেন ইউএনও, কৃষি অফিসার কখন আসেন, অপেক্ষার পোহর গুণতে গুণতে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট বাজে ঠিক তখন কৃষি অফিসার ওই কৃষককে ফোন দেন। ফোন দিয়ে বলেন আপনি নড়াইলে চলে আসেনেআমরা বসে আছি (ফোন আলাপ ভিডিও সংরক্ষণ আছে) । যখন কৃষক নড়াইলে যেতে রাজি হয়নি তখন বেলা প্রায় ১২:১৫ মিনিটের দিকে ঘটনার তদন্তের জন্য সদরের ইউএনও সাদিয়া ইসলাম, সদর থানার ওসি এবং সদরের কৃষি অফিসার উজিরপুর বাজারে আসেন। এ সময় ফাঁকা কাগজে উপস্থিত কিছু লোকের স্বাক্ষর নেয়া হয় এবং গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে রূপগঞ্জ সরকারী খাদ্যগুদামের সামনে হাসানুজ্জামানের সারের দোকানে ও তার হাসান সাহেবের চেম্বারের সামনে কৃষক আলী মোহাম্মদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলির বিবরণ তুলে ধরা হয়। কৃষকের পুরা বক্তব্য ভিডিও ধারণ করা হয়। এসময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,আলী মোহাম্মদ ধান চাষ করেন , সে কৃষক, তার জমি-জমা নেই-অভিযোগটি সার ব্যবসায়ী হাসানুজ্জামানের। অথচ তদন্তে আসা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কৃষক আলী মোহাম্মদ ধান চাষ করেন কিনা তা না দেখেই চলে গেলেন।