রীতিমতো ‘স্টার’ পুতিনের সেই টেবিল

28

রীতিমতো ‘স্টার’ বনে গেছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সেই বিশাল টেবিল। ইউক্রেন ইস্যুতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ওই টেবিলে বসেই ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠক সেরেছিলেন পুতিন। তারপর থেকেই আলোচনায় উঠে আসে বিশাল আকারের ওই ওভাল টেবিল। এর মধ্যেই একটি ইতালির ওএকে ফার্নিচার দাবি করেছে যে, তারাই ওই টেবিলটি তৈরি করেছে এবং তাদের আশা এই টেবিলটি শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে। খবর এএফপির।

উত্তরাঞ্চলীয় ইতালির কান্তুতে অবস্থিত ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় থেকে ওএকে ফার্নিচারের প্রধান রেনাটো পোলোঙ্গা বলেন, টেবিলে বসে মানুষ খাবার গ্রহণ করে আবার সেখানেই যুদ্ধের পরিকল্পনা করে।


তিনি বলেন, আমার আশা এই টেবিল সৌভাগ্য বয়ে এনেছে এবং এটি সংঘর্ষ শুরু হতে দেবে না। ৬ মিটার (২০ ফুট) দীর্ঘ ওই টেবিলে স্বর্ণ দিয়ে কারুকাজ করা হয়েছে। গত ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং পরবর্তীতে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ স্কলজের সঙ্গে পুতিনের বৈঠকের জন্যই এই টেবিলটি স্থাপণ করা হয়।

মূলত করোনাভাইরাস মহামারিতে স্বাস্থ্যবিধির অংশ হিসেবে রুশ নেতার সঙ্গে তার অতিথিদের দূরত্ব বজায় রাখতেই এমন টেবিল বাছাই করা হয়েছে। তবে এজন্য সমালোচনা এবং উপহাসের পাত্র হয়েছেন পুতিন। অনেকেই এই বিশাল টেবিলের দুই প্রান্তে দুই নেতার বৈঠকের ছবি ভালোভাবে নেননি।

এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে ওই টেবিল নিয়ে বেশ কিছু মিমও ছড়িয়ে পড়েছে। ওই টেবিলে খেলার মাঠ, ইতালীয় চিত্রশিল্পী লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির আঁকা বিখ্যাত চিত্রকর্ম দ্য লাস্ট সাপার জুড়ে দিয়ে মিম বানানো হয়েছে।


ক্রেমলিনের কাছ থেকে অর্ডার পেয়ে ১৯৯৫ সালে ওই টেবিলটি তৈরি করে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। রেনাটো পোলোঙ্গা বলেন, এটি আমাদের তৈরি ‘বিশেষ একটি টেবিল’। ওই টেবিলসহ আরও কিছু জিনিস রাশিয়ার কাছ থেকে অর্ডার পাওয়ার বিষয়টিকে তিনি তার প্রতিষ্ঠানের বড় ব্যবসায়িক সাফল্য বলে উল্লেখ করেছেন।

এর খরচ কত পড়েছে? এর উত্তরে পোলোঙ্গা বলেন, সে সময় লিরার মাধ্যমে এই টেবিলের অর্থ পরিশোধ করা হয়েছিল। তখন ইতালির মুদ্রা ছিল লিরা, কিন্তু বর্তমানে দেশটির মুদ্রা ইউরো। এখনকার বাজারে এ ধরনের টেবিলের দাম পড়বে প্রায় এক লাখ ইউরো (এক লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ ডলার)। তিনি জানান, সে সময় রাশিয়ার কাছ থেকে যে অর্ডার তারা পেয়েছিলেন তা এখনকার সময়ের ২ কোটি ইউরোর বেশি হবে।

এদিকে শুধু পোলোঙ্গার প্রতিষ্ঠানই এমন দাবি করেছে তা নয়। স্পেনের অবসরপ্রাপ্ত আসবাবপত্র নির্মাতা ভিসেন্তে জারাজোজা বলেন, ২০০৫ সালে এই টেবিল ক্রেমলিনে পাঠিয়েছিলেন তিনি। তার দাবি, টেলিভিশনের ফুটেজ দেখেই তিনি ওই টেবিল শনাক্ত করেছেন।