৯টি দেশের ১৩টি ভাষার সিনেমায় অভিনয় করেছি: অঞ্জনা

26

ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী অঞ্জনা। তার অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন ১৯৭৬ সালে। বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘সেতু’ চলচ্চিত্র দিয়ে। কিন্তু তার মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিটি ছিলো ‘দস্যু বনহুর’।

অঞ্জনা বাংলা সিনেমা ছাড়া আরও ৯টি দেশের ১৩টি ভাষার সিনেমায় অভিনয় করেছেন। আজ শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তার ফেসুবকে দুটি ছবি ও একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে এমনটাই দাবি করলেন।

তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের আমি অঞ্জনা একমাত্র চিত্রনায়িকা যে বিশ্বের ৯টি দেশের ১৩টি ভাষায় মানে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, ইরাক, নেপাল, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড ও হংকং এর ৯টি ভাষা এবং পাকিস্তানের আরও ৩টি ভাষা উর্দু, পাঞ্জবী, পস্তুুতে অভিনয় করেছি।’

অঞ্জনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পরিচালক ও কলাকুশলীদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে লিখেছেন, ‘আমাদের দেশের অনেকে নায়িকাই ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের ছবিতে অভিনয় করেছেন। কিন্তু আমি এগুলো ছাড়াও শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, হংকংসহ তুরস্ক ও ইরাকের সিনেমায় অভিনয় করেছি যা কিনা আর কারও পক্ষে সম্ভব হয়নি। এবং আমি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করি যে দেশের বাইরের চলচ্চিত্রগুলোতেও তারা আমাকে সবসময় প্রধান চরিত্রে সিলেকশন করেছেন।

প্রতিটি ছবির পোস্টারেও আমাকে সেইভাবে যথেষ্ট সর্বচ্চ মূল্যায়নের সহিত রাখা হতো। আমি চির কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সে সকল স্বনামধন্য প্রযোজক, পরিচালক ও কলাকুশলীদের প্রতি।’

নায়িকা অঞ্জনার প্রথম সিনেমা ‘দস্যু বনহুর’ সুপারহিট হয়েছিল। এরপর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিন শতাধিক ছায়াছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, আন্তর্জাতিক পুরস্কার, একাধিকবার জাতীয় স্বর্ণপদক, বাচসাস পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার।

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য কিছু সিনেমা হলো মাটির মায়া (খান আতাউর রহমান), অশিক্ষিত (আজিজুর রহমান), চোখের মণি ও সুখের সংসার (নারায়ণ ঘোষ মিতা), জিঞ্জির, অংশীদার ও আনারকলি (দিলীপ বিশ্বাস), বিচারপতি (গাজী মাজহারুল আনোয়ার), আলাদীন আলীবাবা সিন্দাবাদ (শফি বিক্রমপুরী), অভিযান (নায়করাজ রাজ্জাক), মহান ও রাজার রাজা (আলমগীর কুমকুম), বিস্ফোরণ (এফ আই মানিক), ফুলেশ্বরী (আজিজুর রহমান), রাম রহিম জন (সত্য সাহা), নাগিনা (মতিউর রহমান বাদল), পরীণিতা (আলমগীর কবির) প্রভৃতি।

একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবেও অঞ্জনা পেয়েছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক স্বীকৃতি।